উদয়ন গুহকে প্রার্থী না করা হলে, দ্বিতীয় পছন্দ কে? দিনহাটা বিধানসভার উপনির্বাচন নিয়ে কোচবিহার জেলার তৃণমূলের ছোট-বড়-মাঝারি নেতাদের সে কথা জিজ্ঞাসা করছে ‘টিম পিকে’। কেউ তা শুনে ঘাবড়ে যাচ্ছেন। কেউ নিজের পছন্দের নামও প্রস্তাব করছেন। তা নিয়েই শুরু হয়েছে গুঞ্জন। তা হলে কি এ বার দিনহাটায় প্রার্থী বদলের কথা ভাবছে তৃণমূল? না কী নিছকই ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের গভীরতা’ মাপতে চাইছে টিম পিকে?
উদয়ন বলেন, “আমার সঙ্গে এমন কোনও বিষয়ে কথা হয়নি। ওঁরা (টিম পিকের সদস্য) চাকরি করছে। ওঁরা ওঁদের কাজ করবেন। তা নিয়ে আমি মাথা ঘামচ্ছি না।” কোচবিহার জেলা তৃণমূলের সভাপতি গিরীন্দ্রনাথ বর্মণ বলেন, “প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দলীয় নেতৃত্ব নেবেন। তার বাইরে আমার কিছু জানা নেই।”
দিনহাটা এক সময় কমল গুহের খাসতালুক বলেই পরিচিত ছিল। তাঁর মৃত্যুর পরে উদয়নের ‘গড়’ হয়ে ওঠে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে উদয়ন ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। ওই বছর তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হন। তিন বছর যেতে না যেতেই উদয়নের গড়ে থাবা বসান নিশীথ প্রামাণিক। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দিনহাটা বিধানসভা থেকে ‘লিড’ নিয়ে কোচবিহার লোকসভা আসনে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী নিশীথ। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনেও দিনহাটা কেন্দ্র থেকে উদয়নকে ৫৭ ভোটে হারিয়ে দেন তিনি। পরে অবশ্য বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন নিশীথ। কিন্তু উদয়নের হারে দিনহাটা থেকে একাধিক প্রশ্ন উঠে আসে। দলীয় সূত্রেই জানা গিয়েছে, পর্যালোচনায় উঠে এসেছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, তফসিলি ভোট, সংখ্যালঘু ভোট। আর এ বারে সে সব মেপেই পা ফেলতে চাইছে তৃণমূল। তাতেই উদয়নের বাইরে একাধিক নাম নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
অনুগামীদের দাবি, উদয়নই সব দিক থেকে যোগ্য প্রার্থী। তিনি তৃণমূলকে ওই বিধানসভায় শক্তিশালী করেছেন। উদয়ন বিরোধীদের অবশ্য দাবি, তিনি সবাইকে নিয়ে চলতে পারছেন না। সে জন্যেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বাড়ছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কোচবিহার জেলার তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, “টিম পিকে আমাকে প্রথম পছন্দ ও দ্বিতীয় পছন্দের কথা জিজ্ঞাসা করেছিল। সব দিক চিন্তা করেই নিজের পছন্দের প্রার্থীর নাম জানিয়েছি। তাঁরা তা লিখে নিয়েছেন।” অঞ্চল স্তরের এক নেতা বলেন, “আমাকেও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। বলেছি, প্রার্থী যাকে খুশি তাঁকে করুন, দ্বন্দ্ব যাতে না হয় তা দেখুন।”