শিশুকন্যার জন্ম দিয়ে হাসপাতাল থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন মা। হাসপাতালের নথি ঘেঁটে ঠিকানা উদ্ধার করে তাঁকে ফিরিয়ে আনা হলে কর্তৃপক্ষকে তিনি লিখিত ভাবে জানিয়েছেন সদ্যজাত কন্যাকে পালনে তিনি অক্ষম। তবে পাশাপাশি তিনি এও জানান, ওয়ার্ডের এক আয়াই তার শিশু কন্যাটি অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য বেশ কয়েক হাজার টাকা দেওয়ারও প্রস্তাব দেয়। তা নিয়ে কথাবার্তাও চলছে। মায়ের এই স্বীকারোক্তিতে শনিবার দুপুরে কার্যত হইচই পড়ে যায় আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে । খোঁজ শুরু হয়েছে অভিযুক্ত আয়ার।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৯ এপ্রিল আলিপুরদুয়ার শহরের বাসিন্দা ওই মহিলা প্রসূতি বিভাগে ভর্তি হন। ওই দিনই তিনি একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। ১৬ এপ্রিল বাড়ি থেকে টাকা আনতে যাবার নাম করে বেড়িয়ে আর ফিরে আসেননি। বিষয়টি জানা মাত্র হাসপাতালের পরিষেবা আধিকারিক অভিজিৎ দাস সুপারকে বিষয়টি জানান। আলিপুরদুয়ার থানায় ওই মহিলার নাম ঠিকানা জানানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দু’দিন ওই ঠিকানায় গিয়ে ঘরে তালা দেখে ফিরে আসে পুলিশ। শনিবার ফের অভিযান চালিয়ে পলাতক মায়ের হদিশ মেলে।
ওই মহিলা জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী ছয় সাত মাস আগে তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। তাঁর আট বছরের এক ছেলে রয়েছে। কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ার তাঁকে পালনে তিনি যে অক্ষম তা আয়াদের জানিয়েছিলেন। সেই সময় এক আয়া একটি পরিবারের হাতে শিশুটিকে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। বিনিময়ে কিছু টাকা দেওয়ার কথাও বলে।
আলিপুরদুয়ার হাসপাতালের সুপার চিন্ময় বর্মন বলেন, “মারাত্মক অভিযোগ। তবে ওই মা যে তাঁর শিশু কন্যাকে নিতে চাননি বিষয়টি আমাদের লিখিত ভাবে জানিয়েছে। শিশুটিকে জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিকের হাতে তুলে দেব। বিষয়টি জানার পর প্রসূতি বিভাগের কোন আয়া এই প্রস্তাব দিয়েছে তার খোঁজ করছি। তাঁর বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, অভিভাবক মঞ্চের সম্পাদক ল্যারি বসু জানান, অভিযোগ গুরুতর। সরকারি হাসপাতাল থেকে সদ্যোজাতকে টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে। দ্রুত এই চক্র ভেঙে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।