Advertisement
E-Paper

রাস্তায় নামলেন ত্রিপুরারি

পুলিশ সূত্রের খবর, এ দিন সকাল থেকে কেন্দ্রীয় দলের ঘোরার সেই সমস্ত এলাকা ঘুরে দেখে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলেন সিপি।

কৌশিক চৌধুরী ও সৌমিত্র কুণ্ডু

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২০ ০৫:৫০
পরিদর্শনে সিপি। নিজস্ব চিত্র

পরিদর্শনে সিপি। নিজস্ব চিত্র

শহরের যে এলাকাগুলি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছিল কেন্দ্রীয় দল, বুধবার থেকে সেই সব জায়গায় রাস্তায় নামলেন খোদ পুলিশ কমিশনার ত্রিপুরারি অথর্ব। সরকারি ভাবে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় দলের সফর শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। তার এক দিন পরে চম্পাসারি পাইকারি বাজার থেকে নয়াবাজার বা বিধান মার্কেটে সিপি-র টহলদারি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, এ দিন সকাল থেকে কেন্দ্রীয় দলের ঘোরার সেই সমস্ত এলাকা ঘুরে দেখে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলেন সিপি। সামজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্কের ব্যবহার এবং লকডাউন মানার উপরেই জোর দেন তিনি। বর্তমান অবস্থা নিয়ে রাজ্যকে এলাকারগুলির রিপোর্ট পাঠাচ্ছেন পুলিশ কমিশনার।

এ দিকে, কেন্দ্রীয় দলের তরফে এ দিন জানানো হয়েছে, দলের নেতৃত্বে থাকা বিনীত জোশী নিজে বুধবার সিপি-কে ফোন করেন। প্রতিনিধিদলের একটি সূত্রেই এ কথা জানা গিয়েছে। শিলিগুড়ি তো বটেই, জলপাইগুড়িতেও বেশ কয়েকটি জায়গায় লকডাউন মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা। মোটরবাইক, টোটো, অটো চলছে, অথচ পুলিশ কোনও কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে না— এই অভিযোগও তুলেছিলেন তাঁরা। কেন জরিমানা করা হচ্ছে না, প্রশ্ন তাঁদের। আরও প্রশ্ন, কনটেনমেন্ট জ়োনেই বা কড়াকড়ি নেই কেন? কেন্দ্রীয় দলের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়গুলি তাঁরা রিপোর্টে উল্লেখ করবেন।

সিপি-র পথে নামার সঙ্গে এই আলোচনার কোনও যোগ আছে কিনা, তা অবশ্য জানা যায়নি। পুলিশ কমিশনার বলেছেন, ‘‘সরকারি নির্দেশ মেনে যা যা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার, তা নেওয়া হচ্ছে। এখনও আইন না মানা বাসিন্দাদের জন্য কড়াকড়ি করা হবে। এর সঙ্গে অন্য কিছুর সম্পর্ক নেই।’’ তাঁর কথায়, ‘‘কেন্দ্রীয় দল এসে বসে রয়েছে বলে শুনেছি। তারা কোথায় কোথায় গিয়ে কী দেখে কি বলছেন, তা জানি না। ওটা ওদের বিষয়। আমাকে দেখা করার জন্য কিছু সরকারিভাবে বলা হয়নি বলতে পারি।’’

এদিন বিধান মার্কেটের মুরগিহাটি, আনাজ বাজারের এলাকা ঘুরে সিপি কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে যান। তার পর যান খালপাড়ার নয়াবাজারে। এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার। এই এলাকাগুলিই বারবার ঘুরে দেখেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। অভিযোগ উঠেছিল, ওই সমস্ত বাজারের একাংশে লকডাউন ঠিকমতো মানা হচ্ছে না। পুলিশের ধরপাকড় বড় রাস্তা, বিভিন্ন ওয়ার্ডে সীমাবন্ধ রয়েছে বলেই অভিযোগ। এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভিডিয়ো বৈঠকের মাঝে সিপি-কে ধমক দেন বলেও সূত্রের দাবি।

পুলিশ-প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছেন, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল বিভিন্ন বিষয়ের উপর কেন্দ্র এবং রাজ্যকে রিপোর্ট দেবে। সেই রিপোর্টের উপরে ভিত্তি করেই হয়তো লকডাউন শিথিল করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এখন পর্যন্ত যা ইঙ্গিত, তাতে পাহাড় দেখে কেন্দ্রীয় দল যত খুশি, সমতল দেখে তা নয়। রাজ্য চাইছে অরেঞ্জ জ়োন থেকে শিলিগুড়িকে গ্রিন জ়োন করতে। কিন্তু এই রিপোর্টের ফলে কড়াকড়ি উল্টে বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যার ইঙ্গিত খোদ মুখ্যমন্ত্রীই দিয়ে রেখেছেন।

Coronavirus
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy