Advertisement
E-Paper

টাকা খরচের হিসেব দেব জনগণকে, পাল্টা অধীরের

কথার পিঠে কথা বাড়ে। মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক ইয়েচুরি রত্নাকর রাওয়ের তোলা অভিযোগের জবাব দিলেন বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০১৬ ০১:৪৮
কৃষ্ণনগরের সভায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।—নিজস্ব চিত্র

কৃষ্ণনগরের সভায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।—নিজস্ব চিত্র

কথার পিঠে কথা বাড়ে। মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক ইয়েচুরি রত্নাকর রাওয়ের তোলা অভিযোগের জবাব দিলেন বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী।

‘জেলা ভিজিল্যান্স ও মনিটরিং কমিটি’র বৈঠকে তিনি অফিসারদের গালমন্দ করেন বলে যে অভিযোগ জেলাশাসক তুলেছিলেন তা উড়িয়ে দিয়ে বৃহস্পতিবার অধীর বলেন, ‘‘ডিসেম্বরের বৈঠকে জেলাশাসক না আসায় এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক ভুলভাল ভাবে বৈঠক পরিচালনা করায় উত্তেজিত হয়ে জোরে কথা বলেছি। কাউকে গালমন্দ করিনি।’’

নিয়ম অনুসারে ওই কমিটিতে তফসিলি জাতি-জনজাতি, মহিলা ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার এক জন মিলিয়ে মোট তিন জন প্রতিনিধি নিয়োগ করার কথা। নিয়োগে করেন কমিটির চেয়ারম্যান। অধীর এক বছরেও নাম পাঠাননি বলে বুধবার জেলাশাসক অভিযোগ করেছিলেন। তা অস্বীকার করে অধীর দাবি করেন, ‘‘চিঠি পাওয়ার ৩ ঘণ্টার মধ্যে আমি তিন প্রতিনিধির নাম পাঠিয়েছি।’’ একশো দিনের কাজে জেলার পিছিয়ে পড়া নিয়ে সাংসদ যে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তার উত্তর জেলা পরিষদের সভাধিপতির কাছে চাইতে পরামর্শ দিয়েছিলেন জেলাশাসক।

কংগ্রেসের দখলে থাকা জেলা পরিষদের সভাধিপতি শিলাদিত্য হালদার পাল্টা বলেন, ‘‘গ্রামোন্নয়ন বিষয়ে জেলাশাসককে একাধিক চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও তিনি উত্তর দেননি। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে তিনি আমলাদের নিয়ে কাজ করতে চান। অনুরোধ সত্ত্বেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কোনও বৈঠক করেননি। বন্যা মোকাবিলায় জেলা পরিষদকে সহযোগিতা করেননি। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে জানিয়েছি। রাজ্যপালকেও স্মারকলিপি দিয়েছি।’’

উন্নয়ন সংক্রান্ত কাজের তদারকির জন্য কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর থেকে গড়া হয় ‘জেলা ভিজিল্যান্স ও মনিটরিং কমিটি’। সেই উন্নয়ন নিয়েই জেলার তিন সাংসদের কাজের তুলনা টেনে কটাক্ষ করেছিলেন জেলাশাসক। প্রকল্প ও অর্থ ব্যয়ের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, ষোড়শ লোকসভা আমলে এখনও পর্যন্ত জঙ্গিপুরের জন্য ৮২টি প্রকল্প ও মুর্শিদাবাদের জন্য ৩৪টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র এলাকায় অনুমোদিত প্রকল্পের সংখ্যা মোটে ১৫টি।

সাংসদ তহবিল থেকে এলাকা উন্নয়ন খাতে খরচেও অধীর চৌধুরী অনেক পিছিয়ে রয়েছেন দাবি করে জেলাশাসক যা হিসেব দিয়েছিলেন, তাতে এখনও পর্যন্ত জঙ্গিপুর কেন্দ্রের সাংসদ তহবিল থেকে খরচ হয়েছে ২ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা। মুর্শিদাবাদের সাংসদ তহবিল থেকে খরচ হয়েছে ২ কোটি সাড়ে ২৬ লক্ষ টাকা। সেখানে বহরমপুরের সাংসদ তহবিল থেকে খরচ হয়েছে মাত্র ১ কোটি সাড়ে ৮৩ লক্ষ টাকা।

তাঁর এলাকায় প্রকল্প অনুমোদন (‌ভেটিং) করতে জেলাশাসক গড়িমসি করেছেন বলে অভিযোগ তুলে অধীর পাল্টা বলেন, ‘‘আমি জবাব দেব জনগনকে। জেলাশাসককে নয়। ওই টাকা খরচের মেয়াদ পাঁচ বছর। সব টাকা খরচ করতে না পারলেও বাকি টাকা ফেরত যাবে না। সেই টাকা পরে খরচ করা হবে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy