মনোনয়ন কাণ্ডের জেরে তৃণমূলের নির্বাচনী কমিটি থেকে সরে দাঁড়ালেন জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির প্রাক্তন সভাপতি চন্দন ভৌমিক। শনিবারই দলের নির্বাচনী কমিটির বৈঠকের শুরুতে চন্দন প্রশ্ন তোলেন, কার নির্দেশে নির্দল প্রার্থীকে মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দিল প্রশাসন? চন্দনের সুরেই পরে সভার অন্যান্য বক্তারা প্রশ্ন তোলেন। জেলা তৃণমূল সভাপতি মহুয়া গোপ দাবি করেন, তিনিও সম্পূর্ণ অন্ধকারে। চন্দন জানিয়েছেন, দলের থেকে উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত তিনি নির্বাচনী কমিটিতে থাকবেন না।
দুটি প্রশ্ন দলের কাছে রেখেছেন চন্দন। দলের কোন নেতার নির্দেশ প্রশাসন বারবার মনোনয়ন দিতে বাধা দিয়েছে বিক্ষুব্ধ নির্দল প্রার্থী শেখর বন্দ্যোপাধ্যায়কে। দ্বিতীয়ত, প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দলকে বলতে হবে, কেন তারা হঠাৎ নির্দল প্রার্থীর ক্ষেত্রে অতিসক্রিয় হয়ে উঠল?
দুই প্রশ্নের উত্তরে সন্তুষ্ট হলেই চন্দন ফের দলের নির্বাচনী কমিটিতে ফিরবেন বলে জানান। চন্দন বলেন, “আমাদের জানতে হবে দলের কারও নির্দেশে জলপাইগুড়ির মতো সৌজন্য সংস্কৃতির শহরের রাজনীতির বাতাবরণ দূষিত হচ্ছে না তো! আমি দলের কাছে দুটি প্রশ্ন রেখেছি। দুই প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব না পেলে আমার পক্ষে নির্বাচনী কমিটিতে কাজ করা সম্ভব নয়।” দলের জলপাইগুড়ি জেলার কোঅর্ডিনেটর সৌরভ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, আজ সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিলিগুড়িতে এলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলবেন।
এ দিকে, আজ সোমবার হাইকোর্টে হাজিরা দেবেন জলপাইগুড়ির সদর মহকুমাশাসক সুদীপ পাল। তাঁকে সশরীরে হাজিরা দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। গত মঙ্গলবার নির্দল হিসেবে মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে প্রথমবার পুলিশের কাছে বাধা পান বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা শেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তা নিয়ে সে দিনই হাইকোর্টে মামলা রুজু হয়। বুধবার সকালে মনোনয়ন দিতে গেলে ফের পুলিশ শেখরকে বাধা দেয় এবং জিপে তুলে নিয়ে মনোনয়ন কেন্দ্র থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। সে দিন দুপুরে হাইকোর্টে মামলার শুনানি হয় এবং হাইকোর্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দেয় মনোনয়নের ব্যবস্থা করার। তার পরেও মনোনয়নে পুলিশ বাধা দেয় বলে অভিযোগ। আজ ফের মামলার শুনানি রয়েছে।