Advertisement
E-Paper

Mon Ghising and Ajay Edward: অজয়ের আলো থেকে দূরে আঁধারে মন

লাদাখ থেকে দার্জিলিঙের সভাপতির পদ এবং দল ছাড়ার কথা বলে বন্ধুকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দেন অজয়।

কৌশিক চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২২ ০৭:৫৪
পাহাড়-সূত্র: (বাঁ-দিক থেকে) অজয় এডওয়ার্ড ও মন ঘিসিং।

পাহাড়-সূত্র: (বাঁ-দিক থেকে) অজয় এডওয়ার্ড ও মন ঘিসিং। নিজস্ব চিত্র।

তিন দশকের বন্ধুত্ব। ভেঙে গেল তিন মাস আগে। তার পরে এক জনের উত্থান। অন্য জন আপাতত দোর বন্ধ করে অন্ধকারে।

ঘর তাঁর আঁধার হবে না-ই বা কেন? আড়াই বছর আগে উপনির্বাচনে তিনি এক জন বিধায়ক পেয়েছিলেন। যদিও খাতায়কলমে সেই বিধায়ক বিজেপির। গত বছর বিধানসভা ভোটে ফের তিনি সেই বিধায়ককে পেলেন, যদিও এ বারেও খাতায়কলমে বিধায়ক আসলে বিজেপির। তার পরে কিন্তু ক্ষোভ, কিছু মন কষাকষি জমেছিল বিজেপির সঙ্গে। সে সব পেরিয়ে দার্জিলিং পুরভোটে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজেপির সঙ্গে ফের জোট করলেন তিনি। কিন্তু এ বারে ফল? আসনের নিরিখে শূন্য। ভোটের নিরিখে মোটে ২৬১১।

তিনি মন ঘিসিং। সুবাস ঘিসিংয়ের ছেলে এবং জিএনএলএফের প্রধান।তাঁর বন্ধু কিন্তু অন্ধকার থেকে আলোয়। তিন মাস আগে তিনি মনের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছেদ করে নিজের দল গড়েন। তার পর থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানো কাজে আলাদা করে জোর দিয়েছেন তিনি। সম্পর্ক তৈরি করা, নতুন প্রজন্মের চিন্তাভাবনা নিয়ে এসেছেন নতুন দলে। তার জেরেই বাজিমাত করেছেন অজয় এডওয়ার্ড। পাহাড়ের লোকজন এখন বলছেন, অজয়ের থেকে মন এই ব্যাপারে কোটি কোটি মাইল পিছিয়ে।

অজয় নিজে মোটে পাঁচ ভোটে হেরেছেন। কিন্ত তাতে কী! একে তো দার্জিলিং পুরসভার নতুন চেয়ারম্যান কে হবেন, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। তার পরে শুরু হয়েছে নানা কাজ। অজয়ের বক্তব্য, ‘‘আমি হারকে মাথা পেতে নিয়েছি। আসলে মনে হয়, দার্জিলিঙের বাইরে কাজের জন্য ভাগ্য আমাকে নিয়ে যাচ্ছে। কালিম্পং, কার্শিয়াং ও মিরিকেও এ বার দলের কাজ করতে হবে।’’

দু’জনের মন কষাকষির শুরুটা হয়েছিল বিধানসভা ভোটের আগে, জিএনএলএফের প্রার্থী বাছাই নিয়ে। অজয় প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন দার্জিলিং কেন্দ্র থেকে। কিন্তু দল টিকিট দিয়েছিল বিজেপির পছন্দের নীরজ জিম্বাকে। তার পরেও বন্ধুর হাত ছাড়েননি অজয়। পাহাড়ে তো তাঁদের দু’ভাই বলেই জানত। বড় অজয়, ছোট মন। অজয়ের ঘনিষ্ঠমহল অবশ্য বলছে, ২০১৫ সালে যখন সুবাস ঘিসিং মারা যান, তখন অজয়রাই মনকে বুঝিয়ে দলের দায়িত্ব নিতে রাজি করান। রাজ্য সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে চলছিল দল। ২০১৭ সালে বিমল গুরুং পরবর্তী সময়ে হিল ডেভেলপমেন্ট বোর্ড গড়ে মাথায় মনকে বসান মুখ্যমন্ত্রী। ছিলেন অজয়ও। এক বছরের মধ্যে সিদ্ধান্ত বদল। মন বোর্ড ছেড়ে আসেন। তার পরেই বিধানসভা ভোটে সাফল্য।

গত অগস্টে দিল্লিতে অজয়কে পাঠিয়েও হঠাৎই নীরজ জিম্বাকে নিয়ে আলাদা করে অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে যান মন। এখানেই সম্পর্কে ইতি। ক’দিন পর লাদাখ থেকে দার্জিলিঙের সভাপতির পদ এবং দল ছাড়ার কথা বলে বন্ধুকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দেন অজয়।

আর এখন? অজয়ের ঘরে যখন রোশনাই, শুক্রবার জাকির হোসেন রোডের বাড়ি তখন চুপচাপ।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy