Advertisement
E-Paper

বৈদ্যুতিক চুল্লির কাজ স্থগিত, সংবর্ধনা রামঘাটে

রামঘাট শ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লি তৈরির কাজ স্থগিত রাখা হচ্ছে জেনে রীতি মতো সভা ডেকে আন্দোলনকারী এবং তাদের পাশে থাকা নেতাদের সংবর্ধনা জানানো হল। রবিবার শিলিগুড়ির রামঘাটের কাছে একটি স্কুল লাগোয়া মাঠে ৫ নম্বর ওয়ার্ড নাগরিক মঞ্চের তরফে ওই সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০১৫ ০১:৩৯
৫ নম্বর ওয়ার্ড নাগরিক মঞ্চের উদ্যোগে রামঘাটের ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে মুক্তি পাওয়া নেতা-বাসিন্দাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। রবিবার তোলা নিজস্ব চিত্র।

৫ নম্বর ওয়ার্ড নাগরিক মঞ্চের উদ্যোগে রামঘাটের ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে মুক্তি পাওয়া নেতা-বাসিন্দাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। রবিবার তোলা নিজস্ব চিত্র।

রামঘাট শ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লি তৈরির কাজ স্থগিত রাখা হচ্ছে জেনে রীতি মতো সভা ডেকে আন্দোলনকারী এবং তাদের পাশে থাকা নেতাদের সংবর্ধনা জানানো হল।

রবিবার শিলিগুড়ির রামঘাটের কাছে একটি স্কুল লাগোয়া মাঠে ৫ নম্বর ওয়ার্ড নাগরিক মঞ্চের তরফে ওই সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। প্রাক্তন পুরমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য, ফরওয়ার্ড ব্লকের জেলা সম্পাদক অনিরুদ্ধ বসু, সিপিআই নেতা উজ্জ্বল চৌধুরী, আরএসপি নেতা তাপস গোস্বামী, কংগ্রেস নেতা তথা বিধায়ক শঙ্কর মালাকার, জীবন মজুমদারদের মতো ব্যক্তিত্বকে কাউকে শাল, কাউকে ফুলের তোড়া, রবীন্দ্রনাথ, গাঁধীজির বাঁধানো ছবি দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। সংবধর্না দেওয়া হয় রামঘাটে বৈদ্যুতিক চুল্লি তৈরির বিরোধিতায় যে আন্দোলনকারীদের পুলিশ গ্রেফতার করেছিল তাঁদের। নাগরিক মঞ্চের তরফে রামঘাট কাণ্ড নিয়ে বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি তোলা হয়েছে। যতদিন অভিযোগ প্রত্যাহার না হবে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেছেন।

সংবর্ধনা সভা নিয়ে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, “বিষয়টি উপেক্ষা করছি।” তৃণমূলের তরফে অবশ্য এ দিনের সংবর্ধনা সভার কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের কয়েকজন বলেন “যারা উন্নয়ন বিরোধী, পুলিশের গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়, শব নিতে বাধা দেয়, সেই সব সমাজ বিরোধীদের নিয়ে রামধনু জোট করে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।”

নাগরিক মঞ্চের আহ্বায়ক তথা আন্দোলনকারীদের অন্যতম মহানন্দ মণ্ডল জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী ওই কাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জেনেছি। আন্দোলনে যাঁরা পাশে ছিলেন তাঁদের সংবর্ধনা জানাতেই এই আয়োজন। সেই সঙ্গে বাসিন্দাদের মধ্যে যাঁরা আন্দোলনে নেমে জেলে গিয়েছেন তাঁদের সংবর্ধনা জানানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সীমা রায় এবং কয়েকজন ছাত্রও। মহানন্দবাবু বলেন, “যত দিন না আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করা হচ্ছে ততদিন আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।”

রামঘাট শ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লি তৈরির বিরোধিতা করে আন্দোলনে নেমেছিলেন এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের উদ্যোগে ওই কাজের শিলান্যাসের দিন সেখানে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। ২৮ সেপ্টেম্বর ঘটনার দিন বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর কাছে গেলে মহানন্দ মণ্ডল নামে তাঁদের একজনকে চড়, লাথি মারার অভিযোগ ওঠে খোদ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। তৃণমূলের লোকজন অন্যান্য কয়েকজনকেও মারধর করে বলে অভিযোগ। ২৬ নভেম্বর অনশন আন্দোলন নিয়ে পুলিশ বাধা দিলে গোলমাল শুরু হয়। পুলিশ লাঠি চালালে উত্তেজিত হয়ে ওঠে জনতা। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, মন্ত্রীকে হেনস্থা করা-সহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে পুলিশ মহানন্দ মণ্ডল-সহ কয়েকজনকে গ্রেফতার কর। তাদের মধ্যে জনা ছয়েক ছাত্র ছিলেন। পরে সব মিলিয়ে ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সম্প্রতি তারা জামিনে ছাড়া পান। বাসিন্দাদের আন্দোলন এবং তাদের দাবিকে সমর্থন করে পাশে দাঁড়ায় শঙ্করবাবুর মতো কংগ্রেস এবং অশোক ভট্টাচার্যের মতো সিপিএম এবং বাম শরিক দল এবং তাদের নেতারা। বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াাই কী ভাবে ওই কাজ করা হচ্ছে তা নিয়ে তাঁরাও প্রশ্ন তোলেন। পাল্টা বিরোধিতায় নামে তৃণমূলও। সম্প্রতি ওই কাজ স্থগিত রাখার কথা জানানো হয়।

অশোকবাবু এ দিন বলেন, “পরিবেশ দূষণ বন্ধ করতে আন্দোলন করায় বাসিন্দাদের ৪০ দিন জেলে থাকতে হয়েছে এমনটা এখানে ছাড়া অন্য কোথাও হয়নি। বৈদ্যুতিক চুল্লি বসানো হবে কি না তা নিয়ে কথা বলতে গেলে মারধর করা হয়েছে। থানাতে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে। এখন শুননি মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন কাজ বন্ধ থাকবে। আমরা সেটা স্বাগত জানাচ্ছি। পাশাপাশি যিনি টো জোর করে করতে যাচ্ছিলেন সেই মন্ত্রীকেও সমঝে দেওয়া উচিত মুখ্যমন্ত্রীর তরফে।” তাঁর দাবি, মারধর, বাসিন্দাদের চড় মারা এসবের প্রয়োজন ছিল না। আলোচনা করলেই হত। মাটিগাড়া নকশালবাড়ির বিধায়ক শঙ্কর মালাকার বলেন, “কংগ্রেস, সিপিএম ভাই ভাই বলা হয়। এখানে সিপিএমের হয়ে ভোট চাইতে আসিনি। কংগ্রেসের হয়ে হাত চিহ্নে ভোট দেন বলতে আসিনি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বাসিন্দারা। এই অন্যায়ের শিকার হয়েছিল কংগ্রেস এবং অন্যান্য কয়েকটি দল। তাই ওই মানুষদের পাশে রয়েছি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কংগ্রেস সবসময়ই থাকবে। বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা প্রত্যাহার করতে হবে।” রাজ্যে এই প্রথম কোনও আন্দোলনের জেরে সরকার মাথানত করল বলে দাবি জানান, সিপিআই নেতা উজ্জ্বল চৌধুরী।

electric chimney ramghat work suspended
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy