উত্তর সিকিমে ধস। সদ্য তৈরি করা সেতুর একাংশ ভেঙে পড়েছে হুড়মুড়িয়ে। তার ফলে লাচেনের সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। রাস্তা বন্ধ রেখে উদ্ধারকাজ চলছে। বহু পর্যটক আটকে পড়েছেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সিকিম এবং উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় দুর্যোগ চলছে। ঝড়বৃষ্টি লেগেই আছে। সিকিমে তুষারপাতও হচ্ছে ঘন ঘন। আবহাওয়ার কোনও প্রভাব সেতুর উপর পড়েছে কি না, স্পষ্ট নয়।
উত্তর সিকিমের লাচেনে তাড়ামচু এলাকায় সম্প্রতি সেতু তৈরি করা হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তার উদ্বোধন হয়। এই সেতুর মাধ্যমে সিকিমের পার্বত্য এলাকায় পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত কিছুটা সুগম হয়েছিল। কিন্তু এক মাসের মাথায় সেই সেতুর একাংশ ধসের কবলে। অনির্দিষ্ট কালের জন্য লাচেনের একটি অংশের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। চুংথাং থেকে লাচেনের দিকে যাওয়ার রাস্তা আপাতত সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সে দিকে শতাধিক পর্যটক রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। রাস্তার বরফ সরিয়ে পর্যটকদের উদ্ধারের কাজে হাত লাগিয়েছে সেনা, ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশ, বর্ডার রেড অর্গানাইজ়েশনের আধিকারিকেরা।
আরও পড়ুন:
পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছে সিকিম প্রশাসন। রবিবার সেতু বিপর্যয়ের পর তাদের তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়, আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে উত্তর সিকিমের পর্যটকদের অন্যত্র সরানোর ব্যবস্থা করা হবে। আপাতত তাঁদের গ্যাংটকের দিকে নিয়ে আসাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। জানা গিয়েছে, একাংশ ধসে গেলেও সদ্য তৈরি সেতুটির বাকি অংশ তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে পর্যটকদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উত্তর সিকিমে লাচুং থেকে ইয়ুমথাং উপত্যকা বা জ়িরো পয়েন্টের দিকে যাওয়ার রাস্তা স্বাভাবিক রয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে টানা তুষারপাতের কারণেই সিকিমে এখন পর্যটকদের আনাগোনা বেশি। বিশেষত উত্তর সিকিমে বহু মানুষ ভিড় করেছেন। তবে আবহাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে চিন্তিত প্রশাসন। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড টুরিজ়ম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক্সের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘‘ঠিক কত জন পর্যটক আটকে রয়েছেন, তার সঠিক হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি। তবে আমাদের অনুমান, বহু মানুষ উত্তর সিকিমে আটকে পড়েছেন। আমরা প্রতিনিয়ত সিকিম প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। পর্যটকদের কী ভাবে নিরাপদে উদ্ধার করা যায়, সেই চেষ্টা চলছে।’’