Advertisement
E-Paper

নিত্য যানজটে নাকাল রঘুনাথগঞ্জ, পুরসভা দায়ী করছে পুলিশকেই

এক অটোতে রক্ষা নেই, দোসর হয়েছে টুকটুক। সেইসঙ্গে ট্রেকার, লরি, ট্রাক্টর তো আছেই। আর এই মিলিত দাপটে পথে প্রাপ্তি যানজট। নাজেহাল পথচারীরা। ভাগীরথী সেতুর গোড়ায় রঘুনাথগঞ্জ ফুলতলা থেকে খড়খড়ি সেতু পর্যন্ত পথচারীদের জন্য ফুটপাথ এমনিতেই ছোট।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:৪৬
ভোগান্তির রোজনামচা। বাঁ দিকে, অটো-টুকটুকের ভিড়। ডান দিকে, থমকে গিয়েছে শহর।নিজস্ব চিত্র।

ভোগান্তির রোজনামচা। বাঁ দিকে, অটো-টুকটুকের ভিড়। ডান দিকে, থমকে গিয়েছে শহর।নিজস্ব চিত্র।

এক অটোতে রক্ষা নেই, দোসর হয়েছে টুকটুক। সেইসঙ্গে ট্রেকার, লরি, ট্রাক্টর তো আছেই। আর এই মিলিত দাপটে পথে প্রাপ্তি যানজট। নাজেহাল পথচারীরা। ভাগীরথী সেতুর গোড়ায় রঘুনাথগঞ্জ ফুলতলা থেকে খড়খড়ি সেতু পর্যন্ত পথচারীদের জন্য ফুটপাথ এমনিতেই ছোট। তার উপরে সেই ফুটপাথের বেশির ভাগটাই ব্যবসায়ী ও ফল বিক্রেতাদের দখলে। রাস্তার একপাশে অটোর দাপাদাপি। অন্য পাশে খুশি মতো যাত্রী তুলতে দাঁড়িয়ে পড়ছে টুকটুক। সকাল ১০টা থেকেই দুপুর পর্যন্ত আবার সন্ধ্যার সময় ঘণ্টা দু’য়েক তীব্র যানজটে নাকাল হচ্ছেন লোকজন।

একই অবস্থা ফুলতলার সাগরদিঘি বাসস্ট্যান্ডেও। অথচ সকাল সন্ধ্যা যানবাহন নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন রয়েছে জনা দশেক সিভিক ভলান্টিয়ার্স। অভিযোগ, অটো ও টুকটুক চালকেরা এতটাই বেপরোয়া যে সিভিক ভলান্টিয়ার্সকে পরোয়াই করেন না। ডিভাইডার থাকলেও সে নিয়মও মানেন না। গত সাত দিন ধরে মাধ্যমিক পরীক্ষা চলায় যানজট আরও ভয়াবহ হয়ে তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে ফুলতলা থেকে শহরের মধ্যে নান্নুর মোড় পর্যন্ত। জঙ্গিপুর পুরসভা এই যানজট ও সেই কারণে দুর্ভোগের দায় চাপিয়েছে পুলিশের উপর। শহরে প্রায় দেড় হাজার টুকটুক চলছে। অটোর সংখ্যাও শ’তিনেক। সরকারি নির্দেশ বেরোলেও এখনও পর্যন্ত টুকটুকের জন্য পরিবহণ দফতর রেজিস্ট্রেশন শুরুই করেনি। জঙ্গিপুর পুরসভা টাকা নিয়ে টুকটুকের যে অনুমতি ও নম্বর দিচ্ছে তাও নেই বহু টুকটুকের। আর অনেক অটোর বৈধ নথিপত্রও নেই।

পুরসভার অভিযোগ, এতকিছু অনিয়মের পরেও এদের এত দাপাদাপি কেন? পুলিশ কেন কোনও এদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করে না? দাদাঠাকুর মোড়, ফুলতলার উত্তর শৌচাগার সংলগ্ন এলাকায় অলিখিত স্ট্যান্ড গড়ে তুলেছে টুকটুক ও অটো। সেই সঙ্গে যোগ দিয়েছে ট্রেকার। ফলে যানজট তো রয়েইছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনাও। সবথেকে অসুবিধে হচ্ছে সন্ধ্যের পরে। বেশির ভাগ টুকটুকের কোনও আলো নেই, হর্ন নেই। ফলে দুর্ঘটনাও ঘটছে। স্থানীয় পথচারীদের অভিযোগ, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মাটি, বালি ও পাথরবোঝাই লরি এবং ট্রাক্টরের উপদ্রব। ফুলতলার উপর দিয়ে কয়েকশো পণ্যবোঝাই লরি চলছে। এত যানজটের মধ্যেও ট্রাফিক আইন না মেনে ফুলতলা ও বাসস্ট্যান্ড মোড়ে ব্যস্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ছে বাস।

স্থানীয় পুরপ্রধান মোজাহারুল ইসলামের অভিযোগ, “শহরে প্রায় আটশো টুকটুককে পুরসভা অনুমতি দিয়ে একটি করে নম্বর দিয়েছে। এখন সে অনুমতিও আর দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু বহু টুকটুক পুরসভার অনুমতি ছাড়াই। অটোর সঙ্গে পুরসভার কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু শহরের অধিকাংশ অটোর কোনও বৈধ কাগজপত্র নেই। রাজনৈতিক ইউনিয়নের প্রশ্রয়ে সেগুলি চলছে। অথচ পুলিশ নির্বাক দর্শক। আর যানজটে জেরবার হচ্ছে শহর।” তিনি বলেন, ‘‘ফুলতলা পুরএলাকা হলেও যান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পুলিশের। কড়া নজর রাখলেই যানজট রুখে দেওয়া যায়। কিন্তু বহু বার পুলিশকে লিখিত ভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানালেও তারা কিছুই করেনি।’’ জেলার পুলিশ সুপার সি সুধাকরের আশ্বাস, ‘‘শহরে যানজট রুখতে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।’’ যদিও সেই আশ্বাসে বিশেষ ভরসা পাচ্ছে না রঘুনাথগঞ্জ।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy