মিছিলের সময় নিয়ে গণ্ডগোলের শুরু। তা নিয়েই শুরু হয় মারামারি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মালবাজার বিধানসভার চেংমারি গ্রাম প়ঞ্চায়েতের গোলাবাড়ি এলাকায় এই ঘটনায় দু’পক্ষের মোট ছ’জন জখম হন।
ক্রান্তি ফাঁড়িতে অভিযোগও দায়ের করে দু’পক্ষ। চেংমারিতে এ দিন বিকাল ৩টে থেকে ৪টে পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি ছিল তৃণমূলের। ৫ থেকে ৬টা পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল সিপিএমকে। সিপিএমের অভিযোগ, সাড়ে পাঁচটা বেজে গেলেও তৃণমূলের মিছিল শেষ হচ্ছিল না। মিছিলের নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাচ্ছে দেখে পুলিশকে জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। বরং তৃণমূলের মিছিল শেষের পরেই পুলিশ তাঁদের মিছিল করতে বলে। এরপরেই গোলাবাড়ি এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল কার্যালয়ের কাছে হাতাহাতি শুরু হয়। ঢিলও ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। জখম সবাইকেই জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সিপিএমের মালবাজার জোনাল কমিটির সম্পাদক মিন্টু রায় বলেন, ‘‘তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে গোলমাল বাঁধিয়েছে। পুলিশ চাইলেই এই গোলমাল এড়াতে পারত।’’ ক্রান্তি ফাঁড়ি এবং নির্বাচনী জেলা কার্যালয়েও অনলাইনে পুরো ঘটনার কথা জানিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে বলে
জানান তিনি।
অন্য দিকে, সিপিএমের ঘাড়েই গোলমালের দায় চাপিয়েছে তৃণমূল। জেলা তৃণমূলের নেতা পঞ্চানন রায় জানান, তৃণমূলের মিছিল নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হয়ে গিয়েছিল। মিছিল শেষের পর গোলাবাড়ির দলীয় কার্যালয়ের বাইরে ও ভেতরে কর্মীরা জমায়েত করেছিলেন। সে সময় অন্য পথ দিয়ে সিপিএম মিছিল না ঘুরিয়ে তৃণমূলের কার্যালয়ের পাশ দিয়েই যাবে বলে দাবি করে। তা নিয়েই গোলমাল বাধে। চেংমারি অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি ভবেন রায়ও ক্রান্তি ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মালবাজারের সার্কেল ইন্সপেক্টর সমীর পাল জানান, এলাকায় যাতে আর নতুন করে কোনও গোলমাল না বাধে তার জন্যে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বাড়তি নজরও রাখা হয়েছে। মালবাজার বিধানসভার চেংমারি গ্রাম পঞ্চায়েত বরাবরই সিপিএমের শক্ত দুর্গ। কিন্তু এবারে তৃণমূল সেখান থেকে লিড আদায় করতে মরিয়া। দু’ পক্ষেরই সাংগঠনিক শক্তি প্রায় সমান সমান। তাই উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এলাকায়।