হরিহরপাড়ায় হুমাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানকে বরখাস্ত করা হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট বিডিও-কে খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় এই নির্দেশ দিয়েছেন।
ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৭ সদস্যের মধ্যে সিপিএমের ১০ জন, তৃণমূলের ৫ জন ও কংগ্রেসের ২ জন সদস্য রয়েছেন। মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সূত্রের খবর, সিপিএমের পঞ্চায়েত প্রধান আব্দুল কাদিরের বিরুদ্ধে একশো দিনের কাজের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ ওঠায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ৯১ দিন জেল হাজতে থেকে তিনি সম্প্রতি জামিন পেয়েছেন। তাঁর অবর্তমানে কাজ চালাচ্ছিলেন উপপ্রধান। সম্প্রতি তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। ফলে পঞ্চায়েতের প্রধান নির্বাচন জরুরি হয়ে পড়েছে। পঞ্চায়েতের অন্য সদস্যেরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিডিও-কে জানান। দিন পনেরো আগে বিডিও বিজ্ঞপ্তি দেন, এ দিন (১০ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টায় প্রধান পদের নির্বাচন হবে।
এই পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে হাইকোর্টে মামলা করেন পঞ্চায়েতের দুই কংগ্রেস সদস্য। তাঁদের আইনজীবী অরিন্দম দাস জানান, মামলার আবেদনে বলা হয়, পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী কোনও প্রধান ৯০ দিনের বেশি জেল হেফাজতে থাকলে তাঁকে বরখাস্ত করতে হবে। কিন্তু বিডিও আইন মেনে আব্দুল কাদিরকে বরখাস্ত করেননি। সেই কারণে তাঁর ভোটাধিকারও খর্ব হয়নি। বিডিও-র জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি জারির নির্দেশ দিতে আবেদন করা হয়।
এ দিন বেলা ১টায় মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। বিচারপতি মামলার নথি খতিয়ে দেখে বিডিও-র বিজ্ঞপ্তির উপর স্থগিতাদেশ জারি করেন এবং বিডিও-কে নির্দেশ দেন, পঞ্চায়েত আইন মোতাবেক আব্দুল কাদিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না তা খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিতে। বিচারপতি আরও জানান, যেহেতু বেলা সাড়ে ১২টায় প্রধান নির্বাচনের কথা ছিল এবং তার পরে শুনানি হয়েছে, তাই নির্বাচন হলেও তা গণ্য হবে না।