সংস্থার মুখ্য কার্যনিবার্হী আধিকারিক (সিইও) নথিপত্র এবং চেকে সই না করায় হিমূলের প্যাকেটজাত দুধ সরবরাহ বন্ধ যাওয়ার অভিযোগ উঠল। শুক্রবার সকালে এক বেলা বাজারে দুধ এলেও বিকেল থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সংস্থা সূত্রের খবর, আজ, শনিবার দু’বেলা বাজারে দুধ থাকার কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা নিয়েও সংস্থার কর্মীরা কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি।
মূলত প্রতিদিনকার হিসাবের কাগজপত্র না থাকা নিয়েই সিইও আপত্তি তুলেছেন। সাধারণত দীর্ঘ দিন ধরেই দুধ, কাঁচামাল-সহ বিভিন্ন বিলের পেমেন্ট মাসে ২-৩ বার দেওয়া হয়। কিন্তু সিইও রোজকার হিসাব, বিল তৈরির কথা বলেছেন। তা এখনও ঠিকঠাক না হওয়ায় তিনি নথিপত্রে সই করেননি বলে অভিযোগ।
এই অবস্থায় আজ, শনিবার দার্জিলিঙে সংস্থার সিইও তথা অতিরিক্ত জেলাশাসক ইউ স্বরূপের সঙ্গে অফিসারদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এক দফায় বৈঠক হলেও কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। শুক্রবার সিইও-র মাটিগাড়ার দফতরে আসার কথা থাকলেও তিনি আসেননি বলে অফিসারেরাই জানিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলাশাসক শুধু বলেছেন, ‘‘দুধের সরবরাহ বাজারে থাকবে। শনিবারের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হবে।’’ আর হিমূলের চেয়ারম্যান তথা জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব টেলিফোন ধরেননি। এসএমসে তিনি বৈঠকে ব্যস্ত রয়েছেন বলে শুধু জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত দুই বছর ধরেই হিমূলের অচলাবস্থা চলছে। কোনও সময় টাকার অভাব, কোনও সময় অফিসার বদলির জেরে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিরাট বকেয়ার জেরেও কয়েক দফায় দুধ সরবরাহ বন্ধ হয়েছে। রাজ্য সরকারের বিষয়টি দেখা দরকার।
হিমূল সূত্রের খবর, গত মাসেই বদলি হয়েছেন সংস্থার মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক (সিইও)। নতুন সিইও ইউ স্বরূপ দায়িত্ব নেওয়ার পর নথিপত্র, সরকারি আদেশনামা ব্যাঙ্কে জমা না পড়ায় আর্থিক লেনদেন থমকে যায়। প্রায় এক মাসে দুধ সরবরাহকারীদের বকেয়া এসে দাঁড়িয় প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা। এরমধ্যে বিহারে দুধ সরবরাহের বকেয়া ছিল ২০ লক্ষ টাকার মত। তার পরে ধীরে ধীরে কিছুটা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বিহারের বেগুসরাই, পাহাড়-সমতলের খড়িবাড়ি, বিধাননগর এলাকা থেকে দুধ আসে। তেনমনিই, দুধ প্যাকেটজাত করার প্লাস্টিক, বয়লারের তুষ এবং গুড়ো দুধ স্থানীয়ভাবে কেনা হয়। বর্তমানে হিমূলের প্ল্যান্টে প্রায় ২০ হাজার লিটার কাঁচা দুধ রয়েছে। কিন্তু গুড়ো দুধ নেই। প্রতিদিন এরজন ২৫-৩৫ হাজার টাকার প্রয়োজন হয়। সেই চেকে সিইও সই করেননি বলে অভিযোগ। তা ছাড়া নথিপত্র সই না হওয়ায় বর্তমান দুধের প্রায় ২০ লক্ষ টাকা, গুড়ো দুধের ৭ লক্ষ টাকা এবং তুষের ১ লক্ষ টাকা মত বকেয়াও বিলও জমে গিয়েছে। তাই নতুন করে টাকা না দেওয়া হলে সরবরাহকারীরা আর সেগুলি সরবরাহ করতে চাইছেন না বলেও সংস্থার কয়েকজন অফিসার জানিয়েছেন।