আগামী বছরেই বিধানসভা ভোট। তার দিকে তাকিয়ে পাঁচ দিনে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দের পাঁচটি রাস্তার শিলান্যাস করল তৃণমূল।
লোকসভা ভোটে বিধানসভায় হার আগামী বছরের ভোটে এড়াতে উন্নয়নের গতি বাড়াতে চাইছে তৃণমূল। তাই শমসেরগঞ্জে বছরখানেক আগে থেকে মাঠে নেমে পড়ল তারা। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল শমসেরগঞ্জ কেন্দ্রে ২৬ হাজার ভোটে জিতেছিল। তবে গত লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভায় ১৪ হাজার ভোটে পিছিয়ে পড়ে তারা। ‘ফাঁক’ পূরণে উঠেপড়ে লেগেছে শমসেরগঞ্জের তৃণমূল। ৬টি বড় রাস্তায় ১৪ কোটি টাকার কাজের শিলান্যাস করেন তৃণমূল বিধায়ক আমিরুল ইসলাম। দলে তাঁর ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ বলে পরিচিত জেলা পরিষদ সদস্য আনারুল হক বিপ্লবও তিনপাকুড়িয়া অঞ্চলে এক কিমি রাস্তার গত বৃহস্পতিবার শিলান্যাস করেন। রাস্তাটি তৈরি করছে
জেলা পরিষদ।
শমসেরগঞ্জে ২৪৩ ভাঙন দুর্গতকে পাট্টার জমি দেওয়া, আর্থিক সাহায্য ছাড়াও দুর্গত ৫২৫টি পরিবারকে আবাস প্রকল্পে ঘর পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বার রাস্তা সারাইয়ের প্রকল্প হাতে নিয়েছেন তৃণমূল নেতারা।
গত শুক্রবার শমসেরগঞ্জের চাঁদপুর অন্তর্দীপা পাওয়ার হাউস থেকে মহব্বতপুর, হাঁসুপুর হয়ে বাহাগলপুর পর্যন্ত ১৪.৭৪ কিলোমিটার রাস্তার শিলান্যাস করেন আমিরুল। প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে এই রাস্তা সংস্কারে। বিরোধীরা যদিও একে নির্বাচনী প্রচার বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ গ্রামীণ উন্নয়ন পর্ষদের এই রাস্তা তৈরির উদ্যোগ আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই। শনিবার শিলান্যাস করা হয়েছে অন্তর্দীপা থেকে আরাজি ন’-পাড়া পর্যন্ত ৬ কিমি ঢালাই রাস্তার। ওই রাস্তা তৈরিতে খরচ ধরা হয়েছে ২ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা। রবিবার শিলান্যাস হয় সীতারামপুর শান্তিপুর থেকে শাখারঘাট হয়ে ন’পাড়া ঝাড়খণ্ড সীমানা পর্যন্ত পাঁচ কিমি রাস্তার। এই ঢালাই রাস্তার নির্মাণে বরাদ্দ হয়েছে ২ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা। আজ, সোমবার শিলান্যাস হওয়ার কথা পুটিমারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ইসলামপুর হয়ে ঝাড়খণ্ড সীমানা পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার ঢালাই রাস্তা। খরচ হবে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। আগামী বুধবার শিলান্যাস হওয়ার কথা অন্তর্দীপা প্রধান সড়ক থেকে ফিডার ক্যানালের ২ কিলোমিটার ঢালাই রাস্তার। এর জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১ কোটি ১৩
লক্ষ টাকা।
আমিরুল বলেন, “ঘনশ্যামপুর থেকে কাঁকুরিয়া হয়ে জয়কৃষপুর পর্যন্ত ৬ কিলোমিটারের রাস্তাটিও টেন্ডার ডাকা হয়েছে। শিলান্যাসের দিনক্ষণ স্থির হয়নি। শমসেরগঞ্জে বিভিন্ন রাস্তায় ইতিমধ্যেই ৪০০টি উঁচু বাতিস্তম্ভ বসানো হয়েছে। মার্চ মাসে আরও ৫০টি আলো বসবে।’’ তিনি জানান, ইতিমধ্যে পুটিমারিতে প্রায় ৪০ বছর ধরে পরিত্যক্ত হয়ে থাকা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির অন্তর্বিভাগ চালু করা হয়েছে। পরিষেবা বজায় রাখতে সেখানে তিন জন চিকিৎসককে পাঠানো হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)