Advertisement
E-Paper

দুর্গার পাশাপাশি নতুন শাড়িতে পুজো সারদারও

পুজোর মাসখানেক আগেই চলে এসেছে মা সারদার পুজোর শাড়ি। পুজোর পাঁচ দিন মৃণ্ময়ী দুর্গাপ্রতিমার পাশাপাশি বিশেষ ভাবে সাজিয়ে তোলা হবে স্বামী বিবেকানন্দের জীবন্ত দুর্গা—মা সারদাকে। জলপাইগুড়ি রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের উদ্যোগে কলকাতার নামীদামি বস্ত্রবিপণি থেকে নিয়ে আসা হয়েছে সেই বস্ত্রসম্ভার।

অনিতা দত্ত

শেষ আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০১৫ ০২:৪৬

পুজোর মাসখানেক আগেই চলে এসেছে মা সারদার পুজোর শাড়ি। পুজোর পাঁচ দিন মৃণ্ময়ী দুর্গাপ্রতিমার পাশাপাশি বিশেষ ভাবে সাজিয়ে তোলা হবে স্বামী বিবেকানন্দের জীবন্ত দুর্গা—মা সারদাকে। জলপাইগুড়ি রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের উদ্যোগে কলকাতার নামীদামি বস্ত্রবিপণি থেকে নিয়ে আসা হয়েছে সেই বস্ত্রসম্ভার। শুধু কলকাতাই নয়, ওড়িশা থেকেও এসেছে সেখানকার নিজস্ব রেশমি বস্ত্র। বেনারসি, কাঞ্জিভরম, কটকী সিল্কের এমন সাজ যে না হলেই নয়।

ষষ্ঠীর দিন পরানো হবে চওড়া পাড় লাল তাঁতের শাড়ি।

সপ্তমীর দিন সাজের পরিবর্তন হবে কাঞ্জিভরমে। আইভরি কালারের জমির মাঝে রকমারি নকশায় জরির কাজ। পাড় ও আঁচলে লাল রঙের ছোঁয়া, তাতে ঘন জরির বুনন।

Advertisement

মহাষ্টমীতে মায়ের পরনে থাকবে বেনারসি, তার নীল রঙের জমি জুড়ে সোনালি জরির নানা নকশা। পাড় ও আঁচলে সোনালি জরির ঠাসবুনট।

নবমীর সাজ সম্পূর্ণ হবে ওড়িশা থেকে আসা কটকী সিল্কে। শাড়িটির অফ হোয়াইট জমির মাঝে নীল রঙের বুটি। পাড় ও আঁচলে রয়েছে জরির কাজ।

ভক্ত ও অনুরাগীরা পুজো উপলক্ষে মা-কে উপহার দিয়েছেন তাঁত ও সিল্কের শাড়ি। দশমীর সাজে সেই শাড়িতেই দেখা যাবে সঙ্ঘজননীকে।

পুজোর দিনগুলিতে সাধারণত রাত হলেই গর্ভগৃহের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। মাকে তখন নববস্ত্র পরানোর তোড়জোড় চলে। সাজান সাধু ব্রহ্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকরা। ১৯৬১-তে এই মিশন আশ্রমে দুর্গাপুজো চালুর পর থেকেই এই রীতি চলে আসছে। মা সারদাকে পুজোর দিনগুলোতে সাক্ষাৎ দেবীজ্ঞানে বা জীবন্ত দুর্গারূপে পুজো করা হয়। পুজোর সংকল্প হয় মায়ের নামেই। তাই প্রতিমার সাথেও মাকে বিশেষ ভাবে সাজিয়ে তোলা হয় বলে জানান আশ্রম সম্পাদক স্বামী অক্ষয়ানন্দজি।

শুধু শাড়িতেই শেষ হয় না সাজ। পরানো হয় সোনার টিপ ও টিকলি। মৃন্ময়ী মূর্তিকেও সাজানো হয় নানা অলংকারে। আগে পরানো হত বাজু, হার, টিকলি, বর্তমানে নিরাপত্তার কথা ভেবে সে সব বন্ধ বলে জানান আশ্রম কর্তৃপক্ষ।

তবে দুর্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীকে সোনার টিপ পরানোর রেওয়াজ এখনও চালু। সুগন্ধি ছাড়া কি সাজ সম্পূর্ণ হয়? বাজারচলতি সুগন্ধি নয়। আশ্রমের নিজস্ব বাগানে বেল, জুঁই কিংবা বকুল অথবা দোলনচাঁপার মালার সুমিষ্ট গন্ধ কৃত্রিম সুগন্ধিকেও হার মানায়।

স্থানীয় বাজার থেকে নয়, কলকাতা থেকে খুঁজে পেতে নিয়ে আসা হয়েছে কুমারীপুজোর কুমারীদের নির্দিষ্ট বেনারসি শাড়িও। পুজোর পাঁচ দিন ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেবকেও সাজিয়ে তোলার আয়োজন থাকে। তাঁকে পরানো হয় গোলাপি, সাদা, গেরুয়া কিংবা অফ হোয়াইট রঙের সিল্কের ধুতি ও চাদর। স্বামী বিবেকানন্দের জন্য থাকে গেরুয়া রঙের সিল্ক।

যে কোনও পরিবারের পুজোর কেনাকাটার সঙ্গে আশ্রমের কেনাকাটার কোনও পার্থক্য নেই। আশ্রম সম্পাদক নিজেই মাসখানেক আগে চলে আসেন কলকাতায়। স্থানীয় ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে নিয়ে নামকরা দোকানগুলি থেকে কেনাকাটার পর্ব সারেন। শুধু পুজোর পাঁচ দিনই নয়, লক্ষ্মী ও কালীপুজোতেও মা সারদাকে এ ভাবে সাজানো হয়। তাই উৎসবের মরসুম জুড়ে জলপাইগুড়ি রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে ‘সাজ সাজ’ রব।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy