সংখ্যাগরিষ্ঠতা মিললেও খুশি নন ইংরেজবাজার পুরসভার বিদায়ী চেয়ারম্যান রাজ্যের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন দফতরের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। তাঁর আশঙ্কা, দলের অন্তর্ঘাতের ফলে তেমন ভাল ফল হয়নি। তিনি বলেন, ‘‘একক ভাবে এই প্রথম ইংরেজবাজার পুরসভায় কোনও দল বোর্ড গঠন করছে। কিন্তু আমরা একক ভাবে বোর্ড গঠন করলেও আরও কিছু আসন আমাদের দখলে থাকার কথা ছিল। তবে অন্তর্ঘাতের জন্য সেই ফল হয়নি। দলের মধ্যে কারা এমন করল, তা খতিয়ে দেখা হবে।’’
এদিকে, ইংরেজবাজার পুরসভা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় একে ভোট লুঠের ফল হিসেবে কটাক্ষ করেছেন বিরোধী দলগুলি। সিপিএমের জেলা সম্পাদক অম্বর মিত্রের অভিযোগ, ‘‘পুলিশ, প্রশাসনের মদতে তৃণমূল ভোট লুঠ করেছে। তাদের জয় ভোট লুঠের ফল। তবে যেখানে মানুষ ভোট দিতে পেরেছেন সেখানে জয়ী হয়েছেন বামপ্রার্থীরা। সঠিক ভাবে নির্বাচন হলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হত না তৃণমূলকে।’’
সন্ত্রাস করে ভোট লুঠের পরেও উল্লেখযোগ্য আসন তৃণমূল পায়নি বলে দাবি করেছেন বিজেপির জেলা সভাপতি শিবেন্দুশেখর রায়। তিনি বলেন, ‘‘ভোটের দিন তৃণমূল সন্ত্রাস করেছে। বুথ জ্যাম থেকে শুরু করে ছাপ্পা ভোট কোনও কিছুই বাদ দেয়নি। তাই এটা মানুষের রায় না। মানুষকে নিজের ভোট দিতে পারলে, বিজেপি ভালো ফল করত।’’
পুরাতন মালদহের মতো ইংরেজবাজারেও কোনঠাসা কংগ্রেস। কংগ্রেসের জেলা সভানেত্রী তথা সাংসদ মৌসম নুর বলেন, ‘‘আমরা দু’টি আসন পেয়েছি। ইংরেজবাজারে কেমন সন্ত্রাস হয়েছে, তা মানুষ দেখেছেন। শহরে দাপিয়ে বেরিয়েছে তৃণমূলের বাইকবাহিনী। ভোট লুঠ করে এই জয় পেয়েছে তৃণমূল। এই পুরবোর্ড মানুষের রায়ে গঠিত হয়নি, হয়েছে তৃণমূলের সন্ত্রাসে।’’
যদিও বিরোধীদের অভিযোগকে আমল দিতে নারাজ মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুবাবু। তিনি বলেন, ‘‘নিজেদের হার ঢাকতে এখন বিরোধীরা এমন কখা বলছেন। ইংরেজবাজারের মানুষ উন্নয়নের স্বার্থেই ভোট দিয়েছেন। আমরা সেই উন্নয়নের ধারা বজায় রাখব।’’
২০১০ সালে ইংরেজবাজার পুরসভার ২৫টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস পেয়েছিল ১১টি, তৃণমূল ৪টি, বিজেপি ২টি, বামফ্রন্ট পেয়েছিল ৭টি এবং বাম সমর্থিত নির্দল পেয়েছিল একটি আসন। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর বিজেপির দুই কাউন্সিলর যোগ দেন তৃণমূলে। কংগ্রেস ও তৃণমূল মিলে বোর্ড গঠন করে। চেয়ারম্যান হয়েছিলেন কংগ্রেসের কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী এবং ভাইস চেয়ারম্যান তৃণমূলের দুলাল সরকার।
২০১২ সালের শেষের দিকে কৃষ্ণেন্দুবাবু তৃণমূলে যোগ দেন। তার সঙ্গে আরও নয়জন কাউন্সিলর যোগ দেন তৃণমূলে। পুরবোর্ড হয়ে যায় তৃণমূলের দখলে। এবারে পুরসভার আসন সংখ্যা ২৫ থেকে হয়েছে ২৯টি। তার মধ্যে তৃণমূল পেয়েছে ১৫টি। আর বিজেপি তিনটি, বামফ্রন্ট ৭টি এবং বাম সমর্থিত ২ জন নির্দল ও কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ২টি আসন।
এবারে ইংরেজবাজার পুরসভায় কার্যকরী সভানেত্রী প্রতিভা সিংহ ভোটে হারার পরে দলে অন্তর্ঘাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘‘দলের কিছু বিশ্বাসঘাতকই আমাকে হারিয়েছে। এর বেশি কিছু আমি বলব না।’’ বিজেপি এবং বামফ্রন্টের বিগত বারের থেকে একটি করে আসন বাড়লেও আসন কমেছে কংগ্রেসের। ২২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রাক্তন চেয়ারম্যান নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি এবং ২৬ নম্বর থেকে তাঁর স্ত্রী অঞ্জুদেবী কংগ্রেসের মান বাঁচিয়েছেন।