পুরোপুরি সুস্থ নন অশীতিপর আব্দুল করিম চৌধুরী। অসুস্থতার কারণে দেখা করেন না সাধারণ মানুষের সঙ্গে। সরকারি অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে ‘ডাকা হয় না’ অভিযোগ তুলে সে ভাবে তাঁকে দেখা যেত না। তাই কি তিনি টিকিট পেলেন না, প্রশ্ন উঠেছে। করিম কী করবেন তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে ছিলেন করিম। শুধু তাই নয়, উত্তরবঙ্গ থেকে তিনিই প্রথম তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী হন। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের সময় মন্ত্রী করা হয়েছিল করিমকে। ২০১৬ সালের তৎকালীন কংগ্রেস নেতা কানাইয়ালাল আগরওয়ালের কাছে পরাজিত হন তিনি। ২০১৭ সালে তৃণমূলের যোগ দেন কানাইয়া। সে-সময় গোষ্ঠীকোন্দল শুরু হলে দল ছেড়ে নতুন দল তৈরি করেন করিম। ২০১৯ সালে দলে ফিরিয়ে প্রার্থী করা হয় করিমকে। জয়ী হন তিনি। ২০২১ সালেও জয়ী হন করিম। কিন্তু জাকির হোসেনকে ব্লক সভাপতি করা নিয়ে কানাইয়া করিমের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। ছেলেকে ব্লক সভাপতি করতে চেয়েছিলেন করিম। এ বার প্রার্থী করা হয় কানাইয়াকে। তা নিয়ে করিমের অনুগামীদের মধ্যে ক্ষোভ জন্মেছে। বর্তমানে করিম কলকাতায়। তাঁকে একাধিক বার ফোন করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। করিম-ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, অসুস্থতার কারণে তিনি ফোন ধরছেন না। তাঁর ছেলে ইমদাদ চৌধুরী এই নিয়ে কোনও রকম মন্তব্য করতে চাননি।
টিকিট পেয়ে কানাইয়া বলেন, ‘‘দল ওঁকে টিকিট দেয়নি। দলের সিদ্ধান্ত সবাইকে মেনে নিতে হবে।’’ মন্ত্রী গোলাম রব্বানি এ দিন বলেন, ‘‘করিম সাহেবের বয়স হয়েছে। উনি দলকে ভালবাসেন। উনি দল ছেড়ে যাবেন না। মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী ঘোষণার সময় বলেছিলেন অনেক বিধায়ককে প্রার্থী করতে পারেননি। তবে তাঁদের জন্য ভাল জায়গা করে রেখেছেন।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)