Advertisement
E-Paper

মৃত্যুর খবর জানত না শিশু কল্যাণ কমিটিই

কেউ ভোটের জন্য কলকাতায় গিয়েছেন। তাই জানতে পারেননি। কেউ আবার শহরেই ছিলেন। কিন্তু জানা হয়নি। তাই রবিবার রাতে শিলিগুড়ির প্রাণকেন্দ্র সেবক রোডে আগুনে পুড়ে দুই শিশু শ্রমিকের মৃত্যুর পর সোমবার বেলা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি শিশু সুরক্ষা আধিকারিক বা চাইল্ড লাইনের কোনও কর্মী-আধিকারিককে।

সৌমিত্র কুণ্ডু

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০১৬ ০৩:৫৬
তালাবন্ধ দরজার ওপারে এ ভাবেই পুড়ে খাক হয়ে গিয়েছে দুই শিশুর দেহ। শিলিগুড়ির সেবক রোডের সেই হোটেলে। — নিজস্ব চিত্র

তালাবন্ধ দরজার ওপারে এ ভাবেই পুড়ে খাক হয়ে গিয়েছে দুই শিশুর দেহ। শিলিগুড়ির সেবক রোডের সেই হোটেলে। — নিজস্ব চিত্র

কেউ ভোটের জন্য কলকাতায় গিয়েছেন। তাই জানতে পারেননি। কেউ আবার শহরেই ছিলেন। কিন্তু জানা হয়নি। তাই রবিবার রাতে শিলিগুড়ির প্রাণকেন্দ্র সেবক রোডে আগুনে পুড়ে দুই শিশু শ্রমিকের মৃত্যুর পর সোমবার বেলা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি শিশু সুরক্ষা আধিকারিক বা চাইল্ড লাইনের কোনও কর্মী-আধিকারিককে।

এ দিন দুপুরের পর চাইল্ড ওয়েলফেয়ার প্রোটেকশন কমিটির একজন ফিল্ড ওয়ার্কার এবং পরে চাইল্ড লাইনের এক কর্মী গিয়ে খোঁজ খবর করেন। জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক মৃণাল ঘোষ বলেন, ‘‘আমি ভোট দিতে কলকাতায় রয়েছি। আমাদের এক কর্মীকে পাঠানো হয়েছে। চাইল্ড লাইনে খবর দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্ট মেলার পর পুলিশকে জুভেনাইল জাস্টিস আইনে নিষ্ঠুরতা, অত্যাচার চালানোর মতো অপরাধে অভিযোগ করতে বলা হয়েছে।’’

শিশু শ্রম রুখতে এবং তাদের উপর অত্যাচারের ব্যাপারে নজরদারি করতে পাঁচ সদস্যের জেলা শিশু কল্যাণ কমিটি রয়েছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত তারাও বিষয়টি নিয়ে অন্ধকারেই ছিল। বেলা দেড়টার নাগাদ ফোনে জেলা শিশু কল্যাণ কমিটির চেয়ারপার্সন সুবেষ্ণা থাপার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর দাবি, বিষয়টি তাঁকে কেউ জানায়নি। খবর পেলে তিনি নিশ্চয়ই সেখানে যেতেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি দার্জিলিং যাচ্ছিলাম। বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিচ্ছি। প্রয়োজনে সেখানে আমি নিজে যাব।’’ কেন এ ধরনের গুরুতর ঘটনার খবর তাঁদের কাছে নেই, কেন জেলা শিশু কল্যাণ কমিটি, শিশু সুরক্ষা আধিকারিকের দফতর, চাইল্ড লাইনের মধ্যে সমন্বয় নেই তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শিলিগুড়ির যুগ্ম শ্রম কমিশনার সমীর বসু জানান ঘটনার কথা তাঁরও জানা ছিল না। তবে তিনি খোঁজ নিচ্ছেন। ভোট দিতে তিনিও কলকাতায় গিয়েছেন।

দার্জিলিঙের জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব অবশ্য ঘটনা জেনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘‘গুরুতর ঘটনা। দুটি শিশু এভাবে পুড়ে মারা যাওয়া নিয়ে বিস্তারিত খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। চাইল্ড লাইন এবং শিশু সুরক্ষা আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’’ পরে তিনি জানান, জলপাইগুড়ি জেলার অধীনে ঘটনা। তবে তিনি ভক্তিনগর থানার পুলিশের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে তাঁরা জানিয়েছেন।

ওই এলাকাতেই রাস্তার ধারে বেশ কিছু হোটেলেও এ দিন কাজ করতে দেখা গিয়েছে শিশুদের। শিশু শ্রম অবাধে চললেও জেলাপ্রশাসন বা শ্রম দফতর এ ব্যাপারে উদাসীন বলে অভিযোগ বাসিন্দদের। মদন ঘোষ, দীপালি ভানরা বলেন, ‘‘যে শিশু দুটি মারা গিয়েছে ভোর ৬ টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত তারা পরিশ্রম করত। হোটেলগুলিতে চোলাই মদের ব্যবসা চলে। বাচ্চাদের দিয়েই তা করানো হত। পুলিশ প্রশাসনও সবই জানে। জেনে বুঝেও কেউ কিছু করে না।’’

চাইল্ড লাইনের পক্ষে জানানো হয়েছে দ্রুত অভিযানে নেমে এ সমস্ত জায়গা থেকে শিশুদের উদ্ধার করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে, কাজের কাজ কতটা হবে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দাদের অনেকেই।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy