কোচবিহারের কম্পাস নাট্যসংস্থার ২৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত হল নাট্যোৎসব। আট দিনের এই উৎসবে প্রথম দিন মঞ্চস্থ হল বর্ধমানের ‘এবং আমরা’ নাট্য দলের নাটক ‘ইডিপাস’। নির্দেশনা কল্লোল ভট্টাচার্য। ওয়দিপাউস নাটকটিকেই লোকআঙ্গিকে নাটক ‘ইডিপাস’-এ উপস্থাপিত করা হয়েছে। দ্বিতীয় দিন দর্শক দেখল ‘কম্পাস’-এর নিজস্ব প্রযোজনা ‘জনশত্রু’। নির্দেশনা পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়। নাটকটি ইবসেনের ‘এনিমি অফ দ্য পিপল’-এর অনুবাদ। উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর গল্প অবলম্বনে মঞ্চস্থ হয় ‘জোলা আর সাত ভূত’। নির্দেশনা সৌমিত্র বসু। তৃতীয় দিনে ছিল কল্যাণীর ‘সৌপ্তিক’ নাট্যদলের ‘প্রদাহনিবিড় সুখে’। নির্দেশনা অয়ন জোয়ারদার। বিপ্লব সরকার নির্দেশিত ‘আদি রাজা’ মঞ্চস্থ করে বহরমপুরের ঋত্বিক। আর্য অনার্যের বিভাজন কালে এক রাজা অন্ত্যজদের পাশে দাঁড়াতে চাইলে তার প্রচেষ্টা বাধাপ্রাপ্ত হয়। এ কাহিনিই নাটকে আবর্তিত। এগরার ‘কৃষ্টিচক্র’ মৃণাল দাসের পরিচালনায় মঞ্চস্থ করে নাটক ‘খণ্ডগ্রাস’। পঞ্চম দিনে এরই সঙ্গে মঞ্চস্থ হল কোচবিহারের ‘স্কেতেড’ নাট্যদলের নাটক ‘চাঁদের দেশে’। নির্দেশনা কল্যাণময় দাস। হাস্যরসে জারিত নাটক ‘তোমাকে চাই’ অভিনয় করে বারাসত অনুশীলনী নাট্যদল। নির্দেশনা কমল চট্টোপাধ্যায় ও বিজয় মুখোপাধ্যায়। শেক্সপিয়রের ‘মিড সামার নাইট ড্রিম’ অনুকরণে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেপার্টারি থিয়েটার মঞ্চস্থ করল নাটক ‘ফাগুন রাতের গপ্পো’। পরিচালনা তরুণ প্রধান। উৎসবের শেষ দিন মঞ্চস্থ হয় ‘খনা’। প্রযোজনা বাংলাদেশ বটতলা স্পেস ফর থিয়েটার। উৎসব মঞ্চ থেকে জেলার বারোটি স্কুলের দুঃস্থ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ দেওয়া হয়। সম্মান জানানো হয় নাট্যনির্দেশক কল্লোল ভট্টাচার্য, শংকর দত্তগুপ্ত ও নৃত্যশিল্পী মৌসুমী বসু ঠাকুরকে।
লেখা ও ছবি: অনিতা দত্ত।