মন্ত্রী হতেই বদলে গেল ছবি। মন্ত্রী তজমুল হোসেনকে স্বাগত জানাতে শনিবার সকালে স্টেশনে দেখা গেল, তৃণমূলের অন্দরে তাঁর ‘বিপক্ষ গোষ্ঠী বলে পরিচিত একাধিক নেতা-নেত্রীকে। তজমুলের অনুগামীদের সঙ্গে জনজোয়ারে পা মেলালেন তাঁরাও। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পরে, শনিবার সকালেই হরিশ্চন্দ্রপুরে ফেরেন তজমুল। ভোর থেকেই স্টেশনে জড়ো হতে শুরু করেন দলের নেতা-কর্মীরা।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্ত্রী ফিরবেন জেনে তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল শুক্রবার বিকেল থেকেই। স্টেশন চত্বরেই বাঁধা হয়েছিল মঞ্চ। এ দিন হাটেবাজারে এক্সপ্রেস থেকে তজমুল নামতেই উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন তাঁর অনুগামীদের পাশাপাশি, দলের অন্দরে তাঁর বিপক্ষ গোষ্ঠী বলে পরিচিত একাধিক নেতা-নেত্রীও। স্টেশন চত্বরে বাঁধা মঞ্চে তজমুলকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানেই আবির খেলায় মেতে ওঠেন সকলে। এর পরে, হুডখোলা গাড়িতে করে সেখান থেকে রওনা হন তজমুল। সামনে তখন প্রায় এক হাজার মোটরবাইকের মিছিল। মিছিলের সামনে ব্যান্ডপার্টি। শহিদ মোড় হয়ে মহেন্দ্রপুর, ভবানীপুর ঘুরে গ্রামের বাড়ি বাংরুয়ায় পৌঁছান তজমুল। এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় ফুল দিয়ে মন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানান স্থানীয়দের অনেকেই।
এক সময় হাটে পোশাক বিক্রি করতেন তজমুল। পারিবারিক পোশাক বিক্রির সেই ব্যবসা এখনও রয়েছে। তবে তা বহরে বেড়েছে। ব্যবসার মাঝেই রাজনীতি শুরু করেন। সিপিএম ছেড়ে, হরিশ্চন্দ্রপুরের প্রয়াত মন্ত্রী বীরেন্দ্রকুমার মৈত্রের (বিশুবাবু) হাত ধরে ফরওয়ার্ড ব্লকে যোগ দেন। পরে, যান তৃণমূলে। তবে বরাবর মাটির কাছাকাছি থাকেন তিনি। পাশাপাশি, ২১ বছর বাদে হরিশ্চন্দ্রপুর ফের মন্ত্রী পাওয়ায় এ দিন দলের পাশাপাশি স্থানীয়দের আবেগও ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে তজমুল মন্ত্রী হওয়ার পরে, যে ভাবে এ দিন দলের অন্দরে তাঁর বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর নেতাদের তাঁকে সংবর্ধনা দিতে দেখা গিয়েছে, তাতে অনেকটাই স্বস্তিতে শাসক শিবির। তৃণমূলের হরিশ্চন্দ্রপুর অঞ্চল কমিটির চেয়ারম্যান সঞ্জীব গুপ্ত বলেন, ‘‘অনেক সময় ক্ষমতা বাড়লে, দ্বন্দ্ব আরও বাড়ে। কিন্তু হরিশ্চন্দ্রপুরে উল্টো ছবি দেখে অনেকটাই স্বস্তি হচ্ছে।’’
আর তজমুল এ দিন বলেন, ‘‘আমি সব সময় মানুষের পাশে ছিলাম। এখন দিদি (তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) বড় দায়িত্ব দিয়েছেন। ফলে, মানুষের পাশে থেকে আরও ভাল করেকাজ করব।’’