Advertisement
E-Paper

উন্নয়ন থেমে ইউনিভার্সিটি কলেজে

কখনও চার থেকে ছয় মাস, কখনও বা বছরখানেকের ব্যবধানে বদলে গিয়েছে রায়গঞ্জ ইউনিভার্সিটি কলেজের অস্থায়ী অধ্যক্ষ। ২০০৭ সালে পরে কলেজে স্থায়ী অধ্যক্ষ নেই। কলেজের পরিচালনার কাজ চালানোর জন্য বারবার অস্থায়ী অধ্যক্ষদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি রায়গঞ্জ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা দেওয়ার ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।

অভ্রনীল রায়

শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০১৫ ০১:১৮

কখনও চার থেকে ছয় মাস, কখনও বা বছরখানেকের ব্যবধানে বদলে গিয়েছে রায়গঞ্জ ইউনিভার্সিটি কলেজের অস্থায়ী অধ্যক্ষ।

২০০৭ সালে পরে কলেজে স্থায়ী অধ্যক্ষ নেই। কলেজের পরিচালনার কাজ চালানোর জন্য বারবার অস্থায়ী অধ্যক্ষদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি রায়গঞ্জ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা দেওয়ার ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। ন্যাকের শেষ পরিদর্শনে ‘বি প্লাস’ গ্রেডও পেয়েছে। তবে স্থায়ী অধ্যক্ষ না থাকায়, কলেজ পরিচালনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যেমন থমকে রয়েছে, তেমনই পরিকাঠামো উন্নীত করার পদক্ষেপও আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ।

কলেজের শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীর অভাব রয়েছে। তবে, স্থায়ী অধ্যক্ষ না থাকায়, সেই সব শূন্য পদ পূরণে লাগাতার তদ্বির-আর্জিও চালানো সম্ভব হয়নি বলে কলেজেরই ছাত্র, শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ। বারবার স্থায়ী অধ্যক্ষ থেকে কলেজ বঞ্চিত হওয়ায় উত্তর দিনাজপুর জেলার শিক্ষানুরাগীরা তো বটেই ক্ষোভ ছড়িয়েছে কলেজের অন্দরেই।

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোমনাথ ঘোষ বলেন, “এই সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। অসুবিধে একটা হচ্ছে ঠিকই। তবে এর মধ্যে কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচন, অশিক্ষক কর্মীদের দাবি-দাওয়ার কিছু সমস্যা মিটিয়েছি। বর্তমানে কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অ্যাডভাইসারি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে যা করার, সে সমস্তই করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হলে, আশা করি সমস্যাগুলি ধাপে ধাপে মিটে যাবে।”

স্থায়ী অধ্যক্ষ না থাকায় ঠিক কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে কলেজে?

কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই ইউনিভার্সিটি কলেজে বাংলায় স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ রয়েছে। ২০০৭ সালে ইংরেজিতেও স্নাতকোত্তর পাঠ্যক্রম চালু করার প্রস্তাব আসে। সে প্রস্তাব রূপায়ণের প্রাথমিক প্রক্রিয়াও শুরু হয় বলে খবর। যদিও, তারপরে বিষয়টি নিয়ে আর কোনও পদক্ষেপ হয়নি। কলেজের শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, স্থায়ী অধ্যক্ষ না থাকায় স্নাতকোত্তর পাঠক্রম চালু নিয়ে টানা তদ্বির এবং পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। সে কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আপত্তি না থাকলেও, ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর পাঠ্যক্রম এখনও প্রস্তাবেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে, তাঁদের দাবি। একই কারণে কলেজের শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের শূন্যপদ পূরণের বিষয়টিও থমকে রয়েছে বলে ছাত্র সংসদের অভিযোগ। সমস্যা রয়েছে, কলেজের স্থায়ী পরিকাঠামো নিয়েও। সুষ্ঠুভাবে ভূগোল বিভাগে পঠনপাঠন চালাতে অতিরিক্ত বেশ কয়েকটি ঘর প্রয়োজন বলে কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ঘর সম্প্রসারণ, সংস্কারের প্রস্তাব জমা পড়েছে অনান্য বিভাগ থেকেও। যদিও, সেই কাজ থমকে রয়েছে বলে অভিযোগ।

স্থায়ী অধ্যক্ষ না থাকার সমস্যা যে রয়েছে, তা মেনে নিয়েছেন ওয়েবকুপার উত্তর দিনাজপুরের জেলা সম্পাদক তাপস মোহান্ত। তাপসবাবু নিজেও ইউনিভার্সিটি কলেজের শিক্ষক। তাঁর কথায়, “দ্রুত স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ হবে বলে আশা করছি। জেলার আরও দু’টি কলেজেও এই সমস্যা রয়েছে। তাও দ্রুত মিটবে বলে আশা করছি।” স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবিতে একাধিকবার স্মারকলিপি দিয়েছে কলেজের ছাত্র সংসদ। ছাত্র পরিষদ পরিচালিত ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস সাহার দাবি, “পরিকাঠামো সংস্কার থেকে শুরু করে পঠনপাঠনে নজরদারি সবই ব্যাহত হচ্ছে।” স্থায়ী অধ্যক্ষ ছাড়া অন্য কারও পক্ষে কাজ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন একসময়ে অস্থায়ী অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা কলেজের অর্থনীতির শিক্ষক দেবাশিস বিশ্বাস। তিনি বলেন, “অনেক সময়েই অস্থায়ী অধ্যক্ষের পক্ষে সামলানো সম্ভব হয় না। সে কারণে অস্থায়ী অধ্যক্ষ দায়িত্বে থাকলে, কলেজ তথা ছাত্র-ছাত্রীদেরই ক্ষতি।”

জেলার শিক্ষানুরাগীদের অভিযোগ, স্থায়ী অধ্যক্ষের প্রয়োজনীয়তা, দাবি, নানা আশ্বাসেই ৭ বছর কেটে গিয়েছে। জেলা তথা উত্তরবঙ্গের অন্যতম সেরা কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করতে পদক্ষেপ শুরুর পরে, এবার সমস্যা মেটে কি না তার দিকেই আপাতত নজর রাখছেন শিক্ষানুরাগীরা।

university college development avranil roy abhranil roy raiganj
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy