Advertisement
E-Paper

প্রাথমিকে ৩২ হাজার চাকরি বহাল রাখার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করল সুপ্রিম কোর্ট! অগস্টে হতে পারে শুনানি

কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রায় দিয়েছিল ৩২ হাজার কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষকদের পক্ষে। জানিয়েছিল, ৩২ হাজার শিক্ষকের সকলেই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তা তদন্তে প্রমাণ করা যায়নি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ ১৩:১৭
সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্ট। — ফাইল চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গে প্রাথমিকের ৩২ হাজার জনের চাকরি বাতিল মামলা গ্রহণ করল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চ এই মামলায় নোটিস জারি করল। অগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে মামলার শুনানির সম্ভাবনা। কলকাতা হাই কোর্ট ২০১৪ সালে শুরু হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিযুক্ত ৩২ হাজার জনের চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন মূল মামলাকারী তথা বঞ্চিতেরা। সেই মামলাই গ্রহণ করল সুপ্রিম কোর্ট।

কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রায় দিয়েছিল ৩২ হাজার কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষকদের পক্ষে। জানিয়েছিল, ৩২ হাজার শিক্ষকের সকলেই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তা তদন্তে প্রমাণ করা যায়নি। দুর্নীতির উৎস এখনও প্রমাণিত নয়। কয়েকজন ‘অযোগ্য’ শিক্ষকের জন্য সমস্ত প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি কেড়ে নেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। তার পরেই সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বঞ্চিতেরা।

২০২৩ সালের ১২ মে কলকাতা হাই কোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। পরে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায়। সেখানেও সিঙ্গল বেঞ্চের রায় বহাল ছিল। এর পরে সরকার, পর্ষদ ও কর্মরত শিক্ষকেরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সেখানেই অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায়ে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। এর পরে মামলা ফের ঘুরে আসে কলকাতা হাই কোর্টে বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে। ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর মামলার শুনানি শেষ হয়। সেই মামলারই রায় ঘোষণা হয় ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর, যেখানে হাই কোর্ট কর্মরত শিক্ষকদের পক্ষে রায় দেয়।

টেট পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় ২০১৪ সালের ৬ মার্চ। প্রায় ১৫ লক্ষ পরীক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। ২০১৫ সালের নভেম্বরে পরীক্ষায় বসেন প্রায় ১৩ লক্ষ পরীক্ষার্থী। সেপ্টেম্বর ২০১৬-য় ফলপ্রকাশের পর দেখা যায় প্রায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে কত নম্বর পেয়ে তাঁরা পাশ করেছেন, তার কোনও হিসাব দেওয়া হয়নি। ৪২,৪৪৯ শূন্যপদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয় সে সময়ই। অক্টোবর থেকে শুরু হয় ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া।

২০১৭ থেকে শুরু হয় নিয়োগ। প্রথমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১১,০০০ এবং তার পর প্রশিক্ষণহীন প্রায় ৩২,০০০ প্রার্থী নিযুক্ত হন প্রাথমিক শিক্ষক হিসাবে।

কিন্তু অভিযোগ ওঠে, নিয়োগের সময় কোনও প্যানেল প্রকাশ হয়নি, এসএমএস-এ নিয়োগ হয়েছে রাতের অন্ধকারে। মামলাকারী বঞ্চিতদের অভিযোগ, কারা চাকরি পেলেন, তা কেউ জানতে পারলেন না। শিক্ষা পর্ষদ সেই তালিকা প্রথম প্রকাশ করে ২০২২-এর নভেম্বরে। ২০১৪ টেট-এ প্রাপ্ত নম্বর সে-ই প্রথম জানতে পারেন প্রার্থীরা। নিয়োগের মেধাতালিকাও প্রকাশ করা হয়। তার পরেই ২০২৩-এর সেপ্টেম্বরে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেন প্রিয়াঙ্কা নস্কর। হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বঞ্চিতেরা। এ বার সেই মামলা গৃহীত হল।

Supreme Court
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy