Advertisement
E-Paper

বৃষ্টিতে অগম্য জাতীয় সড়কও

সংস্কারের অভাবে বেহাল জাতীয় সড়কে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ওই গর্তে বর্ষার জল জমে সড়ক যেন জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। বেহাল রাস্তায় আকছার ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনাও। মালদহের গাজল থেকে চাঁচল পর্য়ন্ত ৮১ নম্বর জাতীয় সড়কের ৩৩ কিলোমিটার রাস্তার একাধিক জায়গা মারণফাঁদে পরিণত হলেও কর্তৃপক্ষের হেলদোল নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ অগস্ট ২০১৫ ০২:১৮
এ ভাবেই যাতায়াত চলছে ৮১ নম্বর জাতীয় সড়়ক ধরে। —নিজস্ব চিত্র।

এ ভাবেই যাতায়াত চলছে ৮১ নম্বর জাতীয় সড়়ক ধরে। —নিজস্ব চিত্র।

সংস্কারের অভাবে বেহাল জাতীয় সড়কে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ওই গর্তে বর্ষার জল জমে সড়ক যেন জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। বেহাল রাস্তায় আকছার ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনাও। মালদহের গাজল থেকে চাঁচল পর্য়ন্ত ৮১ নম্বর জাতীয় সড়কের ৩৩ কিলোমিটার রাস্তার একাধিক জায়গা মারণফাঁদে পরিণত হলেও কর্তৃপক্ষের হেলদোল নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

অথচ চাঁচল থেকে মালদহে যাতায়াতের মূল ওই সড়কটি চওড়া করার জন্য দু’বছর আগে ৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও কাজ হয়নি। গত বছর পুজোর আগে জোড়াতালি দিয়ে রাস্তা সংস্কার করা হলেও এ বার বর্ষা শুরু হতেই ফের তা বেহাল হয়ে পড়েছে। বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জাতীয় সড়ক কোথাও চষা খেতে আবার কোথাও ছোটখাটো জলাশয়ের চেহারা নিয়েছে। প্রাণ হাতে করে বিপজ্জনকভাবে যাতায়াতের পাশাপাশি সময়ও লাগছে দ্বিগুনেরও বেশি। জাতীয় সড়কের ওই সমস্যার কথা দফতরের কর্তাদের পাশাপাশি প্রশাসনেরও অজানা নয়। তারপরেও ওই রাস্তাটির সংস্কার নিয়ে প্রশাসন ও পূর্ত দফতর কেন উদ্যোগী নয় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চাঁচলের মহকুমাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, ‘‘সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে কথা হয়েছে। বর্ষার পরেই সড়ক তৈরির কাজ শুরু হবে বলে ওঁরা জানিয়েছেন।’’

পূর্ত দফতরের (৭ নম্বর জাতীয় সড়ক দফতর) মালদহের নির্বাহী বাস্তুকার শুভাশিস দাস সরকার বলেন, ‘‘রাস্তার মাপজোক হয়েছে। বর্ষার পরেই রাস্তা চওড়া করার কাজ শুরু হয়ে যাবে। তবে আপাতত বর্ষায় বেহাল হয়ে পড়া রাস্তা সংস্কার করা যায় কি না তা আমরা দেখছি।’’

পূর্ত দফতর সূত্রে জানা যায়, ‘‘দু’বছর আগে গাজল থেকে চান্দোয়া দামাইপুর পর্য়ন্ত ২৩ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের জন্য কেন্দ্রীয় পরিবহণ মন্ত্রকের ৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ মেলে। সাড়ে ৫ মিটার চওড়া ওই রাস্তাটি ১০ মিটার চওড়া হওয়ার কথা। কিন্তু টেন্ডার ডাকা হলেও তাতে একজনের বেশি ঠিকাদার অংশ না নেওয়ায় তা বাতিল হয়ে যায়। এবার সেই সমস্যা মিটেছে।’’

যদিও আশ্বাসে আর আশ্বস্ত হতে পারছেন না ব্যবসায়ী সহ বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, গত দুবছর ধরেই বলা হচ্ছে যে রাস্তা নতুন করে তৈরি হবে। গত বছরও একই ভাবে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুজোর আগে ও পরে একবার কেবল জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করা হয়। রাস্তার গর্তে ইট দিয়ে জোড়াতালি দেওয়ায় কয়েকদিন পরেই তা উঠে গিয়েছে। ফলে জাতীয় সড়কের মালতিপুর, সামসি, জোড়গাছি, পাঁচপাড়া, মাগুরা, আলাল সহ একাধিক জায়গায় রাস্তায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও ৫০ মিটার কোথাও ১০০ মিটার রাস্তা জুড়ে ওই গর্তে বৃষ্টির জল থইথই করছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, তা পার হতে গিয়ে ছোটগাড়ির ভিতরে জল ঢুকে যাচ্ছে। গর্তে পড়ে দুর্ঘটনাও নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উত্তর মালদহের সাংসদ মৌসম বেনজির নুরও বলেন, ‘‘৮১ নম্বর জাতীয় সড়ক যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দ্রুত যাতে কাজ হয় তা কর্তৃপক্ষকে দেখতে বলেছি।’’

চাঁচল ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক দীপঙ্কর রাম ও সামসি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক অজয় শর্মা একযোগেই বলেন, ‘‘ওই জাতীয় সড়কটিই মালদহের সঙ্গে চাঁচলের বাসিন্দাদের যোগাযোগের মূল ভরসা। একাধিকবার পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ-আন্দোলন হলেও সমস্যা মেটেনি। পুজোর আগে সমস্যা না মিটলে ফের পথে নামব।’’

মালদহ বাস মালিক সংগঠনের তরফে সুজিত চক্রবর্তী ও উত্তর মালদহ ট্রাক মালিক সংগঠনের পক্ষে অমূল্য মন্ডল বলেন, ‘‘রাস্তার যা অবস্থা তাতে বাস-ট্রাক চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy