গ্রিল ও কাঠের দরজা ভেঙে শতাব্দী প্রাচীন মন্দিরের সর্বস্ব লুঠ করে চম্পট দিল একদল দুষ্কৃতী। সোমবার রাতে তারা শক্তিপুরের গৌড়িপুর গৌরাঙ্গ মন্দিরে হানা দেয়। দুষ্কৃতীরা সেখান থেকে প্রাচীন ধাতুর মূর্তি, ১ ফুট ৪ ইঞ্চির উচ্চতার পিতলের রাধারানীর মূর্তি, পিতলের দু’টি ছোট গোপাল মূর্তি, রাধা ও কৃষ্ণের মূর্তি চুরি করেছে। সঙ্গে কাঁসার বাসন, শ্রীকৃষ্ণের হাতের বাঁশি, পায়ের নূপুর, কাঁসর ঘণ্টাও-কিছুই বাদ যায়নি খোয়া যাওয়ার তালিকা থেকে।
মঙ্গলবার ভোরে ওই মন্দিরের সেবাইত বিশ্বরূপ গোস্বামী ঘুম থেকে উঠে বিষয়টি লক্ষ করেন। তিনি ঘটনার বর্ননা দিয়ে এ ব্যাপারে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি জানান, রাত ১০টা নাগাদ তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। ভোরে উঠে এই কাণ্ড দেখেন। পাশের ঘরে শুয়ে থেকেও মন্দির-লুঠের কিছুই টের পেলেন না? বিশ্বরূপবাবু বলেন, ‘‘গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলাম। তাই কিছুই বুঝতে পারিনি।’’ পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। জেলা পুলিশের এক কর্তা জানান, প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, মন্দিরের সম্পত্তি নিয়ে শরিকি বিবাদ রয়েছে। তবে চুরির পিছনে সেই ঘটনার কোনও সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।
প্রাচীন এই মন্দিরের বিগ্রহ দেখতে প্রতিদিন এলাকার অনেক মানুষ আসেন। শক্তিপুর কেএমসি ইন্সটিটিউশনের শিক্ষক প্রদীপ নারায়ন রায় বলেন, ‘‘প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো ওই মন্দির। মন্দিরের বিগ্রহগুলিকে এলাকার মানুষ খুব ভক্তি করত। সে সব চুরি হয়ে যাওয়ায় ভক্তদের মন খারাপ।’’