Advertisement
E-Paper

আগামী ন’মাসে ১২৭ পুরসভার নির্বাচন! রাজ্য নির্বাচন কমিশনে নেই কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কী ভাবে হবে ভোট? উঠছে প্রশ্ন

বর্তমানে রাজ্যের ১২ জেলার মোট ১৫টি পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। প্রশাসক বসিয়েই চলছে পুর পরিষেবা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজরে রয়েছে হাওড়া পুরসভা, যেখানে গত ১৩ বছর ধরে ভোট হয়নি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ ১২:৫১
Preparations Underway for Howrah Municipal Corporation Elections After 13 Years; State Government Gears Up for Polls in 15 Municipalities

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

দীর্ঘ দিন ধরে নির্বাচনহীন অবস্থায় থাকা হাওড়া পুরসভা-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় ভোট করানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত নির্বাচন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা। ওই সময়েই বহু দিন ধরে আটকে থাকা ১৫টি পুরসভায় ভোট করানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে নির্বাচন আয়োজনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকা। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে রাজীব সিংহ সরে যাওয়ার পর এখনও নতুন কমিশনার নিয়োগ হয়নি। পাশাপাশি কমিশনের সচিব পদও দীর্ঘ দিন খালি পড়ে রয়েছে। কারণ, অবসর নিয়েছেন নীলাঞ্জন শাণ্ডিল্য। এমনকি যুগ্ম সচিব পর্যায়ের আধিকারিকও বর্তমানে কমিশনে নেই বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। আগামী ন’মাসের মধ্যে রাজ্যের মোট ১২৭টি পুরসভার ভোট হওয়ার কথা। যা সঠিক সময় করে দেখানো বড় চ্যালেঞ্জ নতুন রাজ্য সরকারের কাছে।

বর্তমানে রাজ্যের ১২ জেলার মোট ১৫টি পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। প্রশাসক বসিয়েই চলছে পুর পরিষেবা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজরে রয়েছে হাওড়া পুরসভা, যেখানে গত ১৩ বছর ধরে ভোট হয়নি। মন্ত্রিসভা গঠনের পরেই বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেছেন, “হাওড়ার ভোট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাথমিক কথা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শুধু হাওড়া নয়, সব পুরসভার নির্বাচন নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী শীঘ্রই বৈঠক করবেন।” হাওড়া ছাড়াও যে সব পুরসভায় দীর্ঘ দিন নির্বাচন হয়নি, তার মধ্যে রয়েছে দুর্গাপুর পুরসভা, মুর্শিদাবাদের ডোমকল, উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ, দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পূজালি, দার্জিলিং জেলার কার্শিয়াং ও মিরিক, কালিম্পং জেলার কালিম্পং, পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া ও হলদিয়া, নদিয়ার কুপার্স ক্যাম্প, বীরভূমের নলহাটি, হাওড়ার বালি এবং জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি পুরসভা। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এই পুরসভাগুলির অধিকাংশেরই শেষ বার নির্বাচন হয়েছিল ২০১৭ সালে।

কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় এতগুলি পুরসভায় একসঙ্গে নির্বাচন পরিচালনা কী ভাবে হবে, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। নবান্নের আধিকারিদের একাংশের মতে, আগে নির্বাচন কমিশনের শূন্যপদগুলি পূরণ করা জরুরি। সেই কারণেই পুজোর আগে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। উল্লেখ্য, রাজ্যের বাকি ১১২টি পুরসভার নির্বাচন হয়েছিল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। আগামী বছরের শুরুতেই সেগুলির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাই আটকে থাকা ১৫টি পুরসভাকে সঙ্গে নিয়েই আগামী বছরের গোড়ায় বৃহত্তর পুরভোটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে।

Howrah Municipal Corporation WB Municipal Election Administrator run municipalities municipalities
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy