শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও কোচবিহার মদনমোহন মন্দিরের রাস উৎসবের রাসচক্র তৈরির কাজ শুরু করলেন আলতাফ মিয়াঁ। তবে অসুস্থতার সঙ্গে অভাবের সংসারে সে কাজ চালিয়ে যাওয়া সঙ্গিন হয়ে উঠেছে। যদিও সোমবার কোচবিহার পুরসভার তরফে চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ তাঁর সঙ্গে দেখা করে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।
রাসচক্র তৈরিতে কাজে তাঁর নিষ্ঠার অভাব নেই। লক্ষ্মীপুজোর পর থেকেই মাসখানেক নিরামিষ আহারও করেন আসছেন কোচবিহারের হরিণ চওড়া এলাকার বাসিন্দা আলতাফ। দু’শো বছরের পুরনো রাজ আমলের এই রস উৎসবে বংশ পরম্পরায় রাসচক্র তৈরি করে আসছেন আলতাফের পরিবার। কোচবিহারের মহারাজার ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ঐক্যের বার্তা বহন করছে তারা। যদিও বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত আলতাফ। ফলে আর্থিক অনটনে দিন কাটাচ্ছে তাঁর পরিবার। সোমবার আলতাফের সঙ্গে সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি তাঁর পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন রবীন্দ্রনাথ। একই সঙ্গে তাঁর পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
আলতাফ বলেন, ‘‘শরীরের অবস্থা ভাল নেই। কিছু দিন আগেও ব্যাঙ্গালোর থেকে চিকিৎসা করিয়ে এসেছি। তার পরেও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘রাসচক্র তৈরি করার সুবাদে দেবত্তোর ট্রাস্ট বোর্ডের পক্ষ থেকে অস্থায়ী কাজ দেওয়া হয়েছে। অসুস্থতার কারণে সেই কাজটিও করতে পারিনি। ফলে পুরো বেতন পাননি।’’ তবে আলতাফ জানিয়েছেন, কাজে যেতে না পারলেও দেবত্তোর ট্রাস্ট বোর্ডের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রতি মাসে সাড়ে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। কিন্তু সে টাকায় সংসার চলে না।
আরও পড়ুন:
আলতাফের এই দুর্দশা মেটাতে পুরসভা পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। তিনি বলেন, ‘‘রাজ আমল থেকে বংশপরম্পরায় রাসচক্র তৈরি করে আসছে আলতাফ মিয়াঁর পরিবার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এটি একটি উদাহরণ। কোচবিহারের ইতিহাসের অংশ এই পরিবার। তাই ভবিষ্যতে পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে আলোচনার মাধ্যমে তাঁর জন্য কিছু করতে চায় পুরসভা।’’