Advertisement
E-Paper

প্রতিবাদের নামে পঞ্চায়েত অচল, কাঠগড়ায় তৃণমূল

মাস দেড়েক ধরে পঞ্চায়েত অচল করে রাখার অভিযোগ উঠছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এর ফলে হরিহরপাড়ার হুমাইপুর পঞ্চায়েত এলাকার লোকজন পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সিপিএম পরিচালিত ওই পঞ্চায়েতের সামনে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ণা দিচ্ছে তৃণমূলের লোকজন। অচলাবস্থা কাটাতে স্থানীয় বিডিও সভা ডাকলেও তা এড়িয়ে গিয়েছেন তৃণমূলের লোকজন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০১৬ ০২:০৩

মাস দেড়েক ধরে পঞ্চায়েত অচল করে রাখার অভিযোগ উঠছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এর ফলে হরিহরপাড়ার হুমাইপুর পঞ্চায়েত এলাকার লোকজন পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সিপিএম পরিচালিত ওই পঞ্চায়েতের সামনে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ণা দিচ্ছে তৃণমূলের লোকজন। অচলাবস্থা কাটাতে স্থানীয় বিডিও সভা ডাকলেও তা এড়িয়ে গিয়েছেন তৃণমূলের লোকজন।

হরিহরপাড়ার বিধায়ক সিপিএমের ইনসার বিশ্বাস বলেন, ‘‘গত ১৬ নভেম্বর থেকে পঞ্চায়েত বন্ধ। পঞ্চায়েতের সামনে দলীয় পতাকা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে তৃণমূল। পঞ্চায়েত দখল করতে আমাদের সদস্যদের ভয় দেখাচ্ছে। প্রতিবাদ করলে জুটছে মারধর।’’

একশো দিনের কাজে হরেক অনিয়মের অভিযোগ তুলে নভেম্বরের মাঝামাঝি নাগাদ তৃণমূল ওই পঞ্চায়েতে স্মারকলিপি দিতে যায়। অভিযোগ, প্রধান আব্দুল কাদির কথা দিয়েও ওই দিন পঞ্চায়েতে আসেননি। তারপর থেকে পঞ্চায়েতের মূল ফটক আটকে তৃণমূলের লোকজন বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। নভেম্বরের শেষের দিকে অচলাবস্থা কাটাতে স্থানীয় বিডিও সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন। সেই বৈঠক বয়কট করেন শাসকদলের নেতারা। অভিযোগ, ওই পঞ্চায়েতের কংগ্রেস সদস্যদেরও বৈঠকে হাজির না হওয়ার জন্য প্রচ্ছন্ন হুমকি দেয় শাসক দলের লোকজন।

Advertisement

ওই পঞ্চায়েতের এক কংগ্রেস সদস্য জানান, বিডিওর সভার আগের দিন তৃণমূলের এক স্থানীয় নেতা তাঁকে ফোন করে সভায় যেতে নিষেধ করেন। তাঁর কথায় প্রচ্ছন্ন হুমকির ছাপ ছিল। তৃণমূলের তরফে ওই পঞ্চায়েত এলাকার পর্যবেক্ষক সফিউল হাসান জানান, তাঁরা দুর্নীতির প্রতিবাদ করছেন। সাধারণ মানুষ দিব্যি পঞ্চায়েতে যেতে পারছেন। ওই পঞ্চায়েতের প্রধান আব্দুল কাদির অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

প্রশাসনের কর্তারা অবশ্য দাবি করছেন, ওই পঞ্চায়েতে অচলাবস্থা কে টেছে। স্বাভাবিক কাজকর্ম চলছে। হরিহরপাড়ার বিডিও সুশান্ত বালা বলেন, ‘মহকুমাশাসকের নির্দেশে ওই প্রধানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তবে পঞ্চায়েতের কাজ স্বাভাবিক ভাবেই চলছে।’’

কিন্তু স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা অবশ্য ভিন্ন কথা বলছে। স্থানীয় প্রদীপডাঙার এফাতুন বেওয়া জানান, তিনি মঙ্গলবার বাধর্ক্য ভাতা সংক্রান্ত খোঁজখবর নিতে পঞ্চায়েতে যান। কিন্তু তাঁকে ভিতরে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। একই বক্তব্য রামপাড়ার মুসাক্কর শেখেরও। তিনি বলেন, ‘‘গ্রামের কয়েক জনের সঙ্গে ১০০ দিনের কাজের ব্যাপারে খোঁজ নিতে পঞ্চায়েতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের পঞ্চায়েতের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।’’

অচলাবস্থা তৈরি প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূলের সভাপতি মান্না‌ন হোসেন বলেন, ‘‘ওই প্রধান দুর্নীতিগ্রস্ত। এর আগেও ওই প্রধান দুর্নীতির অভিযোগে জেল খেটেছেন। আমরা তাঁর বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলন করছি।’’ কিন্তু ‘শান্তিপূর্ণ’ আন্দোলনের ফলে লোকজন যে পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, এ প্রশ্নের অবশ্য কোনও সদুত্তর দেননি মান্নান হোসেন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy