E-Paper

বকরি ইদের আগে উত্তরে ফাঁকা গরু-হাট

এ দিন দিনভর হাটে বসে থেকে শেষে গরু নিয়ে বাড়িতে ফিরে যান মালদহের মানিকচকের মথুরাপুরের যুবক বাপি মণ্ডল।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ০৭:৫৭
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বকরি ইদের আগে কার্যত ফাঁকাই থাকল উত্তরের বিভিন্ন গরু বিক্রির হাট। বুধবার কেউ কেউ অবশ্য গরু নিয়ে হাজির হয়েছিলেন হাটে। দিনভর বসে থেকেও অনেকের খদ্দের মেলেনি। বর্ষা প্রায় নামতে চলছে। এখন জমি কাদা করতে হাল চাষের প্রয়োজন। কিন্তু বাজারে মিলছে না হালের গরুও। মালদহ থেকে শিলিগুড়ি, কোচবিহার থেকে দিনাজপুর— গোটা উত্তরবঙ্গে এমনই পরিস্থিতি। ব্যবসায়ীদের দাবি, বকরি ইদের আগে কোটি কোটি টাকার গরু কেনাবেচার ব্যবসা হত। এ বারে তা একেবারেই হয়নি।

এ দিন দিনভর হাটে বসে থেকে শেষে গরু নিয়ে বাড়িতে ফিরে যান মালদহের মানিকচকের মথুরাপুরের যুবক বাপি মণ্ডল। তাঁর কথায়, “সারা দিনে গরুর পিছনে দু’শো টাকা খরচ হয়। অথচ আয় নেই। কেনাবেচা বন্ধ হয়ে গেলে গবাদি পশুর মুখে খাবার দেওয়া তো দূরের কথা, নিজেদের পেটেই খাবার জুটবে না।” গরু না-মেলায় চাহিদা বেড়েছে খাসির। এক লাফে আটশ-ন’শো থেকে খাসি পৌঁছে গিয়েছে কেজি প্ৰতি দেড় হাজার টাকায়। কুমারগঞ্জ ব্লকের দোরাহার গ্রামের কৃষক তৈফুর মন্ডল বলেন, ‘‘ইদের জন্য গরু পাওয়া যাচ্ছে না। খাসি দিয়েই বকরি ইদ পালন করব।’’ কোচবিহারের কৃষক গণেশ বর্মণ জানান, চাষের কাজে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যন্ত্রই ব্যবহার হয়। কিন্তু জমিতে মই দেওয়ার কাজে হালের গরুর প্রয়োজন। বাজারে গরু না থাকায় তা কিনতে পারছেন না অনেকে।

কুরবানির পশু বিক্রি করা নিয়ে রাজ্য সরকারের নির্দেশিকার পরে পাল্টে গিয়েছে গোটা চিত্র। দক্ষিণ দিনাজপুরের পতিরাম, হরিরামপুর, ডাঙারহাট, উত্তর দিনাজপুর জেলার দুর্গাপুর হাট, রায়গঞ্জের কমলাবাড়ি হাট, হেমতাবাদ ব্লকের বাঙালবাড়ি হাট, ইসলামপুরের রামগঞ্জ হাট, গোয়ালপোখরের পাঞ্জিপাড়া হাট, ডালখোলার মল্লিকপুর হাট, চাকুলিয়ার জনতা হাট-সহ জেলার বিভিন্ন হাটে কিছু দিন ধরে গরু কেনাবেচা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ইটাহারের হাঁসুয়ার কৃষক ইসরাইল আলি বলেন, “গরু কেনাবেচায় বিধিনিষেধের জেরে সব ক্ষেত্রেই সমস্যা বাড়ছে। যে সমস্ত গরু দুধ দেওয়া বন্ধ করেছে, সেগুলিও বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।”

শিলিগুড়ির খড়িবাড়িতে অধিকারী এলাকার গরুর হাট, মাটিগারা হাটে গরুর কেনাবেচা অনেকটাই কমেছে। জলপাইগুড়ির ক্রান্তি হাটেও গরু বিক্রি বন্ধ। আলিপুরদুয়ারের একাধিক হাটেও গরু বিক্রি নেই বললেই চলে। পুরাতন মালদহের বলাতলিতে দীর্ঘ বছর ধরে প্রতি সপ্তাহের শনিবার গরুর হাট বসে। সে হাটে খাবারের দোকান দেন এলাকারই বাসিন্দা সাধন সরকার। তিনি বলেন, “গরু কেন্দ্র করেই হাট। সে হাটে গরু বিক্রি না হলে মানুষের সমাগম নেই। যার প্রভাব আমার খাবার দোকানে পড়েছে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy