Advertisement
E-Paper

নির্মল গ্রাম করতে হাতে ফুল নিয়ে ঘুরছেন বিডিও

ভোর ভোর ঘুম থেকে উঠে গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পড়ছেন তিনি। কোনওদিন গাড়িতে থাকছে টগর ফুল। তো কোনওদিন গাঁদা, জবা। রাস্তায় কাউকে শৌচকর্ম করতে দেখলেই দাঁড়িয়ে পড়ছেন।

নমিতেশ ঘোষ

শেষ আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০১৬ ০২:২৭

ভোর ভোর ঘুম থেকে উঠে গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পড়ছেন তিনি। কোনওদিন গাড়িতে থাকছে টগর ফুল। তো কোনওদিন গাঁদা, জবা। রাস্তায় কাউকে শৌচকর্ম করতে দেখলেই দাঁড়িয়ে পড়ছেন। গাড়ির ভিতর থেকে ফুল এনে তুলে দিচ্ছেন ওই বাসিন্দার হাতে। ঠিক এভাবেই গাঁধীগিরির পথে গ্রামকে নির্মল করতে পথে নেমেছেন মেখলিগঞ্জের বিডিও বিরূপাক্ষ মৈত্র। মেখলিগঞ্জ ব্লক সূত্রের খবর, দিন কয়েক আগে ভোরে সুটুঙ্গা নদীর পাড়ে গিয়েছিলেন বিডিও। সেখানে শৌচকর্ম করেন গ্রামবাসীদের অনেকে। পাঁচজনকে হাতেনাতে ধরেনও তিনি। টগর ফুল হাতে দিয়ে আধ ঘণ্টা বোঝান। অবশেষে শৌচাগার করার শপথ নিয়েই বাড়ি ফেরেন তাঁরা।

বিরূপাক্ষবাবুর কথায়, “প্রথমটায় অনেকে ঘাবড়ে যাচ্ছে। ফুল হাতে পেয়ে মন দিয়ে শুনছে সব কথা। কয়েকজন বাড়িতে শৌচাগার তৈরির কাজও শুরু করেছে। এটাই আমরা সাফল্যের একটা ধাপ বলে ধরে নিচ্ছি।” শনিবার নির্মল গ্রাম নিয়ে প্রচারে সকাল থেকেই গাঁধীগিরিকে হাতিয়ার করেই পথে নেমেছিলেন কোচবিহারের জেলাশাসক পি উল্গানাথন, কোচবিহার জেলা পরিষদের সভাধিপতি পুষ্পিতা ডাকুয়া সহ প্রশাসনের কর্তারা। বাসিন্দাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘হাতজোড়’ করে শৌচাগার ব্যবহারের অনুরোধ করেছেন তাঁরা। কোচবিহারের জেলাশাসক বলেন, “বেশ কিছুদিন ধরেই আমরা টানা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি। সাড়াও পাচ্ছি। আবার অনেকে শৌচাগার তৈরি করেও তা ব্যবহার করছেন না। তাঁরা খোলা মাঠেই যাচ্ছেন। এটা বন্ধ করতে হবে।”

এখানেই থেমে না থেকে গ্রামে গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে নজরদারি কমিটি। সেখানে পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের পাশাপাশি রাখা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মহিলাদেরও। তাঁরাও নিয়মিত সকালে উঠে লক্ষ্য রাখছেন চারদিকে। ইতিমধ্যেই ওই কাজে সাফল্য এসেছে দিনহাটা ২ নম্বর ব্লকের নাজিরহাট-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে। এর কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে ওই এলাকার জেলা পরিষদের সদস্য তরণী বর্মনকে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর কাজ নিয়ে একটি তথ্যচিত্র তৈরি করা হয়েছে। তিনি পুরষ্কারও পেয়েছেন। তরণীবাবু বলেন, “সবাইকে নিয়ে লাগাতার প্রচার করেছি। স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও গ্রামের মহিলাদের কাছে আগে গিয়েছি। কয়েক মাস এমন করার পরেই সাফল্য আসে। আশা করছি এবারে গোটা জেলাই নির্মল হবে।” মেখলিগঞ্জের জামালদহের বাসিন্দা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য মৃন্ময় ঘোষ বলেন, “অনেক স্বচ্ছল বাড়িতে গিয়েও দেখা যায় শৌচাগার নেই। মোবাইল কিনছেন। বাড়িতে টিভি রয়েছে। বাইক রয়েছে। শৌচাগারকে সেরকম প্রয়োজনীয় জিনিস অনেকেই ভাবেন না। এই চিন্তাচাবনার পরিবর্তন আনতে হবে। আমরাও প্রশাসনের পাশে আছি।”

Advertisement

জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, কোচবিহার জেলায় এখনও প্রায় তিন লক্ষ পরিবারের সদস্য খোলা জায়গায় শৌচকর্ম করেন। তার মধ্যে মেখলিগঞ্জ ব্লকে একটি বড় অংশ রয়েছে। জেলা প্রশাসন দাবি করেছে, ইতিমধ্যে নতুন করে প্রায় ৬৮ হাজার শৌচাগার তৈরি হয়েছে। দিনহাটা ২ নম্বর ব্লক এবং ২৫ টি গ্রাম পঞ্চায়েত নির্মল করা হয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy