মালদহে আরও এক জন করোনায় আক্রান্ত হলেন। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হল তিন জন। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মানিকচক ব্লকের ‘কনটেনমেন্ট জোন’ নারিদিয়ারা গ্রামের এক বাসিন্দার লালারসের নমুনা রিপোর্ট বুধবার রাতে ‘পজ়িটিভ’ আসে। নারিদিয়ারা গ্রামেই জেলার প্রথম করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে এসেছিলেন ওই যুবক।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩৫ বছর বয়সী ওই যুবক বুধবার দুপুর পর্যন্ত সরকারি কোয়রান্টিনে ছিলেন। কোয়রান্টিনে তাঁর থাকার মেয়াদ শেষ হওয়ায় সেখানে থাকা গ্রামের আরও দু’জনের সঙ্গে তিনি বুধবার দুপুরে বাড়ি ফিরে যান। রাতে তাঁর লালারসের রিপোর্ট ‘পজ়িটিভ’ আসায় প্রশাসনিক মহলে হইচই পড়ে। গভীর রাতে তাঁকে বাড়ি থেকে অ্যাম্বুল্যান্সে নিয়ে এসে পুরাতন মালদহের নারায়ণপুর বাইপাসে কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর সঙ্গে আরও যে দু’জন বাড়ি ফিরেছিলেন, তাঁদের ফের মানিকচক কলেজের ওই সরকারি কোয়ারান্টিনে পাঠানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, মানিকচকের ওই সরকারি কোয়ারান্টিনে বারাসত থেকে ফেরা নারিদিয়ারা গ্রামের তিন জনের লালারসের নমুনা তিন দিন আগে নিয়েছিলেন স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা। কিন্তু সেই রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কী করে তাঁদের বাড়িতে ফিরতে দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়ে প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনিক কর্তারা কেউ মুখ খুলতে চাননি।
এ দিকে জেলায় ফের আক্রান্তের খোঁজ মেলায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, যিনি বুধবার আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁর করোনার কোনও উপসর্গ ছিল না। জ্বর, কাশি, সর্দি বা শ্বাসকষ্ট ছিল না তাঁর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নারিদিয়ারা গ্রামের ওই তিন জন সরকারি কোয়রান্টিনে থেকে বুধবার বিকেলে আমবাগানের ভিতর দিয়ে প্রায় দশ কিলোমিটার হেঁটে বাড়িতে পৌঁছন। তাঁরা বাড়িতেই ছিলেন সকলের সঙ্গে।
নারিদিয়ারা গ্রামে পর পর দু'জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় ওই ‘কনটেনমেন্ট জোনে’ সমস্ত বাসিন্দার লালারসের নমুনা পরীক্ষার দাবি উঠেছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ওই ব্যক্তির পরিবার-সহ আশপাশের অন্তত ২০ জনের লালারসের নমুনা নেওয়া হয়েছে।
মালদহ মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ২০২ জনের লালারস পরীক্ষা হয়। এর মধ্যে মানিকচকের এক জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে, বাকিগুলি নেগেটিভ। এখন পর্যন্ত জেলায় ১৯৭৭ জনের লালারসের পরীক্ষা হয়েছে, এর মধ্যে পজিটিভ তিন জনের।