Advertisement
E-Paper

স্বামীকে খুন, সঙ্গী প্রেমিক

মৃতের নাম উত্তম মোহান্ত (৫৩)৷ এলআইসি-র ডেভেলপমেন্ট অফিসার উত্তমবাবুর বাড়ি কোচবিহারের দিনহাটার ভেটাগুড়িতে৷ প্রায় কুড়ি বছর আগে ওই এলাকারই ষোলো বছরের ছোট লিপিকা মোহান্তের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়৷

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০১৭ ০৩:৪১
উত্তম মোহান্ত

উত্তম মোহান্ত

মনুয়া-কাণ্ডের ছায়া যেন জলপাইগুড়িতেও।

এ বার স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিক যড়যন্ত্র করে প্রৌঢ় স্বামীকে খুন করলেন বলে অভিযোগ উঠল জলপাইগুড়ি শহরে৷ পুলিশ ইতিমধ্যেই মৃতের স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে। তাঁর প্রেমিককে খোঁজা হচ্ছে। জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি বলেন, ‘‘তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।’’

মৃতের নাম উত্তম মোহান্ত (৫৩)৷ এলআইসি-র ডেভেলপমেন্ট অফিসার উত্তমবাবুর বাড়ি কোচবিহারের দিনহাটার ভেটাগুড়িতে৷ প্রায় কুড়ি বছর আগে ওই এলাকারই ষোলো বছরের ছোট লিপিকা মোহান্তের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়৷ স্ত্রীকে নিয়ে জলপাইগুড়িতে বিভিন্ন বাড়িতে অনেক বছর ধরেই ভাড়া থাকছিলেন৷ তাঁদের একমাত্র মেয়ে কোচবিহারের দিনহাটা কলেজে পড়াশোনা করে৷ জলপাইগুড়ি কদমতলা বাসস্ট্যান্ডের যে বাড়ি থেকে উত্তমবাবুর দেহটি উদ্ধার হয়, সেখানে তাঁরা ভাড়া গিয়েছিলেন মাত্র পাঁচ দিন আগে৷

Advertisement

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, উত্তমবাবুর দাম্পত্য জীবনে অনেক দিন ধরেই অশান্তি চলছিল৷ দাবি, এরই মধ্যে বছর চারেক আগে তালমা হাটের বাসিন্দা অনির্বাণ রায় নামে এক জনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন লিপিকা৷ অনির্বাণ প্যান কার্ড তৈরি করেন। তাঁরও স্ত্রী ও এক সন্তান রয়েছে৷ তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ২০১৫ সালে স্বামীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ৯ লক্ষ টাকা তুলে দিল্লি পালিয়ে যান লিপিকা ও অনির্বাণ৷ সঙ্গে মেয়েকেও নিয়ে যান৷ দিল্লি যাওয়ার আগে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে লিপিকার সিথিতে সিঁদুরও দিয়ে দেন অনির্বাণ৷ মাস দু’য়েক সেখানে থাকার পর ফের জলপাইগুড়িতে ফিরে আসেন তাঁরা৷ উত্তমবাবু স্ত্রীকে মেনেও নেন৷

কিন্তু লিপিকার সঙ্গে অনির্বাণের সম্পর্ক থেকেই যায়৷ তদন্তে পুলিশ জেনেছে, বছর খানেক আগে তাঁরা আবার জামসেদপুরে যান৷ এ বার আর মেয়েকে নিয়ে যাননি লিপিকা৷ মাস দেড়-দুই আগে ফের তাঁরা ফিরেও আসেম৷ পুলিশ তদন্তে এও জানতে পেরেছে, পাঁচ দিন আগে ভাড়া নেওয়া বাড়িতে উত্তমবাবু ও লিপিকার সঙ্গে অনির্বাণও থাকতেন৷ উত্তমবাবুর দাদা তপন মোহান্তর অভিযোগ, “বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিকল্পনা করে ওই দু’জন মিলে আমার ভাইকে খুন করে৷ সাধারণ মৃত্যু সাজাতে প্রচুর অর্থের বিনিময়ে এক চিকিৎসকের থেকে ডেথ সার্টিফিকেট নিয়েছেন৷”

পুলিশও তদন্তে জানতে পেরেছে, দুপুরে মৃত্যুর পরে একটি অ্যাম্বুল্যান্সে করে উত্তমবাবুকে প্রথমে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন লিপিকা ও অনির্বাণ৷ কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁর মৃত্যুর কথা জানালে দেহটি ফের বাড়িতে নিয়ে আসেন৷ তারপর ওই চিকিৎসককে বাড়িতে ডেকে আনেন অনির্বাণ৷ তিনি ডেথ সার্টিফিকেট দেন বলে অভিযোগ৷

আটক হওয়ার আগে লিপিকা বলেন, ‘‘স্বামী প্রচণ্ড মদ খাওয়ার কারণেই অসুস্থ হয়ে হৃদরোগে তাঁর মৃত্যু হয়৷’’

Uttam Mohanta উত্তম মোহান্ত Murder
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy