Advertisement
E-Paper

ব্লক অফিসে ভাঙচুরে অধরা অভিযুক্তেরা

হামলার এক দিন পরেও বিডিও-এর ঘরে ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারল না। সেই সঙ্গে এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ অগস্ট ২০১৫ ০১:৩১

হামলার এক দিন পরেও বিডিও-এর ঘরে ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারল না। সেই সঙ্গে এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ।

মঙ্গলবার দুপুরে কৃষ্ণনগর ২ বিডিও-এর ঘর ভাঙচুর করে এক দল দুষ্কৃতী। ঘটনায় নাম জড়ায় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি শিবশঙ্কর দত্তের। প্রত্যক্ষর্দীরা জানিয়েছেন, মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের ঘনিষ্ট বলে পরিচিত শিবশঙ্করবাবু দলবল নিয়ে বিডিও অফিসের টেবিল, চেয়ার ভাঙচুর করেছে। সে কথা একান্তে মেনেছেন জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্তাও।

অথচ রাতে যখন ব্লক থেকে এই ঘটনার জন্য পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয় তখন তাতে কারও নাম উল্লেখ করা হল না! আর এখানেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করছেন বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, সকলের সামনে শিবশঙ্কর ও তাঁর লোকজন ভাঙচুর চালালেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার সাহস দেখাতে পারল না প্রশাসন। ঘটনার পরে স্বয়ং মন্ত্রী যেখানে শিবশঙ্করবাবুকে পাশে নিয়ে এই ভাঙচুরের দায় সংবাদমাধ্যম ও বানভাসী মানুষদের উপরে চাপিয়ে দিয়ে যান তখন যে প্রকৃত সত্য সকলের সামনে তুলে ধরার ক্ষমতা প্রশাসনের কর্তাদের হবে না সে আশঙ্কা করেছিলেন অনেকেই। তা সত্যি প্রমাণ করে শিবশঙ্করবাবুকে আড়াল করার অভিযোগ উঠল প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এই প্রসঙ্গে জেলাশাসক বিজয় ভারতীর ব্যাখ্যা, ‘‘যখন ভাঙচুর হয় তখন বিডিও উপস্থিত ছিলেন না। আবার ঘটনার কোনও প্রত্যক্ষদর্শী নেই। সেই কারণে নির্দিষ্ট করে কারও নাম করে অভিযোগ করা যায়নি।’’

Advertisement

প্রশ্ন উঠছে, সেই সময় বিডিও না থাকলেও অন্য কর্মীরা ছিলেন। ঘটনার পরপরই বিডিও অফিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক দেবকুমার নন্দন ও কৃষ্ণনগর সদর মহকুমাশাসক মৈত্রেয়ী গঙ্গোপাধ্যায়-সহ অন্য আধিকারিকেরা। তাঁরা তো ব্লকের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেলেই অভিযুক্তদের নাম জানতে পারতেন। তা হলে কেন তাঁরা সেটা করলেন না?

কৃষ্ণনগর ২ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি জগন্নাথ ঘোষের অভিযোগ, ‘‘কারা ভাঙচুর করেছে সেটা সকলেই জানেন। প্রশাসনের কর্তারা জানেন না সেটা কেউই বিশ্বাস করবেন না। আসলে মন্ত্রীর ঘনিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সাহসই নেই প্রশাসনের!’’

প্রকাশ্যে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করার পরও শাসক দলের নেতা বলে কী ভাবে পার পেয়ে গেল অভিযুক্তেরা সে প্রশ্নও তুলছেন তিনি। একই অভিযোগ জেলা বিজেপি-র সাধারণ সম্পাদক মহাদেব সরকারের। এ দিন অবশ্য অভিযুক্ত শিবশঙ্কর এই প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy