E-Paper

গঙ্গার নিম্নগতিতে ভাঙন রোধের দায়িত্ব কেন্দ্র, রাজ্য উভয়েরই

স্থানীয় মানুষের হাজার লড়াই পার করেও আজও পরিস্থিতি সেই একই। সুবোধ চৌধুরী, কেদার মণ্ডলেরা ক্রমশ অতীত হয়েছেন।

অভিজ্ঞান সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ০৯:২৮
লদহের রতুয়ার শ্রীকান্তটোলায় গঙ্গা ভাঙন।

লদহের রতুয়ার শ্রীকান্তটোলায় গঙ্গা ভাঙন। ছবি: জয়ন্ত সেন।

একূল ভেঙে ওকূল তুমি গড়ো / যার একূল ওকূল দুকূল গেল, তার লাগি কি করো— প্রতি বছরেই মালদহ, মুর্শিদাবাদ জেলার গঙ্গা তীরবর্তী কয়েক লক্ষ মানুষের এই একটাই প্রশ্ন। গঙ্গা ও ফুলহার নদীর ভাঙন শুধু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতির ছলনা হয়ে থাকে বছরের পর বছর। এক দিকে ফরাক্কা বাঁধ, অন্য দিকে রাজমহলের কঠিন পাহাড়ের মাঝে ছটফট করছে নদী। প্রতি বছর সেই ছটফটানি ভেঙে ফেলতে চাইছে দুই পাড়। যার প্রভাবে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে মালদহ, মুর্শিদাবাদের একের পর এক জনপদ।

১৯৭৫ সালে ফরাক্কা বাঁধ নির্মাণের পর থেকে মালদহ, মুর্শিদাবাদের দুই পাড়ের প্রায় দশ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ ভাবে গঙ্গা ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও জেলার গণ্ডি পার করে দেশের বা বঙ্গের রাজনীতিতে গঙ্গা ভাঙন কোনও দিনই গুরুত্ব পায়নি। স্থানীয় মানুষের হাজার লড়াই পার করেও আজও পরিস্থিতি সেই একই। সুবোধ চৌধুরী, কেদার মণ্ডলেরা ক্রমশ অতীত হয়েছেন।

অতঃপর কী উপায়?

গঙ্গা নদী যেহেতু জাতীয় নদী, ফলে গঙ্গার নিম্নগতিতে ভাঙন রোধ করার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ও রাজ্য দুই সরকারেরই। শুধুমাত্র রাজ্যের সীমিত আর্থিক ক্ষমতায় এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবুও যেহেতু সদ্য রাজ্যে নির্বাচনের পরে এখন কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার, অতএব তার কাছে কিছু প্রত্যাশা থেকেই যায়।

প্রথমটি অবশ্যই মালদহের ভাঙন পরিস্থিতিকে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা করার দীর্ঘদিনের দাবিকে মান্যতা দেওয়া। যাতে ভাঙন মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব বৃদ্ধি পায়। এর সঙ্গে উত্তরবঙ্গের বন্যা ও নদী ভাঙন রোধে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা। দ্রুততার সঙ্গে ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলিতে স্থায়ী ও বিজ্ঞানসম্মত সমাধানের জন্য সঠিক পরিকল্পনা তৈরি ও তার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা। ফরাক্কা বাঁধের জলধারণ ক্ষমতা ও পলি জমার সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ ও গঙ্গার পাড় রক্ষণাবেক্ষণে ফরাক্কা বাঁধের দায়িত্ব বৃদ্ধি করা দরকার, যেমন ২০১৪ সালের আগে ছিল। ভাঙন দুর্গতদের স্থায়ী পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করাও অতি জরুরি বিষয়। এবং অবশ্যই চরের বাসিন্দাদের পশ্চিমবঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করে সমস্ত সরকারি সুবিধা প্রদানের দীর্ঘদিনের অবহেলিত থাকা দাবি পূরণ করা।

পরিবেশকর্মী, মালদহ

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

North Bengal

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy