Advertisement
E-Paper

ক্ষতিপূরণের দাবিতে অনশনে আলতামাস

মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফরের মুখেই বাজার মূল্যে বাইপাসের জমির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি, গৃহহীনদের ল্যান্ডলুজার সার্টিফিকেট সহ তিন দফা দাবি নিয়ে এবার অনশনে বসলেন জনশিক্ষা ও গ্রন্থাগার মন্ত্রী আবদুল করিম চৌধুরীর ভাইপো আলতামাস চৌধুরী।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০১:৪৮
অনশনে জমি রক্ষা কমিটি। —নিজস্ব চিত্র।

অনশনে জমি রক্ষা কমিটি। —নিজস্ব চিত্র।

মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফরের মুখেই বাজার মূল্যে বাইপাসের জমির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি, গৃহহীনদের ল্যান্ডলুজার সার্টিফিকেট সহ তিন দফা দাবি নিয়ে এবার অনশনে বসলেন জনশিক্ষা ও গ্রন্থাগার মন্ত্রী আবদুল করিম চৌধুরীর ভাইপো আলতামাস চৌধুরী। রবিবার সকালে দুপুরে ইসলামপুর শহর সংলগ্ন ইসলামপুর অলিগঞ্জ এলাকাতে জাতীয় সড়কের পাশে ৩১ নম্বর বাইপাস কৃষি জমি রক্ষা কমিটির হয়ে অনশনে বসেন তিনি।

পুরো বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হস্তক্ষেপ না করা পর্যন্ত অনশন চলবে বলে জানিয়েছেন আলতামাসবাবু। ইসলামপুরের মহকুমা শাসক বিভু গোয়েল বলেন, ‘‘কী কারণে কে অনশনে বসেছেন, আমাকে জানাননি। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, একজন অনশনে বসেছেন। জমির অধিগ্রহণের টাকা দেওয়ার কাজ হয়ে গিয়েছে। কিছু টাকা বাকি রয়েছে। জমির উপরে যে বাড়িঘরগুলি রয়েছে, তার টাকাও খুব শীঘ্রই দেওয়ার কথা রয়েছে।’’ আলতামাস আগে আইএনটিটিইউসি-র নেতা ছিলেন। পরে তিনি ইস্তফা দেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের জনশিক্ষা ও গ্রন্থাগার মন্ত্রী আবদুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘‘জানি না কেন এই রকম কাজ করছে। যা করছে ঠিক করছে না। বাইপাসের কাজের টেন্ডারও হয়ে গিয়েছে।’’ তাঁর দাবি, ‘‘আলতামাসের আন্দোলনের পিছনে কোনও দল রয়েছে কি না, খোঁজ নিয়ে দেখছি।’’

ইসলামপুরের ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের জন্য রয়েছে প্রায় সাড়ে ১০ কিলোমিটার রাস্তা। তবে সব জমি প্রায় অধিগৃহীত বলে প্রশাসনের কর্তারা জানিয়েছেন। এমনকী এর উপর নির্ভরশীল রয়েছেন কয়েক হাজার বাসিন্দা। ৩১ নম্বর বাইপাস কৃষিজমি রক্ষা কমিটির অভিযোগ, এলাকাতে বাইপাসের জন্য বেশির ভাগ কৃষকটি সম্পূর্ণ টাকা পাননি। এমনকী প্রায় ১১ বছর ধরে বাইপাস করার কথা বলে জায়গা নিলেও সেখানে কিছুই করেনি। টাকা দিয়েছে বর্তমান বাজার মূল্য থেকে অনেক কম। অনেকের জমিতে বাড়ি রয়েছে। তাঁদের থাকার জায়গা পর্যন্ত নেই। জমির জন্য ল্যান্ডলুজার সার্টিফিকেট পর্যন্ত তাদের দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তাঁদের আরও অভিযোগ, বাইপাসের জন্য বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর নাম করে এলাকার অনেকের চা চাষিদের জমির গাছ কাটছে। কোনও ক্ষতিপূরণ না দিয়েই এলাকার কৃষকদের জমির উপর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন বিদ্যুতের তার। তবে তার কোনও জবাব দেয়নি প্রশাসন।

ওই কৃষি জমি রক্ষা কমিটির সভাপতি তথা রাজ্যের জনশিক্ষা ও গ্রন্থাগার মন্ত্রী আবদুল করিম চৌধুরীর ভাইপো আলতামাস চৌধুরী বলেন, ‘‘এলাকার গরিব মানুষের উপর ওই অত্যাচার সহ্য করা যায় না। সেই কারণে আন্দোলনে নেমেছি। মুখ্যমন্ত্রী যতক্ষণ পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা না নেন, ততক্ষণ সেই আন্দোলন চালিয়ে যাব।’’ ওই অন্দোলনের কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে একটি ফ্যাক্স বার্তাও দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আলতামাসবাবু। তবে অনশনের বিষয়টি প্রশাসনের কর্তাদের জানাননি।

উল্লেখ্য, এর আগেও একই দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিল এলাকার ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক কৃষিজমি রক্ষা কমিটি। তার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আলতামাস চৌধুরী। তিনি অবশ্য সেই সময় আইনটিটিইউসির অসংগঠিত শ্রমিক সংগঠনের জেলা কমিটির পদে ছিলেন। মহকুমা শাসক দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল তাঁরা। সেখানেও মাইক এর অনুমোদন সহ একাধিক বিষয়ে অভিযোগ করেছিল মহকুমা প্রশাসন। তবে এবার অবশ্য শহরের বাইরে গিয়ে জাতীয় সড়কের পাশে অনশনে বসেছেন তাঁরা।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy