কোথাও রাজনৈতিক দলের প্রচারে গাছে পেরেক গেঁথে টাঙানো হয়েছে ব্যানার। কোথাও আবার গাছে পেরেক দিয়ে ঝুলছে বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং। সবুজ রক্ষায় চারদিক থেকে যখন চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখা হচ্ছে না, তখন দিনহাটা শহর জুড়ে চোখে পড়ছে এমনই ছবি। তা নিয়ে ক্ষুব্ধ পরিবেশপ্রেমীরা। সরকারি তরফে বিষয়টি নিয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন বাসিন্দারাও।
দিনহাটার পুরপ্রধান তথা বিধায়ক উদয়ন গুহ অবশ্য ওই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান। তিনি বলেন, ‘‘প্রয়োজনে সকলের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনহাটা শহরের প্রধান সড়ক লাগোয়া এলাকা থেকে থানাপাড়া, বোর্ডিংপাড়া সব জায়গায় একই পরিস্থিতি। এ প্রসঙ্গে দিনহাটার বিজ্ঞানের শিক্ষক বিকাশ দাস বলেন, “গাছে পেরেক গাঁথা যথেষ্ট ক্ষতিকর। তাতে গাছের জাইলেম ফ্লোয়েম কণা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে উদ্ভিদের স্বাভাবিক সংবহন প্রক্রিয়াও ব্যাহত হয়। তাতে গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।”
দিনহাটার পরিবেশপ্রেমী উমাশঙ্কর সরকার বলেন, “গাছ মানুষকে রক্ষা করে আসছে। সেই গাছের গায়ে পেরেক মেরে নানা রকম প্রচারের সাইনবোর্ড লাগানো এটা পরিবেশকে ক্ষতি করার চেষ্টা। এ নিয়ে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
শহর জুড়ে এ ভাবে গাছের ক্ষতি আটকাতে একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গাছ রক্ষার দাবিতে সরব হয়েছে। একটি সংগঠনের সদস্য সঞ্জিত কর্মকার বলেন “গাছকে রক্ষা করতে ভাইফোঁটার দিন শহরের সংহতি ময়দানে গাছের গায়ে রাখি পরিয়ে মানুষকে সচেতন করা হবে।” আরেকটি সংগঠনের সম্পাদক হিটলার দাস বলেন, “পৃথিবীকে উষ্ণায়নের হাত থেকে রক্ষা করতে বৃক্ষরোপণ যেমন জরুরি, তেমনি গাছ রক্ষা করা আরও বেশি করে জরুরি। তাই সকলে মিলে গাছের গায়ে এ ভাবে আঘাত না করে তাকে রক্ষা করতে উদ্যোগী হওয়া উচিত।”