এক দশক আগে রাজ্যে পালাবদল ঘটলে চৌত্রিশ বছরের বাম জমানার অবসান হয়েছিল। সেই সময় রাজ্যে প্রবল ‘পরিবর্তনের হাওয়া’র মধ্যেও ডোমকলে বামদুর্গ অটুট ছিল। স্রোতের উল্টো দিকে হেঁটে মানুষ বাম প্রার্থীদেরই জিতিয়ে ছিলেন সেখানে।
তবে শুধু সেবারই নয়, গত বিধানসভা ভোটেও তৃণমূল ডোমকল মহকুমার তিনটি বিধানসভা আসন দখলের মরিয়া চেষ্টা করেছিল। সেবার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডোমকল ও জলঙ্গিতে একাধিক প্রচার-সভা করেন। কিন্তু তারপরও ডোমকলের মানুষ উপুড়হস্ত হয়ে ‘আশীর্বাদ’, ‘দোয়া’ করেছিলেন বাম প্রার্থীদের। মহকুমার তিনটি আসনেই জিতেছিলেন বিরোধীরা। কিন্তু এবার সেই বামদুর্গে ভাঙন ধরেছে। তিনটি বিধানসভা আসনেই বড় ব্যবধানে জিতেছেন তৃণমূলের প্রার্থীরা। যেহেতু রাজ্যের ক্ষমতাশালী দলই সেখানে জয়ী হয়েছে তাই ডোমকলের সাধারণ মানুষের আশা, এবার হয় তো তাঁদের এলাকায় আরও উন্নয়ন হবে। বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এতদিন বিরোধী দলের বিধায়ক থাকায় কোনও কোনও ক্ষেত্রে তাঁদের ‘বঞ্চনার শিকার’ হতে হয়েছে। এবার সেই ধারা বদলাবে। উন্নয়নেও
গতি আসবে।
মুর্শিদাবাদের পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলির মধ্যে ডোমকল অন্যতম। বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, সেখানে পরিবহণ ব্যবস্থা উন্নত নয়। রেল পরিষেবার সুবিধাও নেই। তেমন বড় শিল্পকেন্দ্রও গড়ে ওঠেনি। ফলে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়েই আছেন ডোমকলের মানুষ। শিক্ষার অগ্রগতির হারও উল্লেখযোগ্য নয়। এক সময় অপরাধমূলক কাজকর্ম, খুনখারাপি লেগেই থাকত ডোমকলে। তবে সেই দুর্নাম এখনও মুছে ফেলতে পারলেও সার্বিক উন্নয়ন এখনও বাকি ডোমকলে। কিন্তু এবার অগ্রগতি চান ডোমকলের বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম মণ্ডল বলেন, ‘‘এক দশক ধরে উন্নয়নে নানা বাধা এসেছে আমাদের এলাকায়। এবার আশা করি উন্নয়ন গতি পাবে।’’ ডোমকলের তৃণমূল বিধায়ক জাফিকুল ইসলামের দাবি, ‘‘গতি ইতিমধ্যেই আসতে শুরু করেছে। আমরা বাসিন্দাদের কথা দিয়েছিলাম, বক্সিপুর ঘাটে অসম্পূর্ণ সেতু তৈরি হবে। সেই লক্ষ্যে এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছি আমরা। করিমপুরের বিধায়ককে নিয়ে ইতিমধ্যেই আমরা নেমে পড়েছি। শীঘ্রই দু’টি এলাকার জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কর্তাদের মধ্যে সেতু নিয়ে বৈঠক হবে।’’ একই সুরে রানিনগরের বিধায়ক সৌমিক হোসেন বলেন, ‘‘আমার বিধানসভা এলাকায় দু’টি গ্রামীণ হাসপাতাল পরিদর্শনের কাজ শেষ। সরকারের বিভিন্ন দফতরে উন্নয়নের দাবি তুলব আমরা।’’ জলঙ্গির বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল বলেন, ‘‘জলঙ্গির উন্নয়নে এবার ঝড়ের গতি আসবে।’’ কতদ্রুত উন্নয়নের কাজ শুরু হয়, তা দেখার অপেক্ষায় বাসিন্দারা।