পাহাড়ে ওঠার আগেই বিকল হল দার্জিলিংগামী টয় ট্রেন। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে শিলিগুড়ি জংশনে পৌঁছতেই বিকল হয় ওই ট্রেনের ডিজেল ইঞ্জিন। সমস্যায় পড়েন যাত্রীরা। পরিস্থিতি সামলাতে শেষে অন্য ইঞ্জিন ওই দু’টি কামরায় জুড়ে টয় ট্রেন দার্জিলিঙে পাঠানো হয়। বারবার পাহাড়ি পথে টয় ট্রেনের ইঞ্জিন খারাপ হওয়ার ঘটনায় ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ টয় ট্রেনের পরিষেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সূত্রের খবর, মাঝেমধ্যেই এনজেপি থেকে দার্জিলিংগামী টয় ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হচ্ছে। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়রদের একাংশ জানাচ্ছেন, ওই ইঞ্জিনগুলি পুরনো হওয়ায় শক্তি কমেছে। তাই এমন সমস্যা হচ্ছে। স্টিম ইঞ্জিনগুলি যে ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে, ডিজেল ইঞ্জিনগুলিরও তেমন রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। আরও নতুন ইঞ্জিন নিয়ে আসা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তাঁরা।
ডিএইচআর কর্তারা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই তিনটি নতুন ডিজেল ইঞ্জিন পৌঁছেছে দার্জিলিঙে। আরও একটি ইঞ্জিন আসবে। পরে ফের রেলবোর্ডের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে। ডিএইচআর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরীর বক্তব্য, ‘‘যান্ত্রিক গোলযোগ হতেই পারে। আমরা নতুন চারটি ইঞ্জিন কিনেছি। পরিষেবায় কোনও প্রভাব পড়বে না।’’
বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ির এনজেপি স্টেশন থেকে টয় ট্রেন শিলিগুড়ি জংশনে পৌঁছয়। সেখানে ট্রেনের ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেয়। তার জেরে কিছুক্ষণ ওই জংশনে ট্রেন দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। খবর দেওয়া হয় জংশন ডিজেল শেডে। সেখান থেকে অন্য ইঞ্জিন নিয়ে এসে জুড়ে ট্রেনটিকে দার্জিলিঙে পাঠানো হয়। ৩০ মিনিট ট্রেনটি জংশনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। পর্যটনপ্রেমীদের একাংশের মতে, এ ভাবে বারবার ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় হেরিটেজ় তকমাপ্রাপ্ত ট্রেনের পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেবে। বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে খারাপ বার্তা যাবে। ডিএইচআর-কে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে রেল ছোট ছোট অনেক পদক্ষেপ করছে। টয় ট্রেনে এমন বিভ্রাট সেই সুনাম নষ্ট করতে পারে বলে মত পর্যটন ব্যবসায়ীদেরও। পর্যটন ব্যবসায়ী সম্রাট সান্যালের বক্তব্য, ‘‘ডিএচইআর-এর খ্যাতি বাড়াতে রেল ছোট ছোট অনেক পদক্ষেপ করছে। এ বার ইঞ্জিনের সমস্যাও গুরুত্ব দিয়ে তাদের দেখতে হবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)