তদন্তে নেমে স্ত্রী খুনে অভিযুক্ত চাকদহের চৌগাছার বাসিন্দা রঞ্জিত মিত্র নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। জেরায় ধৃত ওই যুবক জানায় একমাত্র ছেলে মারা যাওয়ায় ছেলের দেহও শ্মশানে পুঁতে দিয়ে রেখে এসেছে সে। দিন কয়েক আগে সেই জায়গাটি চিহ্নিত করে। সেই মতো শনিবার আইচপাড়া শ্মশান এলাকায় মাঁটি খুড়ে গোপালনগরের আইচপাড়া শ্মশানে সেই জায়গা খুঁড়ে বছর দুয়ের ঋতম নামে ওই শিশুর দেহ উদ্ধার করল পুলিশ। দেহটি ময়না তদন্তের জন্য বঁনগা মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওই শিশু মারা গিয়েছে না কি তাকে খুন করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। যদিও ধৃতের দাবি, লিচু খাওয়ার সময় গলার লিচুর বীজ আটকে মারা যায় ঋতম। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর চারেক আগে রানাঘাট-১ নম্বর ব্লকের হবিবপুর রাঘবপুর সরকারপাড়ার বাসিন্দা চন্দনাদেবীর (২৬) সঙ্গে চাকদহের চৌগাছার বাসিন্দা রঞ্জিতের বিয়ে হয়। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই চন্দনাকে মারধর করত রঞ্জিত। গত ১৯ এপ্রিল কল্যাণী জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল হাসপাতালে মারা যান চন্দনাদেবী। ওই ঘটনায় মৃতার বাবা সুশান্ত সরকার রঞ্জিত-সহ মৃতার শ্বশুরবাড়ির পাঁচ জনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে সকলেই পলাতক রয়েছে। দিন আটেক আগে পুলিশ রঞ্জিতকে গ্রেফতার করে।
সুশান্তবাবু বলেন, ‘‘মেয়ের দেহে আঘাতের চিহ্ন ছিল। মেয়েকে মেরে মুখে বিষ ঢেলে দিয়েছিল ওর শ্বশুরবাড়ির লোকজন।’’ ‘‘নাতিটা ছিল। তাকেও শেষ করে দিল।’’— আক্ষেপ তাঁর। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ধরা পড়ার পর অভিযুক্ত রঞ্জিত পুলিশ হেফাজতেই রয়েছে।