ইরানের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য দায়ী আমেরিকা, প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই উঠে এসেছে। মার্কিন আধিকারিক সূত্রে ‘নিউ ইয়র্ক টাইম্স’ জানাচ্ছে, প্রাথমিক তদন্তে প্রকাশ ইরানের ওই স্কুলে প্রাণঘাতী টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল মার্কিন বাহিনীই।
আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ ভাবে ইরানে হামলার প্রথম দিনেই এই ঘটনাটি ঘটে। ইরানের মিনাবে শাজ়ারা তায়েব প্রাথমিক স্কুলে গিয়ে পড়ে ক্ষেপণাস্ত্র। ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৫০ জনেরও বেশি নিহত হয়। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ওই প্রাথমিক স্কুলের ছাত্রী। প্রাথমিক ভাবে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও, দুই দেশের কেউই এর দায় স্বীকার করেনি। পরে জানা যায়, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়েছিল ওই স্কুলে। বস্তুত, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করে আমেরিকা। বিশ্বের আরও কিছু দেশের হাতেই এই ক্ষেপণাস্ত্র থাকলেও ইজ়রায়েলের কাছে তা নেই।
বর্তমানে আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতর এই হামলার তদন্ত চালাচ্ছে। আধিকারিক সূত্রে ‘নিউ ইয়র্ক টাইম্স’ জানাচ্ছে, ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য দায়ী আমেরিকা। প্রাথমিক অনুসন্ধানে এমনটাই উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, ‘ভুল’ করেই ওই স্কুলে হামলা করেছিল মার্কিন বাহিনী। ওই স্কুল লাগোয়া এক ইরানি ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছিল আমেরিকা। দাবি করা হচ্ছে, যেখানে স্কুল ভবনটি রয়েছে, সেটিও আগে ইরানের সেনাঘাঁটিরই অংশ ছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া সেই পুরনো তথ্যের উপর ভিত্তি করেই নিশানা স্থির করেছিলেন আমেরিকার সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের আধিকারিকেরা।
আরও পড়ুন:
যদিও ওয়াকিবহাল ওই সরকারি সূত্রের দাবি, এগুলি একেবারেই প্রাথমিক তথ্য। পুরনো তথ্য কেন দু’বার যাচাই করে নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্নেরও এখনও পর্যন্ত কোনও উত্তর মেলেনি বলে জানাচ্ছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই আধিকারিকেরা। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের পাশাপাশি বেশ কিছু নিরপেক্ষ সংস্থাও নিজেদের মতো করে ইরানের স্কুলে হামলার তদন্ত করছে। তেমন এক সংস্থা ‘বেলিংক্যাট’। তারাও প্রাথমিক ভাবে দাবি করছে, হামলার জন্য আমেরিকাই দায়ী।
আমেরিকার হাতে থাকা টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের স্কুলে আছড়ে পড়ার তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অস্বস্তি বৃদ্ধি পেয়েছে মার্কিন প্রশাসনের। ট্রাম্পকেও এ বিষয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। যদিও তাঁর দাবি, কী হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে তিনি এ-ও স্মরণ করিয়ে দেন যে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র শুধু আমেরিকার কাছে নেই। অন্য কিছু দেশের হাতেও এটি আছে বলে দাবি ট্রাম্পের। যদিও পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘর্ষে জড়িত দেশগুলির মধ্যে একমাত্র আমেরিকাই এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
২৩:২৯
ইরানের প্রস্তাব মানতে রাজি নন ট্রাম্প! বললেন, ‘সন্তুষ্ট নই’, দ্বিতীয় দফার শান্তিবৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ল -
এ বার থেকে ‘ট্রাম্প প্রণালী’! হরমুজ় প্রণালীর নামটাই বদলে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, সংশোধিত মানচিত্র প্রকাশ
-
পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ় প্রণালী সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব তেহরানের, বললেন মোজতবা খামেনেই
-
‘ঝড় আসছে, যা আসছে কেউ ঠেকাতে পারবে না’! নিজের এআই ছবি দিয়ে ‘রহস্যময়’ বার্তা দিলেন ট্রাম্প
-
ইরান যদি সমঝোতায় রাজি না হয়, পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে আমেরিকার? জানিয়ে দিলেন মার্কিন বিদেশসচিব রুবিয়ো