Advertisement
E-Paper

নগদের অভাবে মার খাচ্ছে কমলালেবুও

কোনও চাষির বক্তব্য, গতবার ৬ লক্ষ টাকার ব্যবসা করেছিলেন। এ বার তার অর্ধেক হলেই খুশি। আর এক জনের বক্তব্য, শুধু কমলালেবু চাষে লাভ হচ্ছে না। তাই বাগানের মধ্যে হোমস্টে করেছেন। তা থেকে টাকা পাচ্ছেন বলে বেঁচে গিয়েছেন।

কৌশিক চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০১৬ ০১:৩৬
চলছে উৎসব। — নিজস্ব চিত্র

চলছে উৎসব। — নিজস্ব চিত্র

কোনও চাষির বক্তব্য, গতবার ৬ লক্ষ টাকার ব্যবসা করেছিলেন। এ বার তার অর্ধেক হলেই খুশি। আর এক জনের বক্তব্য, শুধু কমলালেবু চাষে লাভ হচ্ছে না। তাই বাগানের মধ্যে হোমস্টে করেছেন। তা থেকে টাকা পাচ্ছেন বলে বেঁচে গিয়েছেন।

রবিবার থেকে মিরিকের লোহাগড়ে শুরু হয়েছে ‘তরাই হিমালয়ান অরেঞ্জ ফেস্টিভ্যাল’। এ বার দ্বিতীয় বছর। অনেক চাষিরই বক্তব্য, বাজারে নগদের আকালে কমলালেবু বিক্রিই হচ্ছে না। তাই এই উৎসবে যদি কিছু বিক্রি করা যায়, সেই আশায় বুক বেঁধেছেন তাঁরা।

কার্শিয়াঙের সিটং থেকে সাত সকালে ছোট গাড়ি ভাড়া করে কমলালেবু নিয়ে মিরিকের লোহাগড়ে এসেছেন রতন গুরুঙ্গ, প্রণয় ছেত্রীরা। লোহাগড়ের নেপাল সীমান্ত ঘেরা ওপারের সালুকপুর থেকেও এসেছেন কমলা চাষিরা। ঘরের জমানো টাকা শেষের পথে। পাহাড়ি দুর্গম এলাকার ব্যাঙ্ক, এটিএমও কম। বাগানের কমলা বিক্রির টাকা অনেকটাই ধারে বাজারে যাচ্ছে। কবে টাকা উঠবে তার ঠিক নেই। রতন জানান, পুরানো মহাজন, পাইকারের কমলালেবু নিয়েছেন, তাই টাকা হয়ত পেয়ে যাবেন। কিন্তু ব্যাঙ্কের টাকা তুলতে তো ঘাম ঝরেছে। তিনি জানালেন, ‘‘আবহাওয়ার জন্য পাহাড়ের কমলালেবুর আকার, স্বাদও কমছে। তার উপর বিষফোঁড়া নোট বাতিল।’’ সিটং বাজারে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ‘সার্ভিস কাউন্টার’ রয়েছে। কিন্তু তাতে গত এক মাসে ক’দিন ঠিকঠাক টাকা লেনদেন হয়েছে, তা বলতে পারেননি রতন, প্রণয়েরা। তাঁরা জানান, গ্রাম থেকে মংপু ৮ কিলোমিটার। কার্শিয়াং ৩০ কিলোমিটার। টাকা তুলতে গিয়ে দিন পার হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আবার লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা পায়নি।

প্রণয় জানান, দার্জিলিং পাহাড়ের কমলালেবু ১০০টি ৫০০/৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু টাকার জন্য ক্রেতা কম। এখনও বাগানে ৫ হাজার কমলা রয়েছে। সালুকপুরের চাষি প্রেম জানান, আগে হাতে টুকুরিতে মাল আসত এদেশে। এসএসবি-র কড়াকড়িতে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কমলালেবু পাঠাতে হচ্ছে কাঁকরভিটা, ইলাম বাজারে। সেখানে নিলামের পর লেবু আসছে শিলিগুড়ি পাইকারি বাজারে। কিন্তু ভারতের বাজারে নগদ কম থাকায় মাল বেশি বিক্রি হচ্ছে না। উৎসব কমিটির সভাপতি মন তামাঙ্গ জানান, তিন দিনের উৎসবে তবুও কিছুটা বিক্রি হয়েছে।

Demonetisation Orange
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy