Advertisement
E-Paper

জামিন পেলেন না গোদালা, রায় শনিবার

বহু কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরেও শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি ডেভলপমেন্ট অথরিটির (এসজেডিএ) বোর্ডের গঠন কেন পরিবর্তন হয়েছিল, শুনানির সময় সেই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলেন বিচারক। মঙ্গলবার দুপুরে শিলিগুড়ির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক (ফাস্ট কোর্ট) অজয় কুমার দাসের এজলাসে সংস্থার প্রাক্তন সিইও গোদালা কিরণ কুমারের জামিনের আবেদনের আরেক দফায় শুনানি হয়।

কৌশিক চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৩:৩৮

বহু কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরেও শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি ডেভলপমেন্ট অথরিটির (এসজেডিএ) বোর্ডের গঠন কেন পরিবর্তন হয়েছিল, শুনানির সময় সেই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলেন বিচারক। মঙ্গলবার দুপুরে শিলিগুড়ির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক (ফাস্ট কোর্ট) অজয় কুমার দাসের এজলাসে সংস্থার প্রাক্তন সিইও গোদালা কিরণ কুমারের জামিনের আবেদনের আরেক দফায় শুনানি হয়।
সেই সময়ে বিচারক মামলার নথিপত্রের উল্লেখ করে জানান, বোর্ডের ১১৪ নম্বর বোর্ড মিটিঙে দেখা যাচ্ছে সদস্যরা একরকম। চেয়ারম্যান একজন। পরের ১১৫ নম্বর বোর্ড মিটিং-এ দেখা যাচ্ছে, চেয়ারম্যান অন্য কেউ। বোর্ডের গঠন পুরোপুরি আলাদা। এরকম কেন হল তা জানতে চান বিচারক। সেই সঙ্গে বোর্ডের মেয়াদ ঠিক কতটা সময় তাও বিচারক জেনে নেন। তবে দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষ করে সমস্ত নথিপত্র, কেস ডায়েরি খতিয়ে দেখার পর আগামী, শনিবার তিনি রায় দেবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
আদালত সূত্রের খবর, আটটি দুর্নীতি মামলার মধ্যে ছ’টিতে গোদালার জামিনের জন্য আবেদন করেছেন তার আইনজীবী। সোমবার এক দফায় সওয়াল জবাব শোনার পর এসজেডিএ-র প্রাক্তন সিইও তথা আইএএস অফিসার গোদালার আইনজীবী তড়িৎ ওঝা আদালতে জানান, বোর্ডের মেয়াদ তো তিন বছর হওয়ার কথা রয়েছে। তাহলে মাঝপথে ওই সময় তা পরিবর্তন কেন হল তা জানা দরকার। নিশ্চয়ই সরকার কোনও কিছু মনে করে বোর্ড নতুন করে গঠন করেছিল। চেয়ারম্যানকে সরিয়ে নতুন চেয়ারম্যানও নিয়োগ হয়েছিল। যদিও পুরানো চেয়ারম্যানকে সাধারণ বোর্ড সদস্য হিসাবে রাখা হয়েছিল।
এদিনও ফের তড়িৎবাবু আদালতে দাবি করেন, গোদালা কিরণকুমার সংস্থার একজন অফিসার ছিলেন। কিন্তু সংস্থার নিয়ম অনুসারে দৈনন্দিন কাজকর্মের জন্য তাঁকে বাস্তুকার, অফিসারদের উপর নির্ভর করতে হয়েছে। কিন্তু বোর্ডকে না জানিয়ে তিনি কোনও কাজ করেননি। এমনকি, টেলিফোন করেও তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রকল্পের কথা বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্তদের জানিয়েছেন। আর কোথাও কোনও পুলিশে অভিযোগ, বিভাগীয় তদন্তে গোদালার নাম নেই।

এর পরেই সরকারি আইনজীবী পীযূষ ঘোষ জামিনের বিরোধিতা করে আদালতে জানান, ওয়েস্ট বেঙ্গল টাউন অ্যান্ড কান্ট্রি প্ল্যানিং অ্যাক্ট অনুসারে এসজেডিএ গঠিত হয়েছে। সেখানে বোর্ড গঠন, কে সদস্য থাকবেন, কতদিন কীভাবে থাকবেন তা পুরোটাই সরকারের বিবেচ্য বিষয়। জামিনের মামলার সঙ্গে এর খুব একটা যোগাযোগ নেই। আর বাকি সবই আইনে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে। আর সংস্থার সিইও-র আর্থিক ক্ষমতা বা নীতি নির্ধারণ ক্ষমতা কত তা সব স্পষ্ট করে আইনে বলা রয়েছে। তিনিই দুর্নীতি চক্রের অন্যতম মাথা হিসাবে কাজ করেছেন।

এসজেডিএ সূত্রের খবর, নতুন রাজ্য সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালে এসজেডিএ-র নতুন বোর্ড গঠন হয়। ২০১২-১৩ সালের মধ্যে প্রায় ৭৬ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সেই সময় চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তৎকালীন চেয়ারম্যান তথা শিলিগুড়ির বিধায়ক রুদ্রনাথ ভট্টাচার্যকে। নতুন দায়িত্বে আসেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব। সেই সময়কার বোর্ড মিটিঙে নথিতে দুই রকম বোর্ডের গঠন দেখে বিচারক এদিন আদালতে ওই প্রশ্ন করেন বলেই মনে করা হচ্ছে। পরবর্তীতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়ে প্রকল্পগুলির টেকনিক্যাল অডিট করানো হয়। সেখানে অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর একে একে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়।

ময়নাগুড়ি, মালবাজার, বাগডোগরায় শ্মশান, জোড়াপানি সংস্কার, বিদ্যুতের সাব স্টেশন, জল ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মত প্রকল্পগুলির কাজ না করেই ঠিকাদার সংস্থাকে কোটি কোটি দিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সরকারি আইনজীবী জানান, গোদলা সিইও থাকাকালীন ই-টেন্ডার এসজেডিএতে অন্তর্ভুক্ত হয়। তার পাসওয়ার্ড গোদালাকেই দেওয়া হয়। তিনিই বাস্তুকার, ঠিকাদারদের সঙ্গে মিলে দরপত্রের অঙ্ক বাড়িয়ে, ভুয়ো নথিপত্রে সই করে সরকারি টাকা আত্মসাতে সামিল হয়েছেন। এক ঠিকাদারের মাধ্যমে টাকা অন্ধ্রপ্রদেশে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওই দুই অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক। তাই টাকা উদ্ধারের জন্য তদন্তে গোদালার নাম এসেছে। তাকে জামিন দিলে এখনও উদ্ধার না হওয়া প্রায় ৫৪ কোটি টাকা খোঁজার কাজ ব্যহত হতে পারে।

এদিন কয়েক ঘন্টা ধরে চারটি মামলা পরপর শোনার পর বিকাল নাগাদ বিচারক শনিবার রায় দেবেন বলে জানিয়ে দেন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy