Advertisement
E-Paper

ওভারলোডিং বন্ধ হোক, বলছেন লরি মালিকেরাই

ওভারলোডিং নিয়ে হুগলিতে মুখ্যমন্ত্রী সরব হয়েছিলেন আগের দিনই। শুক্রবার মুর্শিদাবাদে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারের কাছে কড়া হাতে ওভারলোডিং বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানালেন খোদ লরি মালিকেরাই।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০১৬ ০১:৩৭

ওভারলোডিং নিয়ে হুগলিতে মুখ্যমন্ত্রী সরব হয়েছিলেন আগের দিনই। শুক্রবার মুর্শিদাবাদে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারের কাছে কড়া হাতে ওভারলোডিং বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানালেন খোদ লরি মালিকেরাই।

ওই লরি মালিকদের অভিযোগ, ওভারলোডিং হয়েছে এই অভিযোগ তুলে ধুলিয়ান থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত অন্তত ৩০টি জায়গায় তোলাবাজি চালাচ্ছে পুলিশ ও তাদের আশ্রিত লোকজন। তারই প্রতিবাদে ঝাড়খণ্ড থেকে রাজ্যে পাথর ও বালি আনা বন্ধ করে দিয়েছেন লরি মালিকেরা। গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ঝাড়খণ্ড ও রাজ্যের আটটি লরি মালিক সংগঠন যৌথ সংগ্রাম কমিটি গড়ে শুরু করেছেন এই লরি পরিবহণ ধর্মঘট।

শুক্রবার ধুলিয়ানে লরি পরিবহণ সুরক্ষা সমিতির তরফে সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যত দিন না রাজ্য সরকার এ ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ করছে, এ রাজ্যে ঢুকবে না পাথর ও বালি বোঝাই লরি। ফলে পুজোর মুখে অনেক জায়গাতেই পাথর ও বালির জোগানে টান পড়তে শুরু করেছে। বাড়ছে দামও।

Advertisement

সংগঠনের সভাপতি, ঝাড়খণ্ডের আকবর আলির দাবি, “তিন দিন আগে আমি কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে ওভারলোডিং নিয়ে পুলিশ ও পরিবহণ দফতর কী তোলাবাজি চালাচ্ছে, তা জানিয়ে এসেছি। তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন। মালদহ-সহ বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপার এবং ওসিদের জানানো হয়েছে, কোন কোন নির্দিষ্ট জায়গায় কী ভাবে তোলাবাজি চলছে।”

তবে আকবর আলি এ-ও মেনে নেন যে, ওভারলোডিংয়ের ফলেই রাস্তার অবস্থা বেহাল হচ্ছে। যে চার সড়ক ধরে ঝাড়খণ্ড থেকে পাথর ও বালি এ রাজ্যে ঢোকে সে রাস্তা এতটাই বেহাল যে লরি চালিয়ে আর লাভের মুখ দেখা যাচ্ছে না। ‘‘তাই লরি না চালানোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি আমরা”— বলেন আকবর।

লরি মালিক সংগঠনের যৌথ কমিটির সম্পাদক, ফরাক্কার দিলীপ সাহা বলেন, “১২ চাকার লরির ক্ষেত্রে মাল-সহ মোট ৩১ টন ও ১০ চাকার লরির ক্ষেত্রে ২৫ টনের আইনি ছাড়পত্র রয়েছে। এত দিন বহু ক্ষেত্রেই লরিতে সেই ছাড়পত্রের চেয়েও বেশি মাল বহন করা হত। আবার বহু লরি মালিক নিয়ম মেনে গাড়ি চালাতেন।’’ তাঁর অভিযোগ, ওভারলোডিংয়ের অজুহাত দেখিয়ে পুলিশ সব লরি থেকেই ঢালাও তোলা আদায় করছে। যে তোলা দিতে অস্বীকার করছে, তার গাড়ি নানা কারণ দেখিয়ে তিন-চার দিন ধরে থানায় আটকে রাখা হচ্ছে। বিশাল টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে মালিকদের। দিলীপ বলেন, ‘‘আমরা রাজ্য সরকারের কাছে দাবি করেছি, ওভারলোডিংয়ের বিধি-নিষেধ সঠিক ভাবে প্রয়োগ করতে হবে। আর তার জন্যই পাথর ও বালি পরিবহণে ধর্মঘট শুরু হয়েছে।”

ঝাড়খণ্ড থেকে মুর্শিদাবাদে পাথর ঢোকে মূলত চারটি সড়ক ধরে। সুতির বহুতালি কেবি সড়ক, পাকুড়–ধুলিয়ান সড়ক, বারহারোয়া-কেন্দুয়া ও বারহারোয়া–বেওয়া হয়ে ফরাক্কা সড়ক ধরে। ফরাক্কা হয়ে তা যায় মালদহ ও উত্তরবঙ্গে। ঝাড়খণ্ড এবং এ রাজ্যের প্রায় চার হাজার পাথর ও বালি বোঝাই লরি চলে ওই চার রুটে।

লরি মালিক, ঝাড়খণ্ডের পাকুড়ের শেখ সামসুজ্জোহা বলেন, “পাথর লোডিং হয় মূলত বারহারোয়া আর পাকুড়ে। দু’টি লোডিং পয়েন্টেই মাল বোঝাই বন্ধ হয়ে গিয়েছে ধর্মঘটের কারণে। একটি লরিকে পাথর ও বালি নিয়ে যেতে ৩০টি জায়গায় তোলা দিতে হয়। কোথাও ৫০০, কোথাও বা ১২০০ টাকা। ফলে ঝাড়খণ্ড থেকে পাথর এনে কোনও লাভ হচ্ছে না।”

লরি মালিক নাজমে আলম জানান, এক দিন লরি না চললে তার আর্থিক দায় বিশাল। বহু লরির ব্যাঙ্কের কিস্তি মেটাতে হয়। এর উপর চালক ও খালাসির বেতন, রোড ট্যাক্স, বিমার টাকা। তাই পুজোর মুখে ক্ষতি হবে জেনেও তাঁরা ধর্মঘটের পথে পা বাড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা চাই পরিবহণ দফতর ওভারলোডিং নিয়ে নজরদারি করতে চেকপোস্ট বসাক। যারা ওভারলোডিং করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু ওভারলোডিংয়ের অজুহাত তুলে পুলিশের তোলাবাজি বন্ধ করতে সক্রিয় হোক রাজ্য সরকার।”

lorry owner mamata banerjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy