Advertisement
E-Paper

উত্তরের কড়চা

সদ্য শেষ হল ধুপগুড়ি ২৯তম বইমেলা। ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে বইমেলার উদ্বোধন করেন লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ বিমলেন্দু মজুমদার। ২৩ থেকে ২৯ মার্চ সাত দিন ধরে চলে নানা স্বাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রথম দিন সান্ধ্য অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল ‘মুখর বসন্ত’। বসন্ত ঋতুর ওপর সংলাপ পাঠ করেন উৎপল ও দেবযানী চৌধুরী। ছিল নূপুর নিক্কণ নৃত্যালয়ের সমবেত নৃত্য। দৃষ্টিনন্দন বিভু নৃত্য পরিবেশন করেন শিশুশিল্পী ভূপালি বাকালি।

শেষ আপডেট: ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ০৩:৪৫

ধূপগুড়ি বইমেলায় লোক টানল নানা অনুষ্ঠানও

সদ্য শেষ হল ধুপগুড়ি ২৯তম বইমেলা। ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে বইমেলার উদ্বোধন করেন লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ বিমলেন্দু মজুমদার। ২৩ থেকে ২৯ মার্চ সাত দিন ধরে চলে নানা স্বাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রথম দিন সান্ধ্য অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল ‘মুখর বসন্ত’। বসন্ত ঋতুর ওপর সংলাপ পাঠ করেন উৎপল ও দেবযানী চৌধুরী। ছিল নূপুর নিক্কণ নৃত্যালয়ের সমবেত নৃত্য। দৃষ্টিনন্দন বিভু নৃত্য পরিবেশন করেন শিশুশিল্পী ভূপালি বাকালি। রবীন্দ্রনাথের বসন্তের গান গেয়ে শোনান তাপসী হার। ‘চেতনায় স্বদেশ ও সময়’ এবং ‘সোনালি অতীত’ শীষর্ক অনুষ্ঠান ছিল বইমেলার দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন। স্বদেশ বিষয়ক গানে দ্বিতীয় দিন সান্ধ্য অনুষ্ঠান সূচনা করেন বৈরাতিগুড়ি হাইস্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। আধুনিক কবিদের কবিতা পাঠ শোনা যায় দীপ চৌধুরীর কণ্ঠে।

সোমা চক্রবর্তীর পরিচালনায় পরিবেশিত হয় নৃত্যালেখ্য ‘জননী জন্মভূমি’। গান গেয়ে শোনান সুবীর চক্রবর্তী, সুজাতা রায় কর্মকার ও অনামিকা নন্দী। তৃতীয় দিন, দু’ দশক ধরে সংস্কৃতিকে যাঁরা ধরে রেখেছেন তাঁরা যোগ দেন। উত্তরবঙ্গের লোকসংস্কৃতির টুকরো নমুনা দেখা যায় চতুর্থ দিনের সাংস্কৃতিক মঞ্চে। লোকগীতি গেয়ে মাটির সুরের সুবাস ছড়িয়ে দেন সুমিত্রা রায়, তুলেন রায়, রাখি রায়। ছিল সিঞ্চন নৃত্যালয়ের পরিবেশন। ২৭ মে বিশ্ব নাট্য দিবসকে সামনে রেখে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ডালি। ভোর একাদেমির ছাত্রছাত্রীরা মঞ্চস্থ করে নাটক ‘অতিথি সৎকার’। ছিল সুদীপ্ত মির্ধা ও প্রকাশ ব্রহ্মের একক অভিনয়। শ্রুতি নাটক ‘পূর্ণ আকাশ’ মনোগ্রাহী পরিবেশন। অংশ নেন অমিত কুমার দে ও পপি দে। শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল ২৮ মে। গান শোনান দিশা কর ও সৃষ্টি চক্রবর্তী। দেবাঙ্গন চৌধুরীর কণ্ঠে শোনা যায় আবৃত্তি। ‘নানান বর্ণে’ ‘নানান ছন্দে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানটি ছিল বইমেলার শেষ দিনে। ছিল মঞ্জির নৃত্য গোষ্ঠীর পরিবেশিত নৃত্য। সঙ্গীত পরিবেশন করেন পুষ্পিতা মণ্ডল, দীপ্তিমান পতি ও সুস্মৃতি কর। সার্ধশতবর্ষে ঠাকুর প়ঞ্চানন, লিটল ম্যাগাজিন, ডুয়ার্সের বন ও বন্যপ্রাণী, বিশ্বনাট্য দিবস শীর্ষক আলোচনার আসরও বসেছিল বইমেলা প্রাঙ্গণে।

নাটকের বুলেটিন জলপাইগুড়িতে

বিশ্বনাট্য দিবসে ‘জলপাইগুড়ি নাট্যচর্চা কেন্দ্র’ প্রকাশ করল নাটকের বুলেটিন (সম্পাদনা : গৌতম গুহরায় এবং তমোজিৎ রায়)। ওয়ালিকোয়াস্কির নাট্যবার্তা অনুবাদের পাশাপাশি বিশ্বনাট্য দিবসের ভাবনার কথা জানিয়েছেন গৌতম গুহ রায়। থিয়েটার সংবাদ বিষয়ে স্থান পেয়েছে জলপাইগুড়ির নাট্য উৎসব-২০১৫ এবং মূকাভিনয় বিষয়ে কর্মশালা। রয়েছে সময়ের কথা। স্মরণ পর্বে ব্রেখটের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। সংযোজিত রচনাগুলি নিঃসন্দেহে মূল্যবান। নাটক বুলেটিন প্রকাশ শহরের প্রথম প্রয়াস তো বটেই, শহর-সংস্কৃতির একটুকরো প্রতিচ্ছবিও।

বিশ্ব নাট্য দিবস

২৭ মার্চ বিশ্বনাট্য দিবস পালন করল জলপাইগুড়ির সম্মিলিত নাট্য দল। সমাজপাড়ায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন নাট্যসংস্থা ‘কলাকুশলী’। যৌথ ভাবে জলপাইগুড়ি নাট্যচর্চা কেন্দ্রের বুলেটিন প্রকাশ করলেন সরিৎ চক্রবর্তী এবং মনোজিৎ রায়। শোনা গেল ডালিয়া চৌধুরীর ‘নাটকের গান’ এবং দীপঙ্কর রায়ের আবৃত্তি। ‘সৃষ্টি মাইম’-এর মূকাভিনয় ‘রেপ শেম শেম’, বাঁচব বাঁচাব-র নাটক, চণ্ডালিকার সঙ্গে চিত্তপট, সূচনা পথনাটক গোষ্ঠী, একলব্য নাট্য সংস্থা, দপর্ণ এবং কলাকুশলী দর্শকদের উপহার দিল নানা স্বাদের নাটক। মুক্ত আকাশের নীচে অভিনীত নাটকও যে উৎকর্ষতার শিখরে পৌঁছাতে পারে, বিভিন্ন সংস্থার কলাকুশলীরা তারই স্বাক্ষর রেখে গেলেন।

পশুপাখির ছড়া

“নতুন ছড়া লেখা বেশ কঠিন কাজ। বিশেষ করে যদি তার কোনও বিষয়বস্তু থাকে।” কাজটা আরও কঠিন হয়ে যায় যদি ছড়াকার পেশায় চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ হন। কিন্তু, নিরঞ্জন হালদার সেই কঠিন কাজ অনায়াস দক্ষতায় সহজ করে ফেলেছেন তাঁর “পশুপাখি ভালোবাসি”তে। ছড়াকারের মুন্সিয়ানায়, ছড়ার সঙ্গে মিশে গেছে, বিভিন্ন পশুপাখির সম্পর্কিত অজস্র তথ্য। একই সঙ্গে তাঁর ছড়া পশুপাখিকে ভালবাসতে শেখায়। সংকলনের প্রতিটি পৃষ্ঠা ছড়ার সঙ্গে সেজে উঠেছে সুন্দর সব ছবিতে। ছোটদের তো বটেই তাঁর ছড়া মুগ্ধ করতে পারে বড়দেরও।

শিক্ষা নিয়ে আলোচনা

বেসরকারিকরণের ফলে উৎকর্ষতা বাড়লেও অনেক বিএড কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে ফি বৃদ্ধি হয়েছে। কিন্তু সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি। বর্তমানে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এগারোটি বিএড কলেজ রয়েছে। শিক্ষকতার জন্য শিক্ষণ ডিগ্রি আবশ্যিক। অথচ সরকার অনুমোদিত কলেজের সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় ছাত্র ছাত্রীরা ভিড় জমাচ্ছেন বেসরকারি কলেজগুলিতে। এই ধরণের হাজারো সমস্যার কথা উঠে এল ‘টিচার এডুকেশন ইন দ্য টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি: আ চ্যালেঞ্জ টু কোয়ালিটি এডুকেশন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক আলোচনা সভায়। দুদিনের এই আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল কোচবিহারের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ কলেজ অফ এডুকেশন। অংশ নেন অধ্যাপক শক্তিপদ পাত্র, বাংলাদেশের শিক্ষাবিদ আবুসালাহ সেকেন্দার, ভূটানের শিক্ষাআধিকারিক এইচ বি বিশ্ব, সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।

মলয় স্মৃতিতে নাট্যোৎসব

নাট্যকার মলয় ঘোষের স্মরণে ৫ দিন ধরে নাট্যোৎসবের আয়োজন করেছিল শিলিগুড়ির ‘ঋত্বিক’ নাট্যগোষ্ঠী। ১৯ মার্চ থেকে শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চে ওই উৎসব হয়। মলয়বাবুর উদ্যোগেই তৈরি হয় ‘ঋত্বিক’। সম্প্রতি তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সংস্থার পক্ষ থেকে ওই উৎসবের আয়োজন করা হয়। প্রথম দিন বাংলাদেশের ঢাকার নাট্যদলের ‘লাল জমিন’ (শূন্যন প্রয়োজনা), মলয়বাবুর লেখা ‘স্বাধীনতা’ মঞ্চস্থ হয় পরদিন (ঋত্বিক)। তৃতীয় দিন গোবরডাঙার ‘চৈতন্য চে’ (শিল্পায়ন), চতুথর্ দিন মালদহের ‘গম্ভীরা গম্ভীরা’ (মালঞ্চ)। সমাপ্তির দিনে বালুরঘাটের নাট্যদলের ‘পদভূষণ’ (নাট্যকর্মী) মঞ্চস্থ হয়।

চলো বেড়াই, ডুয়ার্স-তরাই

মৌচুকি কতটা মোহময়ী, প্যারেন কেন স্বপ্নপুরী, ঘরের কাছে আরশিনগরে গেলে কী অভিজ্ঞতা হবে? ‘চলো বেড়াই, ডুয়ার্স তরাই’ শীর্ষক নতুন বই-এ মিলবে এমনই নানা চিত্তাকর্ষক বিবরণ। সম্প্রতি অভিযান পাবলিশার্সের এই বইটি প্রকাশিত হয়েছে। লেখক শিলিগুড়ির গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্য। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গৌরীশঙ্করবাবুর পায়ের তলায় যেন সর্ষে। অন্তত তাঁর পরিচিতরা তেমনই মনে করেন। দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানো নেশা। উত্তরের বনভূমি, পাহাড়, নদী, ঝর্ণা, পশুপাখি বরাবরই টানে তাঁকে। জ্যোৎস্না রাতের খয়েরবনি থেকে রামসাইয়ের নিসর্গ। যেখানে মিলবে পিপিং মহাকালের পথের বর্ণনাও। শিলিগুড়ির উপকণ্ঠের চমকডাঙ্গি কেন চমৎকার সেটাও বোঝানোর চেষ্টা করেছেন প্রবীণ পর্যটক।

শিলিগুড়িতে বিশ্ব কবিতা দিবস

বিশ্ব কবিতা দিবস উদযাপন হল শিলিগুড়িতে। পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সঙ্ঘের শিলিগুড়ি শাখার উদ্যোগে হকার্স কর্নারে সংগঠনের ঘরে নিখিলরঞ্জন সরকারের গানে সূচনা হয়। পরে কবিতা দিবসের বার্তা পাঠ করেন অমিতাভ কাঞ্জিলাল। গুজরাতি কবিতার অনুবাদ পাঠ করেন দেবাশিস চক্রবর্তী। হিন্দি কবিতা পাঠ করেন ওমপ্রকাশ পান্ডে। বাংলা কবিতা পাঠ করেন বিপুল দাস, শুভ্রা চক্রবর্তী (বিশ্বাস), পল্লবকান্তি রাজগুরু, শবরী শর্মা রায়-সহ অনেকে। দিনটি সম্পর্কে আলোচনা করেন নন্দদুলাল দেবনাথ ও সঞ্জীবন দত্তরায়।

news of north Bengal Tales of North Bnegal Uttorer karcha cultural news of uttarbanga
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy