তখন সকাল ৭টা হবে। সেই সময় আমরা খেতের ধান ট্রলিতে তোলার কাজ করছিলাম। সোঁ সোঁ একটা শব্দ কানে আসতে লাগল। ক্রমশই যেন ওই শব্দটা কানের অনেক কাছে চলে আসছিল। আমার বুঝতে পাচ্ছিলাম, কিছু একটা অনিষ্ট হবে। আমি আমার স্ত্রী মেহেরুন্নিসা ও ছেলে মেহেরবানকে দ্রুত হাত চালাতে বলি। ট্রলির চালকও আমাদের তাড়াহুড়ো বুঝতে পেরে আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে আমাদের থমকে যেতে হয়। বৃষ্টি নেমে পড়ে হুড়মুড় করে। সঙ্গে শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। দৌড় দিই সেখান থেকে। সবাই মিলে। কিছুটা দূরে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিই সকলে। প্রায় কুড়ি মিনিট বৃষ্টি চলে। শিল অবশ্য কিছুক্ষণ পর থেকে পড়া বন্ধ হয়ে যায়। দূর থেকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিলাম ধানগুলিকে। বৃষ্টিতে সেগুলি ভিজে নেতিয়ে যাচ্ছিল। বুঝতে পারি অনেক ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দিন কয়েক আগেই ওই ধান কেটে খেতে রেখে দিই। ভেবেছিলাম একটু গাছগুলি একটু শুকিয়ে গেলে বাড়িতে নিয়ে যাব। তিন বিঘা জমির প্রায় ৩৫ মন ধান খেতে ছিল। সকালে ধান বাড়ি নিয়ে যাব বলে আগে থেকেই ট্রলি ভাড়া করে রেখেছিলাম। ভোরেই ট্রলি চলে আসে। আমরা সকাল ৬টার মধ্যে খেতে চলে যাই। সেখানে ধানের আঁটি ঠিকঠাক বেঁধে ট্রলিতে তোলার কাজ করছিলাম। কোনও ভাবেই ভাবিনি বৃষ্টি নামবে। এই সময় তো বৃষ্টি হয় না। কিন্তু হঠাৎ ওই শব্দটা আমাদের ভয় ধরিয়ে দেয়। কিছু করার ছিল। কুড়ি মিনিট পরে ক্ষেতে ফিরি। ততক্ষণে অনেকটাই ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। শুকনো ধান ভিজে গিয়েছে। ওই অবস্থাতেই সব বাড়ি নিয়ে যাই। উঠোনে ডাঁই করে রাখি। এখন আবার রোদের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। ওই ধান শুকোতে হবে। নাহলে ধান থেকে গাছ বেরিয়ে যাবে। অনেক লোকসান হয়ে যাবে। প্রার্থনা করি, এই সময় আর যেন বৃষ্টি না হয়।