Advertisement
E-Paper

বাসেই গিয়ে দায়িত্ব নিলেন চেয়ারম্যান

টিকিট কেটে বাসে চড়েই এনবিএসটিসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে আলিপুরদুয়ার থেকে কোচবিহারের সদর দফতরে গেলেন সৌরভ চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার সকালে সৌরভবাবুর ওই বাসযাত্রাকে বিরোধী পক্ষ ‘চমক’ বলে দাবি করেছেন। কিন্তু, সৌরভবাবু পাল্টা দাবি করেছেন, তিনি সময়-সুযোগ পেলেই বাসে যাতায়াত করে সরাসরি যাত্রী, চালক, কন্ডাক্টরদের সমস্যা বোঝার চেষ্টা করবেন।

নমিতেশ ঘোষ ও রাজু সাহা

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০১৫ ০৩:২৮
এনবিএসটিসির বাসে যাত্রী সৌরভ চক্রবর্তী। —নিজস্ব চিত্র।

এনবিএসটিসির বাসে যাত্রী সৌরভ চক্রবর্তী। —নিজস্ব চিত্র।

টিকিট কেটে বাসে চড়েই এনবিএসটিসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে আলিপুরদুয়ার থেকে কোচবিহারের সদর দফতরে গেলেন সৌরভ চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার সকালে সৌরভবাবুর ওই বাসযাত্রাকে বিরোধী পক্ষ ‘চমক’ বলে দাবি করেছেন। কিন্তু, সৌরভবাবু পাল্টা দাবি করেছেন, তিনি সময়-সুযোগ পেলেই বাসে যাতায়াত করে সরাসরি যাত্রী, চালক, কন্ডাক্টরদের সমস্যা বোঝার চেষ্টা করবেন।

যেমন এদিন চেয়ারম্যানের কাছে যাত্রীদের অনেকেই সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। প্রতিদিন উত্তরবঙ্গ রাস্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের বাসে করে কোচবিহারের বোকালিমঠে যান স্বাস্থ্যকর্মী গীতা দাস। বাসে উঠেই নিগমের নতুন চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী তাঁর কাছে জানতে চান, প্রতিদিন বাসে যেতে কী কী অসুবিধা হয়? পরিষেবার কী ঘাটতি রয়েছে? পরিষেবার উন্নতিতে তাঁর কী প্রস্তাব?

গীতাদেবী সৌরভবাবুকে জানান, মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ না থাকায় তাঁদের সমস্যায় পড়তে হয়। তখনই সৌরভবাবু জানিয়ে দেন, প্রতিটি বাসে মহিলা যাত্রীদের আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া গাড়িগুলি মাঝে মধ্যেই মাঝরাস্তায় খারাপ হয়ে যায়। দুর্ভোগে পড়তে হয় তখনও। সে দিকটাও দেখা হবে বলে গীতাদেবীকে আশ্বাস দেন সৌরভবাবু। ওই বাসের যাত্রী ছিলেন হোটেল কর্মী সৌরভ বিশ্বাস। প্রতিদিন তিনি আলিপুরদুয়ার থেকে কোচবিহার যাতায়াত করেন। ৬৭৫ টাকা দিয়ে ‘মান্থলি কনসেশনাল টিকিট’ বানিয়ে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু রবিবার সে সুবিধা পান না তিনি। সে দিন ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হয় তাঁকে। সৌরভবাবু তাঁর মুখ থেকে অসুবিধার কথা শুনতে পেরে দ্রুত সে সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দেন। কথা বলেন বাসের আরও কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গেও। কোচবেহার এবিএন শীল কলেজের ছাত্রী প্রেরণা চট্টোপাধ্যায় আইটিআই ছাত্র সুব্রত মোহন্ত ওই বাসের যাত্রী ছিলেন। তাঁরাও নিগমের নতুন চেয়ারম্যানকে কাছে পেয়ে যাত্রী পরিষেবার ঘাটতি মেটানোর দাবি তুলে ধরেন। পরে চেয়ারম্যান জানান, সাংবাদিকদের জন্য নিগমের বাসে যাতায়াতের জন্য ফের ফ্রি পাসের ব্যবস্থা করা হবে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার ঠিক সকাল ১০টা ১০ মিনিটে আলিপুরদুয়ার ডিপো থেকে নিগমের ওই বাসটি ৫৭ জন যাত্রী নিয়ে কোচবিহারের রওনা হয়। কোচবিহারের যাওয়ার জন্য সৌরভবাবু ওই বাসেই উঠে পড়েন। সৌরভবাবুর সঙ্গে কয়েকজন অনুগামীও ওই বাসে উঠে পড়েন। অনুগামীদের অনেক যাত্রীকে সিট ছেড়ে দিতেও দেখা যায়। ওই বাসে ওঠার আগে তিনি জেলার এক মাত্র ডিপো আলিপুরদুয়ার ডিপো ঘুরে দেখেন। কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ডিপোর এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন। আলিপুরদুয়ারের ডিপো ইনচার্জয়ের কথায়, ‘‘নতুন চেয়ারম্যান যে ভাবে আমাদের বাসে করে দায়িত্ব নিতে কোচবিহার গেলেন। আমরা খুব খুশি। কর্মীরাও অনুপ্রাণিত।’’

এ দিন, অফিসে ঢুকে অবশ্য তাঁর ঘরের দেওয়ালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি টাঙানোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমার আদর্শ। তাঁকে শ্রদ্ধা করি। তাঁকে দেখে আমি অনুপ্রাণিত হই। কাজ করার ইচ্ছে জাগে। তাঁর ছবি সব সময় আমার চোখের সামনে রাখতে চাই।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy