Advertisement
E-Paper

পূরবী কর হত্যাকাণ্ডে আত্মসমর্পণ অন্যতম অভিযুক্ত স্বামী ও ছেলের

পাঁচমাস ফেরার থাকার পর অবশেষে আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন পূরবী কর হত্যাকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত তাঁর স্বামী ও ছেলে। সোমবার আলিপুরদুয়ার আদালতের বিচারক তাঁদের চোদ্দো দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০২:২২

পাঁচমাস ফেরার থাকার পর অবশেষে আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন পূরবী কর হত্যাকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত তাঁর স্বামী ও ছেলে। সোমবার আলিপুরদুয়ার আদালতের বিচারক তাঁদের চোদ্দো দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

পূরবীদেবীকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত তাঁর স্বামী, দুই ছেলে ও দুই পুত্রবধূ গত পাঁচ মাস ধরে ফেরার ছিলেন। কিছুদিন আগে এক পুত্রবধূ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। সোমবার দুপুরে দুলালবাবু ও তাঁর বড় ছেলের আত্মসমর্পণ করার খবর ফালাকাটা শহরে ছড়িয়ে পড়তে এলাকার বাসিন্দারা ফের তাঁদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন। ছোট ছেলে এবং তার স্ত্রীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার দাবি ফের উঠতে শুরু করেছে গোটা শহরে। সরকারি আইনজীবি সমীর দত্ত বলেছেন, দু’জনের জামিনের বিরোধিতা করা হয়েছিল এদিন। বিচারক সরোজিনী ঘিসিং তাদের চোদ্দো দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। দুলালবাবুর আইনজীবী সমীর সরকারের বক্তব্য, ‘‘তাঁরা নির্দোষ। চক্রান্তের শিকার হয়েছেন।’’

প্রথম দিকে পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তীতে এই মামলার তদন্তভার নেয় সিআইডি। দুলাল করের শাস্তির দাবিতে শহরে মিছিল, সভা, থানায় বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। পূরবীদেবীর ভাই উজ্জ্বল দে সরকার এদিন বলেছেন, ‘‘দিদিকে যারা হত্যা করেছে তাদের কঠোর শাস্তি হলে তাঁর আত্ম শান্তি পাবে। হত্যা না করলে কেন তাঁরা পাঁচ মাস পালিয়ে থাকলেন।’’

Advertisement

গত ২৯ মার্চ ফালাকাটার অরবিন্দ পাড়ায় কাপড় ব্যবসায়ী দূলালবাবুর স্ত্রীকে বাড়ির ছাদে অর্ধদগ্ধ মৃত অবস্থায় দেখতে পান বাসিন্দারা। তবে সেটি যে নিছক আত্মহত্যা নয়, বরং তাকে খুন করা হয়েছে তা মৃতদেহ দেখার পরই অনুমান করেছিলেন প্রতিবেশীরা। প্রত্যক্ষ দর্শীরা অনুমান করতে থাকেন। তাঁরা জানান, ছাদের এককোনে বসে থাকা অবস্থায় পূরবীদেবীর দেহ মেলে। তিন তলার ছাদে রেলিং ছিলনা। ওই গৃহবধূ গায়ে আগুন দিলে যন্ত্রণায় ছাদে ছোটাছুটি করতেন। কিন্তু ছাদে তাঁর লক্ষণ মেলেনি। লাগোয়া বাড়ির লোকজনও কেউ তাঁর চিৎকার শোনেন নি। এমন কি রেলিং বিহীন ছাদে কি ভাবে বসে একজন আত্মহত্যা করলেন তা নিয়ে সে সময় গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। ঘটনার পর ৫ এপ্রিল পূরবীদেবীর মা গীতা দে সরকার স্বামী দুলাল কর এবং তার দুই ছেলে ও পুত্রবধূদের নামে থানায় খুনের মামলার অভিযোগ দায়ের করেন।

সে দিনই, বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে এলাকা ছাড়া হন দুলালবাবুরা। পুলিশ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা সিআইডি তদন্তের দাবি করেন। তারই মধ্যে হোয়াটস অ্যাপ-এ ওই বাড়ির পরিচারিকা মহিলার কণ্ঠস্বর বলে দাবি করা একটি অডিও রেকর্ড এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। পরিচারিকা সেখানে দাবি করেছিলেন, ঘরে শ্বাসরোধ করে পূরবীদেবী কে খুন করে, পরে দেহটি ছাদে নিয়ে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেন ওই চার জন। বিষয়টি বাইরের কাউকে জানালে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলে সে ভয়ে কাউকে জানায় নি বলেও দাবি করে।

তবে কেন পাঁচ মাস ধরে পালিয়ে থাকার পর পুলিশ বা সিআইডি তাদের ধরতে পারল না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাকিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি করছেন বাসিন্দারা। জামিন পেলেও ফালাকাটায় তাদের থাকতে দেওয়া হবে না বলে এলাকা জুড়ে ব্যানার ও পোস্টার পড়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy