প্রত্যেকেই চা বাগানের বাসিন্দা। কেউ শ্রমিক, কেউ তাঁদের পরিবারের সদস্য। কারও বাগান বন্ধ। কেউ-কেউ আবার বাগানের দীর্ঘ অচলাবস্থায় কর্মহীন। ফলে কাজের খোঁজে ভিন্ রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছেন তাঁরা। এসআইআরের আবহে বিধানসভা ভোট তাঁদের ফের টেনে এনেছে বাগানে। বৃহস্পতিবার সেই পরিযায়ী শ্রমিকেরদেরই ভিড় দেখা গেল বাগানের বিভিন্ন বুথে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, আলিপুরদুয়ারে এই মুহূর্তে চারটি চা বাগান বন্ধ। অচল আরও বেশ কিছু। বন্ধ বাগানের মধ্যে কালচিনির মধু চা বাগানের একটি বুথে গিয়ে দেখা গেল, ভোটারদের লম্বা লাইন। যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন স্বপন বড়াইক, আকাশ ওরাওঁরা। আকাশ পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে কাজ করেন তামিলনাডুতে। আর স্বপন গুজরাতে। স্বপনের কথায়, “বাগানে আমাদের জন্য কাজ নেই। তাই গুজরাতে কাজে গিয়েছি। কিন্তু ভোট না-দিলে নাকি তালিকা থেকে নাম কাটা পড়তে পারে বলে শুনেছি। তাই ভোট দিতে এসেছি।” আকাশের আক্ষেপ, “চা বাগানের বাসিন্দা হয়েও আলিপুরদুয়ারে কাজ করতে পারছি না। ফলে ভিন্ রাজ্যে যেতে হয়েছে। আগামী দিনে চা বাগানের ভাল হবে। সেই আশাতে ভোট দিলাম।”
আলিপুরদুয়ার চা বলয় অধ্যুষিত জেলা। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে যে চা বলয়ে থাবা বসিয়েছিল বিজেপি। মাঝে একটি বিধানসভা নির্বাচন-সহ ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনও যে ধারা বজায় রাখে গেরুয়া শিবির। কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর চা বলয় অধ্যুষিত মাদারিহাট বিধানসভার উপ নির্বাচনে অবশ্য হারতে হয় বিজেপিকে। কিন্তু এ বারের এসআইআর আবহে নির্বাচনের অনেক হিসাব উল্টে যেতে পারে বলে মত রাজনৈতিক মহলের। যদিও আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গার দাবি, “এ দিনের নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার জেলার চা বলয়ে অন্তত আশি শতাংশ জায়গায় এগিয়ে থাকবে বিজেপি।” পাল্টা তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশ চিক বড়াইক বলেন, “এসআইআর বিজেপির কাছে বুমেরাং হয়ে গিয়েছে। চা বলয়ের ভোটাররা এ দিন যার জবাব দিয়েছেন।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)