দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় দুই নতুন অতিথি। এক জন ছেলে, অন্য জন মেয়ে! গায়ের রঙ সাদা, তার উপর কালো ছোপ ছোপ। কয়েক ইঞ্চির দৈর্ঘ্যের এই দুই সন্তানকে নিয়েই মেতে রয়েছে তাদের মা। একটি ঘরের মধ্যে এক সঙ্গে রয়েছে তিন জন। দুরন্ত দুই সন্তানকে সামলাতে সামলাতে দিন কাটছে মায়ের!
দুই সদ্যোজাতের বয়স এক দিন। শনিবারই দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় জন্ম হয়েছে তাদের। কিন্তু দেখে বোঝার উপায় নেই। কখনও লাফাচ্ছে, কখনও আবার মায়ের পিছন পিছন ঘুরে বেড়াচ্ছে, আবার কখনও নিজেদের মধ্যেই খুনসুটিতে ব্যস্ত। আর তাদের নিয়েই দার্জিলিঙের চিড়িয়াখানায় তৎপরতা তুঙ্গে।
শনিবার চিড়িয়াখানায় জন্ম হয় দুই তুষার চিতাবাঘের (স্নো লেপার্ড)। সূত্রের খবর, দু’জনকেই বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাদের মা যখন থেকে সন্তানসম্ভবা হয়েছিল, তখন থেকেই তাকে আলাদা করে রাখা হয়। ২৪ ঘণ্টা পর্যাপ্ত খাবার এবং চিকিৎসা দেওয়া হত। বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা জানান, বন দফতরের নজরদারিতেই রাখা হয়েছে মা এবং তার সন্তানদের। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলেই তাদের ছাড়া হবে।
বন দফতর সূত্রে খবর, সদ্যোজাতদের ধরে দার্জিলিঙের চিড়িয়াখানায় তুষার চিতাবাঘের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় এখন চারটি পুরুষ এবং সাতটি মহিলা তুষার চিতাবাঘ রয়েছে।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, দার্জিলিঙেই গড়ে উঠছে ‘বরফের চিড়িয়াখানা’। দেশের মধ্যে আর কোথায় এমন চিড়িয়াখানা নেই। সেখানে রেড পান্ডা থেকে তুষার চিতাবাঘ— সবই দেখা যাবে। এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ‘চিফ ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন’ দেবল রায় বলেন, ‘‘ডিএনএ সংরক্ষণ করার একটা প্রচেষ্টা। আমরা বন্য পশুদের নমুনা সংগ্রহ করছি। যদি কোনও জন্তু স্বাভাবিক ভাবে মারা যায় বা অকালমৃত্যু ঘটে তা হলে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলিকে এ ভাবে সংরক্ষণ করা হবে।’’ এত দিন পর্যটকেরা দার্জিলিঙে গেলে যে চিড়িয়াখানা দেখে এসেছেন, এ বার তার রূপ পাল্টাচ্ছে। এই চিড়িয়াখানা দেশের সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থিত। তাই এখানে সংরক্ষিত প্রজনন করা সম্ভব হবে। চিড়িয়াখানার অধিকর্তা বাসবরাজ হোলেয়াচির বক্তব্য, ‘‘আমরা চিড়িয়াখানার ভিতরে গড়ে তুলেছি পরীক্ষাগার যেখানে এই ডিএনএগুলি থাকবে। এই বরফের চিড়িয়াখানায় থাকবে অপরিবর্তনশীল জেনেটিক সামগ্রী, যা দিয়ে নানা পরীক্ষা–নিরীক্ষা করা যায়।’’