E-Paper

বাড়িতে গিয়ে পড়ুয়াদের পাঠদান প্রধান শিক্ষকের

বিবপুর ব্লকের বুলবুলচণ্ডী পঞ্চায়েতের মধ্যম কেন্দুয়া গ্রাম। রাজ্য সড়কের ধারে দ্বিতল প্রাথমিক স্কুল রয়েছে।

অভিজিৎ সাহা

শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ০৯:২৩
মালদহের হবিবপুরের মধ্যম কেন্দুয়ায় গরমের ছুটিতে স্কুল বন্ধ থাকায় ছাত্রছাত্রীদের বাড়িতে গিয়ে পড়াচ্ছেন প্রধান শিক্ষক।

মালদহের হবিবপুরের মধ্যম কেন্দুয়ায় গরমের ছুটিতে স্কুল বন্ধ থাকায় ছাত্রছাত্রীদের বাড়িতে গিয়ে পড়াচ্ছেন প্রধান শিক্ষক। নিজস্ব চিত্র।

ছুটিতেও চালু ‘ক্লাস’। তবে স্কুলের চার দেওয়ালে নয়, ক্লাস চলছে পড়ুয়াদের বাড়িতেই। মঙ্গলবার এমনই ছবি দেখা গেল মালদহের হবিবপুরের মধ্যম কেন্দুয়া। কর্তৃপক্ষের দাবি, গরমের টানা ছুটির কারণে পড়াশোনার অভ্যেস হারিয়ে ফেলে গ্রামের প্রাথমিকের পড়ুয়ারা। তাদের পড়াশোনার অভ্যেস বজায় রাখতে টিউশনের ধাঁচে পালা করে ছাত্রছাত্রীদের পড়াচ্ছেন খোদ প্রধান শিক্ষক। স্কুলের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন অভিভাবক থেকে শুরু করে শিক্ষা দফতরের কর্তারাও।

হবিবপুর ব্লকের বুলবুলচণ্ডী পঞ্চায়েতের মধ্যম কেন্দুয়া গ্রাম। রাজ্য সড়কের ধারে দ্বিতল প্রাথমিক স্কুল রয়েছে। শুধু মধ্যম কেন্দুয়াই নয়, পড়শি ছাতিয়ানগাছি গ্রামের ছাত্রছাত্রীরাও স্কুলটিতে পড়াশোনা করে। জানা গিয়েছে, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলে শতাধিক ছাত্রছাত্রী রয়েছে। প্রধান শিক্ষক সহ পাঁচ জন শিক্ষক রয়েছেন। গ্রামের সিংহভাগ পরিবারই সাধারণ।

স্কুলগুলিতে গরমের ছুটি চলছে। খুদেদের পড়াশোনার অভ্যেস বজায় রাখতে ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি গিয়ে ক্লাস নিচ্ছেন বুলবুলচণ্ডীর বাসিন্দা স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাজকুমার সাহা। ১০-১২ জন ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে একাধিক গ্রুপ তৈরি করে, তাদের বাড়িতে গিয়ে রুটিন করে পড়াচ্ছেন তিনি। কেন এই উদ্যোগ? রাজকুমার সাহা বলেন, “স্কুলের অধিকাংশ ছেলেমেয়েরই টিউশন পড়ার সামর্থ নেই। স্কুলের উপরেই তারা নির্ভরশীল। এ ছাড়া অনেক ছাত্রছাত্রীর বাবা-মা প্রাথমিকের গণ্ডিও না টপকানোয় তাদের বাড়িতেও পড়াশোনা হয় না বা দেখানোর কেউ থাকে না। ছুটির পরে স্কুল শুরু হলে তাদের পড়াশোনায় ঘাটতি পড়ে যায়। তাই তাদের বাড়িতে গিয়ে পড়াশোনা একটু দেখিয়ে দিচ্ছি।”

প্রধান শিক্ষকের প্রশংসা করে গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য লতিকা সিংহ বলেন, “কোনও ছাত্রছাত্রী স্কুলে না গেলে প্রধান শিক্ষক তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেন। এখন ছুটির সময় বাড়িতে গিয়ে পড়াচ্ছেন। তিনি স্কুলের জন্য প্রচুর সময় দেন।” অভিভাবক রাকেশ সিংহ বলেন, “দিনভর কাজের জন্য বাড়িতে থাকা হয় না। ছেলেমেয়েকে পড়া দেখানোর সময় থাকে না। ছুটির সময়ে প্রধান শিক্ষক বাড়িতে এসে পড়াচ্ছেন। খুবই ভাল লাগছে।” এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) মলয় মণ্ডলও।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Habibpur

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy