E-Paper

ভোটের মুখে জেলায় প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি ঘিরে প্রশ্ন

এ নিয়ে প্রাথমিক স্কুল সংসদের কাছে মামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন এক শিক্ষিকা।

অনির্বাণ রায়

শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৭
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ভোটের মুখে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে জলপাইগুড়িতে। সম্প্রতি জলপাইগুড়িতে প্রাথমিক শিক্ষকদের ঢালাও বদলি শুরু হয়েছে বলে দাবি। বদলি হওয়া শিক্ষকদের অধিকাংশই জেলা প্রাথমিক স্কুল সংসদ কর্তৃপক্ষের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি। কোন স্কুলে কত শিক্ষকের ঘাটতি, তা নিয়ে জেলার সব প্রাথমিক স্কুল থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করা শুরু হয়েছিল। অভিযোগ, সেই রিপোর্ট সংগ্রহ শেষ হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলি করা হয়েছে। তার জেরে যে সব স্কুলে নতুন শিক্ষকের প্রয়োজন নেই, সেখানে দুই-তিন জন বাড়তি শিক্ষক পাঠানো হয়েছে বলে অভিয়োগ উঠেছে। এই বদলি ঘিরে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে তৃণমূলের অন্দরেও। শাসক দলের নেতাদের একাংশের অভিযোগ, যে শিক্ষকেরা মন দিয়ে দলের কাজ করেন, তাঁদের অনেকেই প্রয়োজন সত্ত্বেও বদলিহতে পারেননি।

সূত্রের দাবি, অন্তত ৮০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার বদলির নির্দেশ হয়েছে। হঠাৎ এমন বদলি নজিরবিহীন বলে দাবি। এ নিয়ে প্রাথমিক স্কুল সংসদের কাছে মামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন এক শিক্ষিকা। যদিও জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক স্কুল সংসদের তরফে দাবি করা হয়েছে, নির্দিষ্ট মাপকাঠি মেনেই বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলায় উৎস্যশ্রী প্রকল্প বা নানা কারণে এক ভাষা মাধ্যমের শিক্ষকেরা অন্য ভাষা মাধ্যমের স্কুলে ছিলেন। এতে পঠনপাঠনের ক্ষতি হচ্ছিল। সে কারণে সমতা ফেরানো হয়েছে।

সংসদের চেয়ারম্যান লৈক্ষ্যমোহন রায় বলেন, “এত দিন অনেক হিন্দি এবং ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে বাংলা মাধ্যমের শিক্ষক-শিক্ষিকারা পড়াচ্ছিলেন, উল্টোটাও ছিল। সে সব ঠিকঠাক করা হল। অনেকেই অনেক কিছু বলতে পারেন। তবে নিয়ম না মেনে কিছু করা হয়নি।”

একাধিক শিক্ষক সংগঠনের দাবি, পরিকল্পনাহীন বদলির ফলে শহরের মুষ্টিমেয় কিছু স্কুলেই নতুন শিক্ষক বদলি হয়েছেন। এক বা দুই জন শিক্ষক রয়েছেন, জেলায় এমন স্কুলের সংখ্যাও অনেক। সে সব স্কুলে নতুন শিক্ষক না দিয়ে যেখানে উদ্বৃত্ত শিক্ষক রয়েছেন, সেখানেই নতুন শিক্ষক পাঠানো হয়েছে।

বিরোধী এবিপিটিএ-এর জেলা সম্পাদক বিপ্লব ঝাঁ বলেন, “যে স্কুলের শিক্ষকদের বদলি করা হয়েছে, সেখানেই শিক্ষকের সংখ্যা কম ছিল। সেই শিক্ষকদের যেখানে পাঠানো হল, সেখানে নতুন শিক্ষকের প্রয়োজনই ছিল না। বাইরে শোনা যাচ্ছে, বদলি করার জন্য এজেন্টও নাকি রয়েছে।” জলপাইগুড়ি জেলা বিজেপি সভাপতি শ্যামল রায়ের মন্তব্য, “তৃণমূল চিরকাল মেধা এবং নিয়মকে বঞ্চিত করেছে। তৃণমূলে যাঁরা সুবিধা পৌঁছে দিতে পারেন, তাঁদেরই স্বার্থরক্ষা করা হয়। এর থেকেও অনেক বড় বড় পাপ শিক্ষাক্ষেত্রে তৃণমূল করেছে।”

পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি দীপঙ্কর বিশ্বাস বলেন, “এখন যেটা হচ্ছে উদ্বৃত্ত এবং ঘাটতির ভারসাম্য রক্ষা। কোথাও কোনও অনিয়ম তো চোখে পড়েনি।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Jalpaiguri

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy