Advertisement
E-Paper

ছিটমহল এলাকায় সংগঠনে তৎপরতা

বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে সদ্য বিলীন হওয়া ছিটমহলে নিজেদের সংগঠন তৈরিতে তৎপর হয়ে উঠেছে তৃণমূল। আঞ্চলিক স্তরে দলের নেতাদের ওই এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে ছোট ছোট সভা করার কাজ শুরু করা হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ অগস্ট ২০১৫ ০১:৫৮

বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে সদ্য বিলীন হওয়া ছিটমহলে নিজেদের সংগঠন তৈরিতে তৎপর হয়ে উঠেছে তৃণমূল। আঞ্চলিক স্তরে দলের নেতাদের ওই এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে ছোট ছোট সভা করার কাজ শুরু করা হয়েছে। দলের কোচবিহার জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ইতিমধ্যেই ওই এলাকায় একাধিকবার গিয়ে যে কোনও সমস্যায় বাসিন্দাদের তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন। ছিটমহলের বাসিন্দাদের দলের সক্রিয় কাজকর্মে সঙ্গে নেওয়ার ব্যাপারেও যোগাযোগ শুরু করেছেন তাঁরা।

পাশাপাশি রাজ্য নেতাদের নিয়ে এসে ওই এলাকায় সরকারের প্রচার কাজ করার জন্যও তদ্বির শুরু করেছেন জেলা নেতৃত্ব। বিধানসভার স্পিকার বিমান মুখোপাধ্যায় খুব শীঘ্র ছিটমহল পরিদর্শনে যেতে পারেন বলেও দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

ছিটমহলের বেশিরভাগ অংশ ছিল দিনহাটা ও মেখলিগঞ্জে। এ ছাড়া মাথাভাঙাতেও বেশ কিছু ছিটমহল ছিল। দিনহাটা ও মেখলিগঞ্জ বরাবর ফরওয়ার্ড ব্লকের ঘাঁটি বলে পরিচিত। গত বিধানসভা নির্বাচনেও দুটি আসনেই জয়ী হয়েছে ফরওয়ার্ড ব্লক। বিলীন হওয়া ছিটমহলের বাসিন্দাদের মধ্যেও ওই দলের প্রভাব রয়েছে। যা আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বেগ দিতে পারে তৃণমূলকে।

তবে রবীন্দ্রনাথবাবু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ছিটমহল সমস্যার সমাধান করেছেন। হাজার হাজার মানুষ ৬৮ বছরের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আমরা বহু বছর ধরে ওই মানুষদের জন্য আন্দোলন করে আসছিলাম। সমস্যা সমাধানের পরও আমরা তাঁদের পাশে রয়েছি। ভোটার কার্ড থেকে শুরু করে যে কোনও ক্ষেত্রে তাঁদের যাতে কোনও সমস্যার মধ্যে পড়তে না হয়, সেদিকে নজর রাখছি।” তিনি দাবি করেন, ইতিমধ্যেই বহু ছিটমহলের মানুষ তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। অনেকেই এলাকার মিটিং, মিছিলে যোগ দিচ্ছেন।

ফরওয়ার্ড ব্লক অবশ্য তৃণমূলের ওই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তারা দাবি করছে, ছিটমহল বিনিময় চুক্তি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই দীর্ঘ দিন দেরি করেছেন। ফরওয়ার্ড ব্লকের মেখলিগঞ্জের বিধায়ক পরেশ অধিকারী আগামী ৩০ অগস্ট ছিটমহলের বাসিন্দাদের নিয়ে সভার ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ফরওয়ার্ড ব্লক শুরু থেকে ওই সমস্যা নিয়ে সরব ছিল। বারবার আন্দোলন হয়েছে। মানুষ তা ভাল ভাবে জানেন। তৃণমূল যতই চেষ্টা করুক না কেন, মানুষ তাঁদের সঙ্গে যাবে না। আমাদের সঙ্গেই থাকবে।”

প্রশাসন সূত্রের খবর, সদ্য ভারতে বিলীন হওয়া ছিটমহলগুলির জনসংখ্যা ১৪ হাজার ৮৫৬ জন। ওপাশ থেকে আরও ৯৫০ জনের বেশির এপারে আসার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া, ওই ছিটমহলের বাসিন্দাদের সঙ্গে আত্মীয়তা রয়েছে সংলগ্ন এলাকার বহু মানুষের। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকার ভোটে খুব স্বাভাবিক ভাবেই যে ওই এলাকার মানুষ প্রভাব ফেলবেন, তা রাজনৈতিক দলগুলির কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দিনহাটা, সিতাই, মেখলিগঞ্জ, মাথাভাঙার মতো চারটি বিধানসভাতেই ওই এলাকার মানুষের ভোট গুরুত্বপূর্ণ। তা বুঝতে পেরেই শাসক দলের নেতারা আদাজল খেয়ে নেমেছেন মাঠে। রবীন্দ্রনাথবাবু অন্তত কুড়ি বার ওই এলাকাগুলিতে গিয়েছেন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ওই এলাকাগুলিতে ভোটার পরিচয় পত্র তৈরির কাজ শুরু হওয়ার কথা। সে সময়ও তাঁর সেখানে থাকার কথা।

এই বিষয়ে নাগরিক অধিকার রক্ষা সমন্বয় কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক দীপ্তিমান সেনগুপ্ত বলেন, “ছিটমহলের মানুষ তাঁদের পছন্দ মতো রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে পারেন। আমরা অরাজনৈতিক সংগঠন। আমরা আমাদের কাজ করছি। ছিটমহলের মানুষের স্বার্থে আন্দোলন করছি।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy